For English Version
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
হোম সারাদেশ

প্রেমের টোপে নারীদের দিয়ে ভিডিও, অতঃপর ব্ল্যাক মেইল

Published : Monday, 23 December, 2019 at 10:56 PM Count : 200
এম জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা

সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরার ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিকের উত্থান থেকে পতন রয়েছে নানা কাহিনী। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা সাদিক বাহিনীর রয়েছে অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী। এসব বাহিনীর প্রতিদিনের কাজ ছিল ছিনতাই চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিসহ নানান অপকর্ম। আরও রয়েছে সুন্দরী নারিদের দিয়ে সমাজের খ্যতিমান ব্যক্তিদের প্রেমের টোপে জড়িয়ে শারিরিক সম্পর্ক থেকে ভিডিও ধারণ অতপর লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়। এসব ঘটনা সম্প্রতি ফাঁস হওয়ার পর হতবাক হয়েছে সাতক্ষীরার মানুষ। নারির টোপে অন্তত শতাধিক ব্যক্তিকে কাবু করে বহু টাকা হাতিয়ে নেয়েছে সাদিক চক্র। এরমধ্যে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ রয়েছে। 

এসব ঘটনায় চাঁদা দিতে দিতে হাফিয়ে উঠা ২জন জনপ্রতিনিধি ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা থানায় ২টি পন্যগ্রাফী আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ২৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। চাঁদাবাজি অস্ত্র ও মাদক আইনে সাতক্ষীরা থানায় হয়েছে আরও কয়েকটি মামলা। এসব মামলার মধ্যে অস্ত্র, মাদক ও পন্যগ্রাফি আইনের ৪টি মামলায় আগামী ২৬ ডিসেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন বিজ্ঞ সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। আলোচিত সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক। 

ইতোমধ্যে পুলিশ তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য জয়যাত্রা টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আকাশ ইসলাম, টোপ হিসেবে ব্যবহৃত নারি সুমাইয়া আক্তার শিমুসহ আরও ২ সহযোগি মাদক ও অস্ত্রসহ সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের মধ্যে গ্যাং লিডার সৈয়দ সাদিকুর রহমান, আকাশ ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার শিমু আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়ে বিস্তর কাহিনীর সত্যতা প্রকাশ করেছেন। এই জবানবন্দিতে তারা তাদের নানা অপকর্মের কথা স্বীকার করার পাশাপাশি বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের নামও প্রকাশ পেয়েছে। 

নিন্মে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেয়া হল:- সুমাইয়া আক্তার শিমু, পিং মৃত রকি, সাং উত্তর পলাশপোল, থানা সদর জেলা সাতক্ষীরা। মামলা নং-২৯, তাং- ১৫.১২.১৯ ধারা পন্যগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১) ৮(২) তৎসহ পিসি ৩৮৫/৩৮৬/৫০৬ ধারা মোতাবেক।
 
আমার নাম সুমাইয়া আক্তার শিমু, বয়স ১৭ বছর। সৈয়দ সাদিকুর রহমানের সাথে আমার ১বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়। সাদিকের সাথে আমার ভাই বোনের সম্পর্ক তৈরি হয়। ভাল সম্পর্কের কারণে মাঝে মাঝে আমি সাদিকের কাছ থেকে টাকা নিতাম। আমার মা এই বছর রোজার ঈদের আগে অসুস্থ্য হয়ে যায়। তখন আমি সাদিকের কাছে টাকা চাই। 

স্বীকারোক্তিতে শিমু আরো জানায়, তখন সাদিক আমাকে টাকা ইনকাম করতে বলে। আমার মা অসুস্থ্য ছিল। তাকে সুস্থ্য করার জন্য আমি সাদিকের প্রস্তাবে রাজি হই। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে আমার মায়ের ক্ষতি করবে বলে জানায়। তখন আমি এসএসসি পরিক্ষা শেষ করেছি। সাদিক তার পাশে বসিয়ে বিভিন্ন লোকের নাম্বারে আমার ফোন দিয়ে কল দিত। আমি কথা বলতাম, যা সাদিক শিখিয়ে দিত। আমি উক্ত লোকগুলোকে প্রেমের প্রস্তাব দিতাম। তাদের সাথে দেখা করার কথা বলতাম। এভাবে আমি (সদরের পশ্চিম এলাকার এক জনপ্রতিনিধিকে) ফোন দেই। তার সাথে খুলনার রোডের পেছনে তার নিজের বাসায় দেখা করি। 

জিজ্ঞাসাবাদে শিমু আরও জানায়, সাদিক আমার হাতে একটা ইলেকট্রিক ডিভাইস লাগিয়ে দিয়েছিল। সেটাতে ভিডিও রেকর্ড হত। সম্ভবত এটা রোজার আগের মাসের ঘটনা। আমি ওই জনপ্রতিনিধির বাসায় গিয়েছিলাম। সাদিক আমাকে বলেছিল, উক্ত ইলেকট্রিক ডিভাইসে ভিডিও হয়। আমাকে ভিডিও করতে হবে। ওই জনপ্রতিনিধির বাসায় যাওয়ার পর আমি ডিভাইসটা খুলে ভিডিও করার মত স্থানে রেখে দেই। তারপর জনপ্রতিনিধির ইচ্ছাতে সাদিকের দ্বারা আমি বাধ্য হয়ে আমার ও তার মধ্যে শারিরিক সম্পর্ক হয়। 


১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সুমাইয়া আক্তার শিমু জানান, তারপর ডিভাইস এনে আমি সাদিককে দিয়ে দিতাম। আরও ৩/৪ জন লোকের সাথে সাদিকের দ্বারা বাধ্য হয়ে আমি এমন করেছি। আমি নাম জানিনা তাদের। সাদিক তাদের নাম জানে। আমি পরে জানতে পারি যে, এই ভিডিও ব্যবহার করে জয়যাত্রা টেলিভিষনের আকাশ, অন্তর মাল্টিমিডিয়ার তুহিন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মনি, সাদিকের পাতানো চাচা মিলন, দ্বীপ ও রুমন চাঁদাবাজি করতো। আমি সাদিকের কাছ থেকে জানতে পারি। তাছাড়া সাদিকের বাসায় যাতায়াতের সুযোগে উক্ত লোকগুলোর মধ্যে আলোচনা থেকে আমি চাঁদাবাজির কথা জানতে পারি। (শিমুর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি শেষ)সাদিক বাহিনীর আরেক সদস্য আকাশ ইসলাম ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি, আকাশ ইসলাম, পিং মো: আলমাস হোসেন, সাং টিয়ারখালি, থানা মঠবাড়িয়া, জেলা পিরোজপুর। মামলা নং- ২৯, তাং-১৫.১২.১৯। দ:বিধির পন্যগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১) / ৮(২) তৎসহ ৩৮৫/৩৮৬/৫০৬ পিসি। এমামলার ১নং আসামী আকাশ ইসলাম। 

আমার নাম আকাশ ইসলাম, আমার বয়স ২৩ বছর। আমি জয়যাত্রা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত, আমি ২০১৮ সালের ফেব্রæয়ারী মাস থেকে সাতক্ষীা সদর -২ আসনের মাননীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহম্মেদ (রবি) ‘আমার এমপি ডট কমের’ এ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আছি। সেই সূত্রে বাংলাদেশ প্রতিদিন, সাতক্ষীরার প্রতিনিধি সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি, সাদিকুর রহমান সাদিক (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি) পৌর যুবলীগের তুহিন, সাইফুল, দ্বীপ এর সাথে আমার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। তুহিন, সাইফুল, দ্বীপ ও সাদিক সুমাইয়া শিমু নামের (রসুলপুর বাড়ি) একটা মেয়েকে দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সরকারি কর্মকর্তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলত। 

স্বীকারোক্তিতে আকাশ ইসলাম জানান, তারপর তাদের সাথে মেলা মেশার নগ্ন ভিডিও মেয়েটির হাতে থাকা ঘড়ির মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করত। উক্ত ভিডিও সাংবাদিক মনির কাছে দিত। সাংবাদিক মনি উক্ত ভিডিও ব্যবহার করে উক্ত ব্যক্তিদের কাছে টাকা দাবী করত এবং সাদিকসহ অন্যদের চাঁদার টাকা প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করতো। এসব ব্যাপার আমি জানতাম। 

স্বীকারোক্তিতে আকাশ ইসলাম আরও বলেন, আমি ডা: মুনসুর (জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য) কে বলে ফেলি উক্ত ঘটনা। এজন্য সাইফুল, দ্বীপ ও সাদিক আমাকে একটা ঘরে আটকে রেখে উলঙ্গ করে নির্যাতন করে ও ভিডিও ধারণ করে। আমাকে তারা বলে যে, (সাতক্ষীরা সদরের একজন জনপ্রতিনিধির) একটি ভিডিও আমরা ধারণ করেছি। উক্ত ভিডিও দ্বীপকে দিয়ে আমার সাথে করে ওই জনপ্রতিনিধির কাছে পাঠায়। 

রাজ্জাক পার্কে গিয়ে ওই জনপ্রতিনিধিকে উক্ত ভিডিও দেখানো হয়। আমি উপস্থিত ছিলাম। ওখানে দ্বীপ ওই জনপ্রতিনিধির কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। ৩/৪ দিন পর ৭/৯/১৯ ইং তারিখে ওই জনপ্রতিনিথি তার নিজ বাসা থেকে চার লক্ষ টাকা প্রদান করে। টাকা গ্রহনের সময় আমি ও দ্বীপ উপস্থিত ছিলাম। দ্বীপ টাকা গ্রহণ করে। উক্ত ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। (আকাশ ইসলামের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি শেষ) সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক, পিং- মৃত সৈয়দ মোখলেছুর রহমান, সাং মুনজিতপুর, থানা সদর, জেলা সাতক্ষীরা। কলিগঞ্জ থানার ছিনতাই মামলা নং-০১, তাং-০১.১১.১৯। এমামলার আসামী সাদিকের দেয়া গত ১৮.১২.১৯ তারিখে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি:।

আমার নাম সৈয়দ সাদিকুর রহমান, আমার বয়স ২৭ বছর, আমি সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ছিলাম। আমি অক্টোবরের ২২ তারিখের দিকে শ্যামনগরে রাজনৈতিক কারণে যাই। ওখানে মামুন ভাইয়ের সাথে আমার দেখা হয়। মামুন ভাই আমাকে পাশে ডেকে নিয়ে মিথুন নামের এক ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। মামুন ভাই বলে যে, মিথুন বিকাশে চাকরি করে এবং মিথুন মামুনকে এক বোতল ফেনসিডিল দেয়। মামুন খেয়ে আমাকে একটু খেতে দেয়। তারপর মিথুন ওখান থেকে চলে যায়। মিথুনের ঘাড়ে একটা ব্যাগ থাকে। মামুন বলে যে, মিথুন সাতক্ষীরা থেকে প্রতিদিন ব্যাগে করে বিকাশের টাকা নিয়ে আসে। এই টাকা কেড়ে নেওয়া যায় কি না মামুন আমাকে জিজ্ঞাস করে।

১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সাদিক আরও জানায়, আমি তখন মামুনকে সাতক্ষীরা এসে কথা বলতে বলি। মামুন দুই তিন দিন পর সাতক্ষীরায় আসে। আলিপুর বাজারের কাছে আমরা একত্রিত হই। আমি সাদিক, সাইফুল, দ্বীপ, মামুন, আশিক, মোস্তফা ভাই এবং মোহন একত্রিত বসে আমরা টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করি। মোস্তফা ভাই বলে যে, এঘটনার জন্য অস্ত্র দরকার। মোস্তফা ভাই দুইটা ৭.৬৫ অস্ত্র (পিস্তল) ব্যবস্থা করে দেয় দ্বীপকে এবং বলে যে, আমার ভাগটা যেন বাসায় চলে আসে। চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় যে, ৩১/১০/১৯ ইং তারিখ মিথুন সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ওর কাছ থেকে টাকা কেড়ে নেয়া হবে। 

জিজ্ঞাসাবাদে সাদিক আরও বলেন, ৩১/১০/১৯ ইং তারিখে দ্বীপ ও সাইফুল পরিকল্পিতভাবে পথে পথে লোক রাখে। আলীপুর বাজারে মোহন ছিল। নলতায় নাঈম ও মেহেদি ছিল। কালিগঞ্জ বাজারে বাবু ও শামীম ছিল। দ্বীপ আশিক ও সামি এক বাইকে লাল পালছার মোটরসাইকেলে দুইটা আগ্নেয়াস্ত্রসহ এবং মাস্ক পরে মিথুনকে আটকে টাকা নেয়ার জন্য অবস্থান নেয়। মিথুন বিকাশের টাকা নিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথে মামুনকে জানায়। মামুন আমাকে ফোন দিয়ে জানায়। আমি সাইফুলকে জানাই। সাইফুল দ্বীপকে জানিয়ে দেয় যে, মিথুন বের হয়ে গেছে। মিথুন কালিগঞ্জের পানিয়া নামক স্থানে পৌছালে দ্বীপ, আশিক ও সামি বাইক নিয়ে মিথুনকে পথরুদ্ধ করে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে দুই তিন রাউন্ড গুলি করে তাদের কাছ থেকে ব্যাগ সিনিয়ে নেয়।  

সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক জবানবন্দিতে আরো বলেন, সেখান থেকে আশাশুনির পথ হয়ে ধুলিহরে এসে দাঁড়ায়। ঘটনার সময় আমি পানিয়াতে ছিলাম না। আমি সাতক্ষীরাতে ছিলাম। আমাদের কথোপকথনের জন্য তিনটা ফোন কেনা হয়। ফোনগুলোর একটি সাইফুলের কাছে, অন্যটি দ্বীপের কাছে, অন্যটি বাবুর কাছে থাকে। ধুলিহরে দ্বীপ আমাকে ও সাইফুলকে সন্ধ্যার পরে ডাকে। আমি ধুলিহরে যাই। তখন দ্বীপ একা ছিল। ওখান থেকে দ্বীপকে নিয়ে সাতক্ষীরা চলে আসি। 





সাতক্ষীরা আসার পর রাসেল ও বাবুর কাছে দ্বীপ দুইটা অস্ত্র দেয়। ছিনতাই করা টাকা ছিল পনের লাখ টাকা। দ্বীপ ও সাইফুল আমাকে আট লাখ টাকা দেয়। মামুন ভাইকে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার এবং মোস্তফাকে তিন লক্ষ এবং সামিকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দ্বীপ ও সাইফুল দেয়। তারপর ৩/৪দিন পর আমি ঢাকাতে চলে যাই। পুলিশ আমাকে চার লক্ষ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে। (সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন)।

উল্লেখ্য, সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক তার সহযোগি সুমাইয়া আক্তার শিমুকে দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পশ্চিম সীমান্তের একজন জনপ্রতিনিধিকে প্রেমেরে টোপ দিয়ে শারিরিক মেলামেশার ভিডিও ধারণ করে ১৫ লাখ টাকা চাঁদাদাবী করে। গত ৭ সেপ্টেম্বর নগত ৪ লাখ টাকা গ্রহণ করে। এরপর আরো ১১টাকা না দিলে ইন্টারনেটে উক্ত ভিডিও ছড়িয়ে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টার এক পর্যায়ে ওই জনপ্রতিনিধি গত ১৫ ডিসেম্বর জয়যাত্রা টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আকাশ ইসলাম ও সৈয়দ সাদিককে আসামী করে সাতক্ষীরা সদর থানায় পন্যগ্রাফী আইনে মামলা দায়ের করলে উক্ত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গত ১৬ ডিসেম্বর জনপ্রতিনিধির ভিডিও করে ব্ল্যাক মেইল করার ঘটনায় ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আকাশ ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার শিমু আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আরেক জনপ্রতিনিধির নারির টোপ দিয়ে শারিরিক সম্পর্কের ভিডিক করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে এই সাদিক বাহিনী। ইতোমধ্যে তার নিকট থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ও করেছে। 

এঘটনায় ওই জনপ্রতিনিধি ১৫ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে সাতক্ষীরার আতঙ্গ এই সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক বাহিনী অসংখ্য রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধিকে নারির টোপ দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাক মেইল করে আসছে। বাহিনীর প্রধান সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিকসহ ৩জন গ্রেপ্তার হওয়ার পর রহস্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।
  
এমজেডআর/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft