For English Version
রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২০
হোম সারাদেশ

হঠাৎ বিপদসীমার ওপরে তিস্তার পানি

Published : Wednesday, 18 September, 2019 at 11:29 AM Count : 148

উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বর্ষণের ফলে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার বেশ কিছু নীচু এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জলমগ্ন হয়ে গেছে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। একইসঙ্গে হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের বাঁধ ছিড়ে গেছে। সব মিলিয়ে সেখানে এখন পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।

ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে মূলত তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। রাত ১২টায় তা বেড়ে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮১ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপরে।

এর আগে গত সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে হঠাৎ তিস্তার পানি প্রবাহ বাড়তে থাকে। যা ক্রমে বেড়ে মঙ্গলবার বিকেলে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাত ১২টার পর থেকে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বুধবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর, সকাল ৯টায় একটু কমে ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়েছে। এতে শুকিয়ে যাওয়া মৃতপ্রায় তিস্তা আবারও ফুলে ফেঁপে উঠে ফিরে পেয়েছে চিরচেনা রূপ। হেঁটে পাড়ি দেওয়া তিস্তায় চলতে শুরু করেছে নৌকা। হাঁক ডাক বেড়েছে মাঝি-মাল্লাদের। কর্মব্যস্থতা দেখা দিয়েছে তিস্তাপাড়ের জেলে পরিবারে।

পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে, হঠাৎ তিস্তা নদীতে পানি বাড়তে দেখে লালমনিরহাটের তিস্তা পাড়ের মানুষ বন্যার আশঙ্কা করলেও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দাবি, তিস্তায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা নেই। বৃষ্টির কারণে উজানের ঢেউ এবং এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ফলে পানি প্রবাহ বেড়েছে। বৃষ্টি কমে গেলেই তিস্তার পানি প্রবাহ কমতে শুরু করবে। 

এছাড়া, পলি ও বালু জমে তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্যতেই তিস্তার পানি প্রবাহ লোকালয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। তবে স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।





তবে হঠাৎ তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি ও আগাম আমনের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেকের সবজি ও আমন ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে ফসলহানীর শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভারতের সিকিম ও জলপাইগুড়িতে বৃষ্টিপাতের ফলে উজানের ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ সোমবার রাত থেকে বাড়তে থাকে। যা মঙ্গলবার রাত ১২টায় বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। 

তবে ভারতে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় বুধবার সকাল থেকে তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

-এমএস/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft