For English Version
শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
হোম জাতীয়

সৌদিতে কর্মরত নারী কর্মীদের সব দায়-দায়িত্ব রিক্রুটিং এজেন্সির

Published : Monday, 2 December, 2019 at 8:38 PM Count : 25
অবজারভার প্রতিবেদক

যে সকল নারীকর্মী কাজ ত্যাগ করে পলাতক রয়েছেন, তাদেরকে পুলিশ কোনোভাবেই নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করবে না। নারীকর্মী যতদিন কর্মরত থাকবেন ততদিন তার দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশ ও সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে। যেসব নারী কর্মী প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন, তারা প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তাদের আবাসন ও অন্যান্য দায়িত্ব রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার তৃতীয় জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভায় সৌদি কর্তৃপক্ষ এ আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা।

সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।  নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার বাংলাদেশি নারীকর্মীদের সুরক্ষায় সৌদি আরব আইটি প্ল্যাটফর্ম ‘মুসানেড সিস্টেম’ স্থাপন করতে যাচ্ছে। 

গত ২৭ নভেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সৌদি শ্রম ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তৃতীয় জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা বলেন, ‘এই মুসানেড সিস্টেমে কর্মীদের বিস্তারিত ঠিকানা, সৌদি ও বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি এবং নিয়োগকর্তার পূর্ণ যোগাযোগের ঠিকানা, নারীকর্মীদের নিয়োগকর্তা পরিবর্তন-সংক্রান্ত তথ্যাদি, নারীকর্মীর আগমনের তারিখ এবং নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তরের তারিখ, প্রত্যাবর্তনকারী গৃহকর্মীর এক্সিট সংক্রান্ত তথ্যাদি সন্নিবেশিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য তথ্যাদি হালনাগাদ করা হয়েছে। অবশিষ্ট তথ্যাদি হালনাগাদ কাজ চলমান রয়েছে।’

প্রবাসী কল্যাণ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি সাধারণ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়টি এখনো পরীক্ষাধীন রয়েছ এবং আগামী জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভায় এ বিষযে আলোচনা হবে।’

তিনি  জানান, এবার সৌদি আরব কর্তৃপক্ষকে অনেক আন্তরিক মনে হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। আরো নেবে বলেও জানিয়েছেন। তারা বাংলাদেশি কর্মীর ওপর নির্যাতন করায় এক দম্পতিকে হাজতে নিয়েছে। কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দিচ্ছে।

নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের নীতিমালায়ও কিছু পরিবর্তন আনা হবে। যেমন, যে সকল নারীকর্মী কাজ ত্যাগ করে পলাতক রয়েছেন, তাদেরকে পুলিশ কোনোভাবেই নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করবে না। নারীকর্মী যতদিন কর্মরত থাকবেন ততদিন তার দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশ ও সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে। যেসব নারী কর্মী প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন, তারা প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তাদের আবাসন ও অন্যান্য দায়িত্ব রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে।

‘নারীকর্মীরা কর্মকাল পূর্ণ করলে তাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বহন করবে এবং এ বিষয়ে সৌদিআরবের বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে। যদি নারীকর্মী মেয়াদ শেষে কাজ করতে চান তাহলে অবশ্যই চুক্তি নবায়ন করতে হবে এবং তা বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। চুক্তি নবায়নের পর সংশ্লিষ্ট এজেন্সি এ-সংক্রান্ত তথ্যাদি মুসানেড-এ আপলোড করবে।’

ভিসা ট্রেডিং বন্ধের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ সচিব বলেন, ‘উভয়পক্ষ ভিসা বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপ করা হবে মর্মে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেছেন। ভিসা বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে উভয় দেশ একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। আমরা যৌথভাবে কাজ করব।’

গৃহকর্মীদের ওপর নিয়োগকর্তাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলা করার কতটুকু সুযোগ সৌদি সরকার দেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম রেজা বলেন, ‘সৌদি শ্রম আদালতে মামলা করার পদ্ধতি আরও সহজ করার বিষয়ে দুপক্ষ একমত হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে খুব শিগগিরই অবহিত করবে। সকল কর্মী যাতে চুক্তির কপি পেতে পারেন, সেজন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেবে।’





প্রসঙ্গত, বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ৪৭১ জন নারীকর্মী। মধ্যপ্রাচ্যের ১১টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারীকর্মী রয়েছে সৌদি আরবে। সেখানে বর্তমানে দুই লাখ ৯৩ হাজার ৫৮৮ জন নারীকর্মী রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন কারণে দেশে ফেরত এসেছে আট হাজার ৫০৭ জন। তারা সাধারণত থাকা ও খাওয়া সমস্যা, বাচ্চা রেখে যাওয়াসহ নানাভাবে শারীরিক নির্যাতনের কারণে দেশে ফেরত আসতে চান।

এ ছাড়া সৌদি আরবে বাংলাদেশের সেফহোমে রয়েছে ১৪৬ জন, যারা দেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে সেফহোম থেকে ৩৮০ জন নারীকর্মী পুনরায় তাদের কর্মস্থলে ফিরে গেছেন।

গত ১১ মাসে সৌদি আরব থেকে ১৯ জর নারীকর্মীর মরদেহ দেশে ফেরত এসেছে। তারা শারীরিক অসুস্থতাসহ নানা কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft