For English Version
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম আইন-আদালত

অভিযোগপত্রে রিফাত হত্যার ষড়যন্ত্রকারী মিন্নি

১২৩২ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র, ৭৫ জন সাক্ষী ৫০টি আলামত

Published : Monday, 2 September, 2019 at 11:03 PM Count : 483


বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের আসামির বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন আদালত।

সোমবার বিকালে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী ১২৩২ পৃষ্ঠার অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। অভিযোগপত্রে বাদীসহ মোট ৭৫ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। এছাড়াও তদন্তে প্রাপ্ত ৫০ প্রকারের আলামত অভিযোগপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া হয়েছে।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য মতে, বয়সের ভিত্তিতে দাখিল করা দুই খন্ডের অভিযোগপত্রের প্রথম খন্ডে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ১০ জনকে আসামি রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে রিফাত ফরাজীকে ১ নং আসামি করা হয়েছে। দ্বিতীয় খন্ডে রয়েছে ১৪ জন কিশোরের নাম। এতে রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই রিশান ফরাজীকে ১ নং আসামি করা হয়েছে। মিন্নির জামিন শুনানীর জন্য বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলার মূল নথি রয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থেকে মূল নথি আসার পর বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগের ওপর শুনানি শেষে আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করলে পরবর্তি বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে সূত্র জানায়।

অভিযোগপত্রের সঙ্গে যা আছে

আদালত সূত্রে জানা যায়, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার পুলিশের দাখিল করা মূল অভিযোগপত্র দুটি খন্ডে মোট ৩৪ পৃষ্ঠার। এর প্রথম খন্ডে মিন্নিসহ অন্য একজনের বিরুদ্ধে একটি খন্ড ১৬ পৃষ্ঠার এবং কিশোর অপরাধীদের অভিযোগপত্র ১৮ পৃষ্ঠার। এছাড়াও ১৫ জন আসামির ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মামলায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারায় বিভিন্ন সময়ে পুলিশের গ্রহণ করা ৭৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ৫০টির বেশি আলামতের জব্দ তালিকা ও বিভিন্ন সময়ে আসামিদের ব্যবহৃত মুঠোফোনের কল ডিটেইলস অভিযোগপত্রের সঙ্গে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।

যেসব আলামত জব্দ করেছে পুলিশ

অভিযোগপত্রের সঙ্গে আলামত হিসেবে একটি স্যামসাং ও একটি ধূসর রংয়ের অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, হত্যায় ব্যবহৃত রামদা, বন্ড ০০৭ গ্রুপের সদস্যদের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের ছবির একটি স্ক্রীনশট, ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাসের কপি ১২ কপি স্ক্রীনশট, বন্ড ০০৭ গ্রুপের ১১ জন সদস্যর প্রোফাইল ছবির ১১টি স্ক্রীনশট, বন্ড ০০৭ গ্রুপের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে দেয়া ১১ জন সদস্যর ম্যাসেজের ১১ কপি স্ক্রিনশটের প্রিন্টেড কপি জমা দেয়া হয়েছে।

মামলায় মিন্নির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও আলামত জমা দেয়া হয়েছে

তদন্তকারী কর্মকর্তা রোববার বিকেলে আদালতে ২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দাখিল করেছেন এর প্রথম খন্ডের অভিযোগপত্রে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে। এতে মিন্নির বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘হত্যার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে রিফাত হত্যার আগে ও পরে মিন্নির সঙ্গে ঘাতক নয়ন্ড ও রিফাত ফরাজির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও অভিযোগপত্রে রিফাতকে নয়ন বন্ডরা কুপিয়ে জখম করার পরও মুঠোফোনে যোগাযোগ ও নয়ন বন্ডের সঙ্গে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মিন্নির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিপরীতে নয়ন বন্ডের মায়ের নামে নিবন্ধিত একটি সিম গোপনে মিন্নি ব্যবহার করত এমন অভিযোগ এনে ওই নম্বরের সঙ্গে নয়ন বন্ডের বিভিন্ন সময়ে কল লিষ্ট ও কল ডিটেইলস জমা দিয়েছেন। এছাড়াও আলামত হিসেবে নিহত নয়ন বন্ডের বাসা থেকে জব্দ স্যালোয়ার কামিজ, আই ভ্রু, মিন্নির ছবি, চিরুণী, চিরুণীতে পেঁচানো নারীদের চুল জমা দেয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রের বিবরণীতে অধিকাংশ জায়গায় মিন্নির বিরুদ্ধে রিফাত হত্যায় ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে।

রিফাত শরীফ হত্যার মূল কারণ হিসেবে যা দেখানো হয়েছে অভিযোগপত্রে

রিফাত শরীফকে হত্যার মূল কারণ হিসেবে রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ে পরবর্তী নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির সম্পর্কে সৃষ্ট বিরোধীতার জেরেই  রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে মিন্নি ও নয়ন বন্ড এমনট উল্লেখ করা হয়েছে। বিবরণীতে বলা হয়, প্রথমে মিন্নি নয়নকে বিয়ে করে। বিষয়টি গোপন রেখে ফের রিফাত শরীফকে বিয়ে করে মিন্নি এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ ও বাসায় যাতায়াত অব্যাহত রাখে। এ নিয়ে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সবশেষ হেলাল নমের এক যুবকের নিকট থেকে রিফাত শরীফের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে নয়নের সঙ্গে রিফাতের দ্বন্দ্ব চুড়ান্ত রুপ নেয়।  সবমিলিয়ে মিন্নি ও নয়ন বন্ড মিলে রিফাত শরীফকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এসব অভিযোগে মিন্নির বিরুদ্ধে ১২০-বি(১) ধারায় অপরাধ সংগঠিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর ভূবন চন্দ্র হাওলাদার দণ্ডবিধি আইনের ১২০-বি (১) ধারা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধারায় কেউ অপরাধ সংগঠিত করলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন অথবা দুই বছর বা ততোধিক মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। আদালত অপরাধ বিবেচনায় এর যেকোনো একটি শাস্তি দিতে পারেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অভিযোগপত্রের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানাতে রাজী হননি।

এমএম/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft