For English Version
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০
হোম জাতীয়

দ্বিতীয় দিনেও বিভিন্ন জেলায় পরিবহন ধর্মঘট

Published : Tuesday, 19 November, 2019 at 11:33 AM Count : 214

নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

মঙ্গলবারেও পরিবহন ধর্মঘটের কারণে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

এর আগে নতুন এই আইন সংশোধনের দাবিতে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সোমবার সকাল থেকে ধর্মঘট পালন করছেন বাসচালক ও শ্রমিকরা। 

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী-

খুলনা
খুলনা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে খুলনার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। এ সুযোগে মাহেন্দ্র, মিনি পিকআপ, মাইক্রোবাসসহ ছোট যানবাহনগুলোতে কয়েকগুণ ভাড়া দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

আন্দোলনরত চালকরা বলছেন, নতুন আইনে দুর্ঘটনার জন্য চালকদেরই দায় নিতে হচ্ছে। পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। চালকরা কাউকে ইচ্ছা করে হত্যা করে না। তারপরও তাদের শাস্তি হবে। এ আইন মেনে নেওয়া যায় না। যার প্রতিবাদে এ কর্মবিরতি।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চালাচ্ছেন না। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত শ্রমিকরা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।

সোমবার রাতে কিছু গাড়ি খুলনা থেকে ছেড়েছে আবার খুলনায় ঢুকেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে বেবী বলেন, গতকাল ৯০ ভাগ বাস চলাচল বন্ধ ছিলো। কিন্তু আজকে শতভাগ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনার এক পরিবহন মালিক বলেন, শ্রমিকদের এ ধর্মঘটের সঙ্গে আমরা শতভাগ একাত্মতা প্রকাশ করেছি। কেননা কোন চালক ইচ্ছে করে দুর্ঘটনা ঘটায় না। নতুন সড়ক পরিবহন আইনে দুর্ঘটনা ঘটলে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। এতো জরিমানা দেওয়ার মতো টাকা কোন চালকের নেই। ৫-৭ দিন কাজ না থাকলে যে চালকদের ঘরে চুলা জ্বলে না, তাদের কাছে এত টাকা জরিমানা হাস্যকর।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, চালকের দায়ে ট্রেন দুর্ঘটনা হলেও সেখানে সরকার এক লাখ টাকা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে দেয়। আর পরিবহন দুর্ঘটনা হলে একজন চালককে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ধরা হয়েছে। যা কোন ভাবে ঠিক নয়।

নড়াইল
নড়াইলের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে দ্বিতীয় দিনেও যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। 

নড়াইল-যশোর, নড়াইল-লোহাগড়াসহ অভ্যন্তরীণ পাঁচটি রুটে কোন ঘোষণা ছাড়াই তারা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

এদিকে, ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহনে করে গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে।

নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহম্মেদ খান জানান, বাস বন্ধ রাখার ব্যাপারে সংগঠন থেকে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে আলাপ না করে বাস চালক-শ্রমিকরা নতুন সড়ক পরিবহন আইনের ভয়ে স্বেচ্ছায় অভ্যন্তরীণ পাঁচটি রুটে বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

দিনাজপুর
নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে দিনাজপুরের হিলি স্থল বন্দর থেকে চতুর্থ দিনেও হিলি-বগুড়া রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ৪০টির মধ্যে ৩টি গাড়ি হিলি-বগুড়া সড়কে চলাচল শুরু করে। 

তবে হিলি-দিনাজপুর ও হিলি-জয়পুরহাট রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

গত শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল থেকেই চালকরা এই কর্মসূচি পালন করছেন। এতে করে ওই পথে চলাচলরত যাত্রীরা বাস না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। বিকল্প উপায়ে বাড়তি ভাড়ার মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তারা।

এদিকে, বাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়নি।  তাদের গাড়ির ও চালকদের সঠিক কাগজপত্র না থাকায় তারা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে।





হিলি বাস টার্মিনালের চেইন মাষ্টার জুলফিকার আলী রনজু জানান, কেউ মারা গেলে নতুন আইনে চালকের মৃত্যুদণ্ড বা আহত হলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। শ্রমিকদের এতো টাকা দেওয়ার সামর্থ নেই। আর বাস চালিয়ে চালকরা জেলখানায় যেতে চায়না। তাই তারা নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে হিলি বাস শ্রমিক ইউনিয়ন কোন আন্দোলন করছে না। যাদের গাড়ি ও চালকের কাগজপত্র সঠিক আছে তারা গাড়ি চালাচ্ছে।

দুই দফা সময় বাড়ানোর পর নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়েছে রোববার (১৭ নভেম্বর) থেকে। সোমবার থেকে আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ শুরু করেন।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft