For English Version
বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯
হোম সারাদেশ

মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে বগুড়ার ১৭৮ পরিবার

Published : Friday, 8 November, 2019 at 12:42 PM Count : 130

স্বামী মারা যাবার পর কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে পড়েন বগুড়ার শেখের কোলা ইউনিয়নের ভান্ডার পাইকার গ্রামের জহুরা খাতুন। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকতেন জহুরা বেওয়া। অন্ধ বোনকে সঙ্গে নিয়ে কোনমতে দিন পার করতেন। অনুদানের গরু লালন পালন করেই জীবন চলতো তাদের।

ষাটোর্ধ্ব জহুরা বেওয়া এবার নিজের দুর্যোগ সহনীয় ঘরে উঠেছেন। বাবার দেয়া ৪ শতক জায়গার ওপর নির্মাণ হয়েছে সরকারের দেয়া বাসগৃহ। অন্ধ বোনকে সঙ্গে নিয়ে তার এখন নতুন বাড়ি হয়েছে। শুধু জহুরা নয় তার মত ১৬ জন হতদরিদ্র মানুষ পেয়েছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। বগুড়া সদর উপজেলায় ১৬টি পরিবারকে সেই বাড়ি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। জেলায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ পেয়েছে মোট ১৭৮ পরিবার।

বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় আধুনিক বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় বগুড়ায় ১৭৮টি পরিবারকে গৃহ বরাদ্দ দেয়া হয়। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে জেলার ১২টি উপজেলায় এসব গৃহনির্মাণ করা হয়। প্রতিটি বাসগৃহের প্রাক্কলিত মূল্য ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা। মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৫১৮ টাকা ব্যয়ে জেলায় এসব বাসগৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়।

কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, গৃহপরিচায়িকা, গৃহকর্মী, রিকশা-ভ্যানচালক, কৃষক ও বাউলসহ বিভিন্ন অস্বচ্ছল পরিবার পেয়েছে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ। বাড়ির নামফলকে লেখা রয়েছে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান/টিআর-কাবিটা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।’ 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৬টি বাসগৃহ নির্মাণ হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের সার্বিক তত্বাবধানে এই বাসগৃহ নির্মাণ শেষে ১৩ অক্টোবর তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি প্রতিনিয়ত বাসগৃহ নির্মা্রণে খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং সরেজমিনে দেখেছেন। প্রকৃত অস্বচ্ছল ব্যক্তি যাতে করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাসগৃহ পায় সে দিকে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুর রহমান। প্রতিটি গৃহে দু’টি কক্ষ, দু’টি বারান্দা, একটি রান্নাঘর, একটি করিডরসহ রয়েছে পায়খানার ব্যবস্থা। এছাড়াও পর্যায়ক্রমে থাকছে টিউবয়েল ও সৌর বিদ্যুতের সুবিধাও।  নির্মিত প্রতিটি বাসগৃহই আধুনিকমানের সুযোগ-সুবিধা অনুসারে নির্মাণ করা হয়েছে। বিনা পয়সায় নিজ জায়গায় এমন ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা এসব সুবিধাভোগীরা।

বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ভান্ডারপাইকার জহুরা বেওয়া বলেন, 'শেখ হাসিনা হামাক (আমাকে) বাড়ি ব্যানা (বানিয়ে) দিছে, আগে বাপের বাড়িত আছনো (ছিলাম) একন (এখন) নিজের বাড়িত থাকি। শেখ হাসিনা মেলা দিন ব্যাঁচা (বেঁচে) থাকুক’। চোখে  ছিল তার আনন্দের অশ্রু ধারা। মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি।'

শেখেরকোলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক কামরুল হাসান ডালিম বলেন, 'জহুরা বেওয়া তার ছেলে ও ছেলের বউসহ এক অন্ধ বোনকে নিয়ে নতুন বাড়িতে উঠেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে বাবার দেয়া জায়গায় ঝুপরি ঘরে থাকতে হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বাড়ি পেয়ে তারা এখন আনন্দে দিনযাপন করছেন। 

একই উপজেলার সাবগ্রাম দক্ষিণপাড়ার ছাবেদন নেছা বলেন, 'নিজের স্বামীর সামান্য কিছু জায়গা থাকলেও ঘর ছিলনা। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পাকা ঘর পেয়ে জীবনের অবাস্তব স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। শেষ বয়সে ছেলে-মেয়ে, নাতী-নাতনীদের নিয়ে বিনা পয়সায় পাকা ঘরে থাকতে পারবো এর চেয়ে খুশি আর কিছু হতে পারেনা।'

রাজাপুর ইউপির খামারকান্দির রুবেল প্রাং। দুই ছেলে-মেয়ে তার। তার বাবা চাঁন মিয়া ৬ ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকেন খামারকান্দিতে শ্বশুর বাড়িতে। বাবার যেমন জায়গা নেই তারও নেই। ভ্যান, রিকশা চালিয়ে ৪ শতক জায়গা কিনেছেন অনেক কষ্টে। প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত সেই জমিতে এবার উঠেছে পাকা বাড়ি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে রুবেল বলেন, 'সদর ইউএনও আজিজুর রহমান, পিআইও রিয়াজুল ইসলাম, তার বাড়ি নির্মাণে সবসময় দেখভাল করেছেন।'

ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য শিরিন আক্তার বলেন, 'রুবেল অনেক কষ্টে দিনযাপন করে এই জায়গা কিনেছেন। তার বাবারও বাড়ি নেই, তারও ছিল না। এবার সরকার তার মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন।'

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, 'সদর উপজেলায় ১৬টি বাসগৃহ নির্মাণ শেষে হস্তান্তর করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে সুন্দরভাবে কাজ শেষ হয়েছে।'





জেলার ১২টি উপজেলায় অস্বচ্ছল গৃহহীনদের জন্য এমন গৃহ নির্মাণ করেছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ। এর মধ্যে সোনাতলা উপজেলায় ২১টি, সারিয়াকান্দিতে ১৯টি, শিবগঞ্জে ১৬টি, আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়াতে ১২টি করে, কাহালু ও শাজাহানপুরে ১১টি করে, নন্দীগ্রাম ও শেরপুর ও গাবতলীতে ১৪টি করে, ধুনটে ১৮টি ও বগুড়া সদরে ১৬টি গৃহ নির্মাণ করা হয়।

গত ১৩ অক্টোবর জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী মন্ডল বলেন, 'অস্বচ্ছল গৃহহীন পরিবার যাদের কমপক্ষে দুই শতাংশ পরিমাণ জমি রয়েছে অথবা ওই পরিমাণ জমি দান, লিজ অথবা স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক প্রাপ্ত হয়ে মালিকানা দখলীয় পরিবারকে ওই কর্মসূচির আওতায় গৃহনির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।'

-এমএ/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft