For English Version
শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

Published : Tuesday, 15 October, 2019 at 11:21 AM Count : 201

পটুয়াখালীর বাউফল ও দুমকি উপজেলার আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। স্থানীয় বাজার থেকে অনুমান নির্ভর কীটনাশক এনে তা ক্ষেতে প্রয়োগ করছেন কৃষকরা।

পোকা দমনের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কোন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ কৃষকরা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাউফল উপজেলায় চলতি বছর (২০১৯-২০২০ অর্থবছর) ৩৬ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলন শীল (উফশী) এবং ১৯ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে গড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন। 

অপরদিকে, দুমকি উপজেলায় চলতি বছর মোট ৬ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলন শীল (উফশী) ২ হাজার ৪২৫ হেক্টর এবং ৪ হাজার ২২৭ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। 

স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, কয়েক বছর আগে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় কয়েকটি জেলায় কারেন্ট পোকার আক্রমণে আমন ধানের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। কৃষকরা এখন পর্যন্ত সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। 

চলতি বছর দুমকি ও বাউফল উপজেলার আমন ক্ষেতে মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

দুমকির জলিশা গ্রামের ইদ্রিস আলী মৃধা নামের এক কৃষক বলেন, 'পাতা মোড়ানো পোকায় আক্রমণ করার পর থেকে আমন ক্ষেত ধূসর বর্ণ হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এখন পর্যন্ত কোন কর্মকর্তা মাঠে আসেননি।'

একই গ্রামের কৃষক দুলাল হাওলাদার ও আবুল হাওলাদার বলেন, 'কখনও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে আসেন না। আমরা স্থানীয় বাজার থেকে কীটনাশক এনে তা ক্ষেতে প্রয়োগ করেছি।'

বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামের কৃষক চান্দু চৌকিদার বলেন, 'তার ক্ষেতে পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগের কোন কর্মকর্তাই তার গ্রামে গিয়ে খোঁজ খবর নেন না।'





চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির আলী বলেন, 'বাউফল উপজেলার সিংহভাগ আমন ধানের উৎপাদন হয় তার ইউনিয়ন থেকে। চলতি বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং পানির অভাবে পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় লালচে রং ধারণ করেছে আমন ধানের গোছা। তেঁতুলিয়া পাড়ি দিয়ে কখনও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এই দ্বীপ ইউনিয়নে পা রাখেন না। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের চেনেন না এখানকার কৃষকরা। এছাড়াও ইঁদুরের আক্রমণ তো রয়েছেই। কি করলে কি হবে সেই ধারণা নেই কৃষকদের। প্রতি বছর পোকা ও ইদুরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চন্দ্রদ্বীপের কৃষকরা দোয়া-মিলাদের আয়োজন করেন।'

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'সরাসরি আলো পড়ে না এমন ছায়াঘেরা জমিতে পোকার কিছুটা উপদ্রব আছে। তবে তা স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে ডালপোতা কর্মসূচিসহ কৃষকদের সচেতন করার কাজ চলছে। সহনীয় পর্যায়ে থাকায় আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই।

দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহের মালিকা বলেন, 'এ রকম পোকার আক্রমণ স্বাভাবিক বিষয়। এতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের সচেতন করছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

-এএস/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft