For English Version
বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

Published : Friday, 18 October, 2019 at 10:30 PM Count : 117

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙ্গে বিশেষ একজনকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিরোধকে পাশ কাটিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক ব্যবসায়ীকে বন্দরের তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করেছে।

একজনকে মালিকানার স্বীকৃতি দেওয়ার আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবার এক সাক্ষী হলফনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা হস্তান্তরপত্র থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির নাম মেসার্স কে এম এজেন্সি। এটি বন্দরের বহির্নোঙরের বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে  পণ্য স্থানান্তরের কাজ করে। বর্তমানে বন্দরে এ ধরনের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান আছে ৩১টি। এসব প্রতিষ্ঠানের বছরে আয় দুই থেকে তিন কোটি টাকা। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বাজার মূল্য আনুমানিক ২৫ থেকে ২৬ কোটি টাকা।

বন্দর কর্তৃপক্ষ যাকে কে এম এজেন্সির মালিক হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করেছেন তার নাম মশিউল আলম। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী ১৯৮৫ সালে মেসার্স কে এম এজেন্সির নামে বন্দর থেকে স্টিভিডরিং লাইসেন্স পান ব্যবসায়ী খুরশীদ আলম ভূঁইয়া।

২০০৭ সালের জুন মাসে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির হিস্যা পাওয়ার কথা ওয়ারিশদের। সে অনুযায়ী চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আবেদন করলে তাদের সাকসেশন (উত্তরাধিকার) সনদ ও দেওয়া হয়। আদালতে মশিউল আলমসহ, খুরশিদ আলমের পাঁচ ছেলেকে একভাগ এবং দুই মেয়েকে একভাগ মালিকানার হিস্যা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে বন্দরে ব্যবসা দেখভাল করতেন মশিউল আলম। এ সুযোগে নিজের নামে প্রতিষ্ঠানটি একক মালিকানা পেতে সাকসেশন সনদ গোপনে করে তিনি কে এম এজেন্সির মালিকানা হস্তান্তরপত্র জমা দেন বন্দরে।

নোটারি করা এই হস্তান্তরপত্রে বলা হয়, ৮০ লাখ টাকা দেনা পরিশোধের শর্তে মশিউল আলমকে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স ও মালিকানা হস্তান্তর করেন মূল মালিক খুরশীদ আলম ভূঁইয়া। এই হস্তান্তরপত্র নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। কারণ অন্য ওরিশাদের সই ছিলনা। আবার হস্তান্তরপত্রে দুইজন সাক্ষীর একজন গত বছরের ৮ জুলাই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হলফনামা দিয়ে এই সই প্রত্যাহার করে নেন। মিল্লাত হোসেন নামের ওই সাক্ষী হলফনামার ঘোষণাপত্রে বলেন, মালিকানা হস্তান্তর আইনি প্রক্রিয়া হয়নি।

জানতে চাইলে আইনজীবী মোস্তফা মোহাম্মদ এমরান বলেন, এ ধরনের হস্তান্তরপত্রে অন্য ওয়ারিশদের সাক্ষী হিসেবে সম্মত থাকতে হবে। অথবা অন্য ওয়ারিশদের অনাপত্তিপত্র দিতে হবে। বন্দর যেহেতু তালিকাভুক্ত করেছে, সে জন্য সব ওয়ারিশদের অনাপত্তিপত্র চাওয়া উচিত ছিল।

এ বিষয়ে মশিউল আলম জানান, ওয়ারিশদের সই নেওয়ার বিষয়টি ছিল তার বাবার। কারণ, তিনিই দেনা শোধ করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটি হস্তান্তর করেছেন। সে সময় কেউ দেনা শোধ করার জন্য এগিয়ে না আসায় মালিকানার দাবিদার একমাত্র তিনিই বলে দাবি করেন।

তবে অন্যতম ওয়ারিশ মেজবাউল আলম ভূইয়া বলেন, দেনা শোধ করার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি মশিউল আলম। প্রতিষ্ঠানের খালি প্যাডে তার অসুস্থ বাবারা সই নিয়ে এই হস্তান্তরপত্র বানানো হয়েছে।





জানতে চাইলে বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, বন্দরের পর্ষদ সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে একজকে মালিক হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছিল। এখন যেহেতু ওয়ারিশরা আপত্তি জানিয়েছেন, সেজন্য আইন উপদেষ্টার মতামত নিয়ে আবারও পর্ষদ সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft