For English Version
শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
হোম অনলাইন স্পেশাল

দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে তৃণমূলে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’

Published : Wednesday, 27 November, 2019 at 10:28 AM Count : 197

গত ৬ নভেম্বর থেকে একের পর এক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন চলছে। এরই মধ্যে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে। আগামী শনিবার (৩০ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন।

সম্মেলনের পদপ্রত্যাশীরা এরই মধ্যে নানা তৎপরতা শুরু করেছে নেতাকর্মীরা। পদ-পদবী ছিনিয়ে আনতে একে অপরের বিরুদ্ধে শুরু করেছে অপপ্রচারের মতো ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’। সম্মেলনের আগে তো বটেই, সম্মেলনের পরও দলীয় হাইকমান্ডের বেছে নেয়া নতুন নেতৃত্বকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ঘায়েল করার অপচেষ্টায় মেতেছে একটি মহল। এর অংশ হিসেবে একে অন্যের বিরুদ্ধে ‘ব্লেম গেমে’ নেমেছে পদবঞ্চিতদের কেউ কেউ।

জানা গেছে, সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশীরা যেন কোন ধরনের ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতায়’ না করে, সে বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ড কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিল। এরপরও থেমে নেই এক নেতার অপর প্রতিদ্বন্দ্বির বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রতিযোগীতা। 

বিষয়টিকে বিরাজনীতিকরণের চক্রান্ত হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তারা জানিয়েছেন, অপরাজনীতির এই বিষয়টি তাদের জন্য বিব্রতকর। এখনই এগুলোর লাগাম টেনে ধরতে হবে। যারা এগুলো করছে, সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে দল।

দলীয় সূত্র মতে, এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের চারটি সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং সর্বশেষ যুবলীগের সম্মেলন হয়েছে। যেখানে অনেক যাচাই-বাছাই করে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টও দেখা হয়েছে। অর্থাৎ সার্বিক দিক বিচার-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয়েছে।

কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি ও অপপ্রচার নিয়ে কথা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন থানা, ওয়ার্ড নেতাদের সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, যারাই থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে অপপ্রচার-গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমে ভুল সংবাদ পরিবেশন করতে সহযোহিতা করবে তাদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা উচিত।

এ বিষয়ে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল অবজারভার অনলাইনকে বলেন, 'সম্মেলন এলেই একটি কুচক্রী মহল দলের পরীক্ষিত-ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। এরা প্রকৃত আওয়ামী লীগার না, খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, তাদের পরিবারের লোকজন বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।'

একই কথা জানিয়েছেন ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু এবং শাহাবাগ, বংশাল ও লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম আতিকসহ আরও অনেকে।

আশিকুর রহমান লাভলু অবজারভার অনলাইনকে বলেন, 'যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগার তারা কখনো দল ও দল মনোনীত নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে পারেনা। এই নোংরা কাজটি যারা করছে, তাদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনা উচিত।'

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ অবজারভার অনলাইনকে বলেন, 'সরকার ও দলের বিরুদ্ধে সব সময় অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। সুতরাং আওয়ামী লীগের ভেতরে প্রবেশ করে যারা গুজব-সন্ত্রাস ও অপপ্রচার করছে, তারা বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মা।'

তিনি বলেন, 'নতুন গজিয়ে ওঠা আওয়ামী লীগার যারা ‘হাইব্রিড’ নামে পরিচিত, তারা দলের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। হাইব্রিডরা বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মা। এখন সময় এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।'

কথা হয় দলের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাদের সঙ্গে। জানা গেছে, অসুস্থ প্রতিযোগিতার এই বিষয়টিকে তারা খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ জন্য এগুলো কঠোর হাতে দমনের কথা ভাবছেন তারা। কারণ এই চর্চা অব্যাহত থাকলে তা দলের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। অভিযোগগুলো কোন উৎস থেকে আসছে? কারা করছেন? এসব ব্লেম গেমের সঙ্গে কারা জড়িত? সেসব খুঁজে বের করা হবে। প্রয়োজনে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। প্রমান পেলে ব্লেম গেম যারা খেলছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

তাদের মতে, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে সেটা স্বাভাবিক। কালে কালে সেটা হয়ে এসেছে। কিন্তু অসুস্থ প্রতিযোগিতা মেনে নেয়া হবে না। রাজনীতি করতে গেলে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একে অন্যের সঙ্গে ছবি তোলা হয়। স্মার্টফোনের যুগে সেটা আরও বেশি। সেসব ছবি পরবর্তীতে সামনে এনে একজনকে বিতর্কিত করা অপরাধ। কারণ এক সময় ভালো একজন রাজনীতিক পরে বিতর্কিত হয়ে গেলে তার সঙ্গে অতীতে কেউ ছবি তুললে সেও বিতর্কিত হয়ে যায় না। আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতার সঙ্গেও অনেকের ছবি আছে। কাল সেই নেতা বিতর্কিত হয়ে গেল যারা ছবি তুলেছেন তারাও কি বিতর্কিত হবেন? অবশ্যই হবেন না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম অবজারভার অনলাইনকে বলেন, 'এগুলো চরিত্র হননের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। সর্বোচ্চ যাচাই-বাছাই করে সহযোগী সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছে। এগুলো আসলে রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণকে শক্তিশালী করার চেষ্টা। এ জন্য গণমাধ্যমকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।'





তিনি বলেন, 'জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের যে ইতিবাচক রাজনীতির সূচনা করেছেন তা কিছু দুষ্টু লোকের জন্য থেমে থাকবে না। প্রয়োজনে দল এসব ক্ষেত্রে আরও কঠোর হবে এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, 'যখন দল নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে, তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মান জানিয়েই রাজনীতি করতে হবে। ওই নেতৃত্বের ভাবমূর্তি রক্ষা করা সকলের কর্তব্য। এটাই সঠিক রাজনীতি। মিথ্যা অভিযোগ তুলে কারও বিরুদ্ধে অপরাজনীতি করলে সে রাজনীতিতে টেকে না। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রতিযোগিতা যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়।'

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা হবে সুস্থ। অসুস্থ প্রতিযোগিতা কোন ভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমি নেত্রীর পক্ষ থেকে পরিস্কারভাবে সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই। কেউ কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার কিংবা কুৎসা রটালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft