For English Version
শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২০
হোম সারাদেশ

যশোর মুক্ত দিবস আজ

Published : Friday, 6 December, 2019 at 12:11 PM Count : 121

আজ ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোর পাক হানাদার মুক্ত হয়। গৌরবময় এই দিনটি পালনে যশোর জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ১০টায় মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান (টাউন হল মাঠ) থেকে একটি শোভাযাত্রা বেড়িয়ে শহরের মণিহার এলাকায় অবস্থিত বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এছাড়া, বেসরকারি সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন সকাল ৮টায় কালেক্টরেট চত্বর থেকে মিনি ম্যারাথনের আয়োজন করে। ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ।

সকাল ১০টায় জাগরণী চক্র কার্যালয়ে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মঈনুল হক।

এছাড়া, টাউন হল ময়দানের শতাব্দী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পরিবেশনায় বিজয়ের অনুষ্ঠান। 

১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী যশোরের চৌগাছার সলুয়া বাজারে তৈরি করে অগ্রবর্তী ঘাঁটি। ডিসেম্বরে যশোর সেনানিবাসের তিন দিকেই মিত্র ও মুক্তি বাহিনী শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। প্রতিরোধ যুদ্ধের শেষ অভিযান চলে ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর। এ তিন দিন যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। সীমান্ত এলাকা থেকে মিত্র বাহিনী যশোর সেনানিবাসসহ পাক আর্মিদের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় ও গোলা নিক্ষেপ করে। পর্যদুস্ত পাক বাহিনী ৫ ডিসেম্বর থেকে পালাতে শুরু করে। এদিন সকাল ও দুপুরে পাকিস্তানের নবম ডিভিশনের সঙ্গে ভারতীয় নবম পদাতিক ও চতুর্থ মাউন্টেন ডিভিশনের প্রচণ্ড লড়াই হয়।

বিকেলেই পাক সেনা অফিসাররা বুঝে যান, যশোর দুর্গ আর কোনভাবেই রক্ষা করা সম্ভব নয়। বেনাপোল অঞ্চলে দায়িত্বরত লে. কর্নেল শামসকে নওয়াপাড়ার দিকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার হায়াত। নিজের ব্রিগেড নিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে হায়াত নিজে পালান খুলনার দিকে। পালানোর সময় ৫ ও ৬ ডিসেম্বর শহরতলীর রাজারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে তাদের মুখোমুখি লড়াই হয়। ৬ ডিসেম্বর বিকেলে মিত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল বারাতের নেতৃত্বে মিত্র ও মুক্তি বাহিনী সেনানিবাসে ঢুকে তা দখলে নেয়।

সংস্থাপন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ‘যশোর গেজেটিয়ার’-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ‘৬ তারিখ সন্ধ্যা হতে না হতেই পাক বাহিনীর সবাই যশোর ক্যান্টনমেন্ট ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ আট নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক মেজর মঞ্জুর ও মিত্র বাহিনীর নবম ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল দলবীর সিং যশোরে প্রবেশ করেন। তখনো তারা জানতেন না যে, যশোর ক্যান্টনমেন্ট শূন্য। তারা বিস্মিত হন কোন প্রতিরোধ না দেখে।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর জেলার সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমদ বলেন, ‘৬ ডিসেম্বরেই আমরা যশোর শহর থেকে শত্রু সেনাদের বিতাড়িত করি। কিন্তু সে দিন যশোর শহর ছিল জনশূন্য। ফলে পরদিন ৭ ডিসেম্বর বিজয় মিছিল বের হয়।’





স্বাধীনতার পর থেকে ৭ ডিসেম্বরকেই যশোর মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হতো। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা ও ইতিহাসবিদদের দেওয়া তথ্য মতে ২০১০ সাল থেকে ৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ যশোর শহরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় মুক্তি বাহিনী। ১০ ডিসেম্বর প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ওয়ালিউল ইসলাম। ১১ ডিসেম্বর টাউন হল মাঠে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোরে হয় জনসভা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, যশোরের এমপিএ অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন প্রমূখ।

মুক্ত যশোরে অফিস-আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় ১২ ডিসেম্বর থেকে।

-এসআর/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft