For English Version
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম জাতীয়

মামলার তদন্তভার পিবিআইতে হস্তান্তরের দাবি মিন্নির বাবার

Published : Wednesday, 24 July, 2019 at 2:01 PM Count : 231

প্রভাবশালী মহলের চাপে খুনীদের আড়াল করতে আমার মেয়েকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। খুনীদের আড়াল করতে পুলিশ মামলার তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছে। বরগুনা পুলিশের অধীনে সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব নয়। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ যাতে রিফাত হত্যা মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুনীদের আইনের আওতায় আনা হোক। 

বুধবার দুপুরে বরগুনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। এ সময় তার পরিবার ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মিন্নির বাবা বলেন, '২৬ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে আমার জামাই শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) কে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সে সময় উপস্থিত শত শত মানুষ কেউ এগিয়ে না এলেও আমার মেয়ে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে স্বামী রিফাতকে একা বাঁচানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় যে ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয় তার মাধ্যমে মিন্নি দেশবাসীর কাছে সাহসী নারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এরপর দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে মিন্নিকে রাখা হয়।'

তিনি বলেন, 'প্রভাবশালী মহলের চাপে ১৩ জুলাই মিন্নির গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দুলাল শরীফ। এরপর মানববন্ধন করে মিন্নির গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। ১৬ জুলাই পুলিশ মিন্নিকে আসামি সনাক্ত করার কথা বলে বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে। সোয়া ১১ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে।'

মিন্নির বাবা বলেন, 'আমার মেয়ে অসুস্থ। কিছু দিন আগেও তাকে চিকিৎসা করাতে হয়েছে ঢাকা নিয়ে। পুলিশি নির্যাতনে আমার মেয়ে এখন ভারসম্যহীন হয়ে পড়েছে। তার সুচিকিৎসার খুব প্রয়োজন। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী মহলকে আড়াল করতে আমার মেয়েকে ফাঁসাচ্ছে। রিফাত হত্যাকাণ্ডের আগে রিফাতের সঙ্গে বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের স্ত্রী শামসুন্নাহার খুকির বাকবিতন্ডা হয়। এরপর খুকি তার বোনের ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী কাছে এ বিষয়ে নালিশ করে যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়া প্রকাশ হয়েছে। যে দিন হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিলো সে দিন হত্যাকারীরা বলেছিলো “তুই আমার মাকে গালাগাল করেছিস। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বল”।  উল্লেখ থাকে যে রিফাত ও রিশান ফরাজী খুকিকে মা বলে ডাকতেন। তাই আমার ধারণা হচ্ছে এটাও এই হত্যাকাণ্ডে রিফাত, রিশানের আগ্রাসী ভূমিকার কারণ হতে পারে। মাকে গালাগাল করার প্রতিশোধ নিতে গিয়েই রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী হত্যাকাণ্ডে অগ্রভাগে ছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং রিফাত ফরাজী রিশান ফরাজীই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছে। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে এ বিষয়ে সকল তথ্য বেড়িয়ে আসবে।' 

তিনি বলেন, 'এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমনিতেই আমি ও আমার পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তহীনতার মধ্যে বাস করতেছি। আমার সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ। তারা স্কুলে যাওয়া আসা করতে পারতেছে না। বিভিন্ন মহলের হুমকির কারণে প্রতি মূহুর্তে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আমাকে চলতে হয়।'

মিন্নির বাবা বলেন, 'রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনও চার জন গ্রেফতার হয়নি।'

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে ফেরার পথে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ একদল যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়। এ হত্যার ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন।

-এমএম/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft