For English Version
বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯
হোম অনলাইন স্পেশাল

নতুন নেতৃত্বের চমক আসছে আওয়ামী লীগে

Published : Wednesday, 23 October, 2019 at 12:31 PM Count : 365

সৎ, মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের নতুন নেতৃত্ব উপহার দেয়ার মাধ্যমে মূল দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ‘নতুন মেজাজে’ ঢেলে সাজাবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একঝাঁক মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের ছাত্র নেতাদের নেতৃত্বে আনার মধ্য দিয়ে চমক দেয়ার মূল পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এরইমধ্যে দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছেন দলীয়প্রধান। তবে বাদ দেয়া হচ্ছে বিতর্কিত, হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারী মাদক, ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীদের।

তবে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন সাবেক ও বর্তমান যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসব নেতাকর্মীরা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে মিছিল-স্লোগানে একদিকে মুখরিত করছেন রাজপথ অন্যদিকে নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম জাতীয় শ্রমিক লীগে। নতুন কমিটিতে স্থান পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে পদপ্রত্যাশীদের দৌঁড়-ঝাঁপ। তদবির করছেন নীতিনির্ধারকদের কাছে। তবে বিপাকে রয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সমর্থকরা। দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে।

রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুবলীগ নেতাদের বৈঠক থেকে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস আয়োজন উপলক্ষে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিলো। তবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না, সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন।

এ বিষয়ে কথা হয় ক্লিন ইমেজের অন্তত ১০ জন নেতারা সঙ্গে। তাদের মধ্যে একজন যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি। 

তিনি বলেন, 'আমরা চাই যোগ্য, স্বচ্ছ ও পরিছন্ন ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসুক। সে ক্ষেত্রে নবীন ও অভিজ্ঞদের সমন্বয় থাকলে সংগঠন সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায়। সারা জীবন বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেছি।'

এদিকে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও চার সহযোগী সংগঠনের আসন্ন কাউন্সিল ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পদভারে মুখরিত ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়। পদ-পদবি টিকিয়ে রাখা এবং প্রত্যাশীদের পদচারণায় প্রতিদিন উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শোডাউন করছেন সহযোগী সংগঠনের পদপ্রত্যাশীরা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সভানেত্রীর কার্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় পদপ্রত্যাশীরা একে অন্যকে টপকে নিজেকে শো-আপে মেতে ওঠেন। চলে সেলফির প্রতিযোগিতাও। 

এ মুহূর্তে সবার দৃষ্টি দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে। এ ব্যাপারে তিনি চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ নানা মাধ্যমে আদ্যোপান্ত খোঁজ নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নেতাদের। একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা জানান, তারুণ্য নির্ভর, ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব চাচ্ছে দলের হাইকমান্ড। ফলে এই চার সংগঠনের শীর্ষ পদসহ আগামী কমিটি থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন টেন্ডার ও চাঁদাবাজি ও ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতরা। পাশাপাশি অন্য দল থেকে এসে সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে যারা বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন-এমন বিতর্কিত নেতাদেরও জায়গা হবে না নতুন কমিটিতে। তাদের পরিবর্তে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিশেষ করে যুবলীগের শীর্ষ পদে এমন নেতাকেও দেখা যেতে পারে, যিনি সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। পাশাপাশি এই সংগঠনে নতুন নেতাদের ক্ষেত্রে বয়সের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

আগামী ১৬ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলন ঘিরে পদপ্রত্যাশীরা তৎপর। কেন্দ্রীয় ও ঢাকার দুই শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে লড়াইয়ে অন্তত এক ডজনেরও বেশি নেতা সম্মেলনকে ঘিরে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান চার সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, শেখ সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ শাকিব বাদশা, সাবেক ছাত্রনেতা সাংবাদিক ওবায়েদুল হক খান ও আবদুল আলীম বেপারী। 

এদের মধ্যে ওবায়েদুল হক খান ১/১১ সময়ে শেখ হাসিনার কারামুক্তি আন্দোলনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে গণসাক্ষর অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। আর টিপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং সাজ্জাদ শাকিব বাদশা সাধারণ সম্পাদক। চারজনই বিএনপি জামায়াত জোট ও ১/১১ এর সময় ছাত্রলীগকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এছাড়া কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সাচ্চু, সহ সভাপতি মতিউর রহমান মতি, জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, দফতর সম্পাদক সালে মোহাম্মদ টুটুল কেন্দ্রীয় পদের লড়াইয়ে। তবে বর্তমান কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের পুনরায় শীর্ষ পদে থাকতে কোন আপত্তি নেই।

এ বিষয়ে খায়রুল হাসান জুয়েল বলেন, 'সততা, স্বচ্ছতা, কমিটমেন্ট ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে দলের জন্য সব সময় নিয়োজিত রেখেছি। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে ১/১১ এর সময় এক বছর জেল খেটেছি।'

তিনি বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন তাদেরই নেতৃত্বে আসা দরকার। আমরাও চাই-নেতৃত্ব পাওয়ার প্রধান মানদণ্ড হোক ক্লিন ইমেজ, ত্যাগী মনোভাব, সাংগঠনিক দক্ষতা। তবে আমি মনে করি নেতৃত্বে যেই আসুক, তার যেন অবশ্যই সততা, স্বচ্ছতা, কনট্রিবিউশন ও কমিটমেন্ট থাকে।'

প্রায় এক যুগ পর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সম্মেলন আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে। সম্মেলনকে সামনে রেখে অনেকেই আলোচনায় রয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছছাসেবক লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ইরান,  স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনোরুল ইসলাম বিপুল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইসহাক মিয়া ও মোহাম্মদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক বাবু।

এদিকে, আগামী ৬ নভেম্বর কৃষক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে সামনে রেখে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেতাকমীদের ভিড় বেড়েছে। 

শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় রয়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে অন্যতম সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও খান আলতাফ হোসেন ভুলু, কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা। এছাড়া সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. হারুনুর রশীদ হাওলাদারও সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ।

সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ। এই দেশের কৃষকদের কথা ভেবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় রাজনীতি করেছি। রাজনীতি করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের  সময় জেল জুলুম সহ্য করেছি। আশা করছি আমি বিগত দিনের কাজের মূল্যায়ন পাবো।'





এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, 'ত্যাগী ও যোগ্য ব্যক্তিদেরই এবার সুযোগ দেয়া হবে। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই, যাদের বয়স ৫৫-এর বেশি নয়, যারা চাঁদাবাজি, ক্যাসিনোর মতো অবৈধ আয়ের সঙ্গে যুক্ত নন, তারাই কমিটিতে জায়গা পাবেন। তবে বয়স ৫৫ এর বেশি হলে কমিটিতে স্থান পাবেন না।

আগামী ৬ নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ২৩ নভেম্বর যুবলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। 

এর আগে ২০১২ সালের ১১ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ১৪ জুলাই যুবলীগ ও ১৯ জুলাই কৃষক লীগের সম্মেলন হয়েছিলো।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft