For English Version
সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০
হোম অনলাইন স্পেশাল

একহাতে বই, অন্য হাতে জুতা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে শিক্ষার্থীরা

Published : Sunday, 15 September, 2019 at 4:36 PM Count : 230
আবদুল্লাহ পাটোয়ারী জুয়েল

ভোলার মনপুরা দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এক হাতে বই ও অন্য হাতে জুতা নিয়ে স্কুলে আসে। এতে অনেক সময় স্কুল মাঠের জলাবদ্ধ পানিতে পড়ে বইসহ পোশাক ভিজে যায়। ভেজা পোশাকেই ক্লাশ করতে হয়। বর্ষা মৌসুমের পুরো সময় বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকে স্কুল মাঠ। বছরের অর্ধেক সময় জুড়ে এমনই চিত্র দেখা মেলে বিদ্যালয়ে।

মাঠ জলাবদ্ধ থাকায় জাতীয় সংগীতসহ শপথবাক্য পাঠ হয় না এই বিদ্যালয়ে। এমনকি কোমলমতি ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাও করতে না পারায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে। 

বছরের পর বছর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্ণা দিয়েও সুরাহা করতে পারেননি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চপলা রাণী দাস। এছাড়াও জলাবদ্ধ মাঠে সাপ ও জোঁকের কামড়ের ভয়ে স্কুল আসেছেনা শিক্ষার্থীরা এমন কথাও জানান তিনি। 

সরেজমিনে দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায়, দল বেঁধে শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে আসছে। এসেই পরনের প্যান্ট ভাঁজ করে ওপরে উঠাচ্ছে। পরে পায়ের জুতা খুলে এক হাতে ও অন্য হাতে বই নিয়ে জলাবদ্ধ মাঠ পেরিয়ে  বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছে। কেউ আধা ভেজা ও কেউবা পুরো ভিজে যায়। এভাবেই ক্লাশ করে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে ডুবে থাকায় খেলাধুলা করতে না পেরে শ্রেণিকক্ষে হৈ চৈ করে আনন্দ নেওয়ার চেষ্টা করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

ওই স্কুলের ৩য় শ্রেণীর তানবির, রাহিম, ৪র্থ শ্রেণীর রাহাত ও পঞ্চম শ্রেণীর তানিয়াসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, এই স্কুলে পড়ালেখা করতে ভালো লাগে না। খেলার মাঠ পানিতে ডুবে থাকে, খেলতে পারিনা। স্কুলে প্রবেশ করার সময় বেশির ভাগ সময় পানিতে পড়ে গিয়ে কাপড় ভিজে যায়। ভিজা কাপড়ে ক্লাশ করতে হয়। শিক্ষার্থীরা স্কুলের মাঠ ভরাট করে দেওয়ার দাবি জানায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চপলা রাণী দাস জানান, বছরের অর্ধেকটা সময় স্কুলের মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে জাতীয় সংগীতসহ শপথবাক্য পাঠ করানো যায় না। শিক্ষার্থীরা স্কুলে প্রবেশ করার সময় সাপ ও জোঁকের কামড়ের ভয় পায়। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। 





তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যাটা প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক সমস্যাটির কথা জানানোর পর উপজেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক জানান, স্কুলের মাঠের জলাবদ্ধতার সমস্যা নিয়ে প্রধান শিক্ষক এসেছেন। বর্ষা শেষে আগামী শীতে মাঠ ভরাট করে দেওযা হবে।

-এপিযে/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft