For English Version
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০
হোম সারাদেশ

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বদলি হচ্ছেন রামগড় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা

Published : Wednesday, 18 September, 2019 at 9:48 AM Count : 732
নিজস্ব সংবাদদাতা

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই কর্মকর্তা আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় বদলি হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। 

তিনি ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর রামগড় উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। 

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের জন্যে নতুন আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ ৮০ হাজার টাকা ও পুরাতন আসবাবপত্র মেরামত বাবত ৩০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করলেও বাস্তবে তার কার্যালয়ে উল্লেখিত বিলের নতুন আসবাবপত্র ক্রয় ও পুরাতন আসবাবপত্র মেরামতের কোনটাই করা হয়নি। গত ১২ মে সেগুন কাঠের তৈরী দুটি সেক্রেটারী টেবিল ৩৪ হাজার টাকা, দুটি আলমারি ৩০ হাজার টাকা ও ৬টি চেয়ার ১৬ হাজার টাকাসহ মোট ৮০ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে রামগড়স্থ মেসার্স ফারুক ফার্নিচার মার্ট, মেসার্স ছালাম ফার্নিচার মার্ট ও মেসার্স কুমিল্লা ফার্নিচার মার্ট থেকে তৈরীর ক্যাশ মেমো দেখিয়ে বিল উত্তোলন করেছেন তিনি।

মেসার্স ফারুক ফার্নিচার মার্টের মালিক জানান, গত বছর একটি খাট ছাড়া ওই কর্মকর্তা আর কিছু তৈরী করেননি। 

গত অর্থবছরে রামগড় ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় কয়েক ধাপে বকেয়াসহ ভ্রমণ ভাতা উত্তোলন করেছেন প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। স্থানীয় একটি লাইব্রেরী থেকে অস্বাভাবিক মূল্য দেখিয়ে অফিস স্টেশনারী ক্রয় করেছেন ৭০ হাজার টাকা ও অফিসের দুটি কম্পিউটারের মেরামত দেখানো হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা।  রামগড়ের পাশাপাশি লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকার কারণে প্রায় সবকটি চাহিদা ও বিল যৌথভাবে উত্তোলন করেন। 

এদিকে, গত ১ আগষ্ট থেকে টানা ১৯ দিন ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে না থাকা ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে অনুপস্থিত থাকাসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ। 

অপরদিকে, গত অর্থবছরে ঘুর্ণিঝড় ও বন্যায় অতিরিক্ত বরাদ্ধ এনে তা আত্মসাতের অভিযোগে গত মে মাসে জেলা অতিরিক্ত এডিসি আবুল হাসেম তার বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্ত করেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সহকারী নিলিময় চাকমা লিখিত বক্তব্যে জানান, তার স্যার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন গত ১ আগষ্ট থেকে ১৯ আগষ্ট কর্মস্থলে ছিলেন না। ১৫ আগষ্ট শোক দিবসের কর্মসূচিতেও ছিলেন না। ছুটি কিংবা কোন প্রশিক্ষণও ছিলনা। কার্যালয়ের নতুন কোন আসবাবপত্র ক্রয় ও মেরামতের কিছু তিনি জানেন না। স্যার কাগজপত্র তৈরী করতে বলেছেন তিনি তৈরী করেছেন। 





প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেনের সঙ্গে এ প্রতিনিধি অফিস চলাকালীন সময়ে পর পর ৩ দিন তার অফিসে অবস্থান করলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। তার অফিস কর্মচারী তার অবস্থান জানাতে পারেননি। 

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল জানান, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রিয়াদ হোসেন। গত জুনের আগেই নতুন ফার্নিচার ক্রয় সংক্রান্ত বিলটি উত্তোলন করলেও বাস্তবে তার অফিসে নতুন কোন ফার্নিচার না থাকার বিষয়টি জানার পর তাকে ডাকা হলে এক সপ্তাহ আগে হাতিল থেকে কিছু ফার্নিচার নিয়ে আসেন। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে ইসরাত জানান, এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। কাজ না করে ভুয়া বিল তৈরী করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ক্ষমার অযোগ্য বলে তিনি জানান।

-কেএস/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft