For English Version
বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২০
হোম সারাদেশ

রাণীনগরে মানসম্মত নতুন খাদ্য গুদাম এখন সময়ের দাবি

Published : Monday, 13 May, 2019 at 12:57 PM Count : 203

সারাদেশের ন্যায় নওগাঁর রাণীনগরে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ধান ও গমের উৎপাদন। কিন্তু সে তুলনায় নেই পর্যাপ্ত ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিক খাদ্য গুদাম। যে কারণে প্রতি মৌসুমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান ও গম সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। উপজেলায় আর একটি নতুন খাদ্য গুদাম বর্তমানে সময়ের দাবি। আর পুরাতন গুদামের সংস্কার করা অতীব প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় উৎপাদিত ধান, গম, চাল সংরক্ষণ ও কৃষকের নিকট থেকে সরাসরি সরকারি ভাবে ধান ও গম সংগ্রহ করার জন্য আশির দশকে রাণীনগর বাজারের অনুকূলে স্থাপন করা হয় রাণীনগর এলএসডি (খাদ্য গুদাম)। সে সময় এর ধারণ ক্ষমতা ছিলো সাধার ভাবে ১৫শ মেট্টিন টন এবং সর্বোচ্চ ভাবে ১৯শ মেট্টিক টন যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে এই খাদ্য গুদাম অনেক সমস্যায় জর্জড়িত।

খাদ্য গুদামের চারিদিকে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় গুদামে প্রবেশ করার জন্য প্রশস্ত কোন রাস্তা নেই। যে কারণে একমাত্র সরু রাস্তা দিয়ে গুদামে মাল বোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজটের। তখন চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষদের। এছাড়া গুদাম ঘরগুলোর দীর্ঘ দিন কোন সংস্কার না করায় বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থা। ঘরের ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তার।

গুদামের আবাসিক এলাকার অবস্থা খুবই নাজুক। বাধ্য হয়েই গুদামের কর্মকর্তাদের বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়। এছাড়াও গুদামে নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পাহারাদার এবং তাদের থাকার কোয়ার্টার। অথচ রাণীনগর বাজারের চৌরাস্তা নামক সংলগ্ন স্থানে গুদামের নামে প্রায় ১৪ শতাংশ জায়গা বছরের পর বছর অলস পড়ে আছে যা স্থানীয়রা ব্যবহার করছে।

অপরদিকে, জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধানের মোকাম হিসেবে পরিচিত উপজেলার বাণিজ্যিক রাজধানী আবাদপুকুর হাট। এক সময় এই হাটের পাশে ধান মজুদ করে রাখার জন্য খাদ্য গুদামের আওতায় টিপিসি নামক সরকারি জায়গা ছিলো। যেখানে সরকারি ভাবে ক্রয়কৃত ধানগুলো গুদামজাত করার পূর্ব পর্যন্ত মজুদ রাখা হতো। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বর্তমানে এই জায়গাটির কী অবস্থা কেউ তা জানে না। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতেও এই জায়গা সম্পর্কে তেমন কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। উপজেলার সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয় পূর্বাঞ্চল আবাদুপুকর এলাকায়। বর্তমানে আবাদপুকুর হাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এই এলাকা ছাড়াও পাশের নাটোরের সিংড়া, বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও আদমদীঘি এলাকার কৃষকরা তাদের ধান বিক্রয় করার জন্য আবাদপুকুর হাটে নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এই হাটে আসেন উন্নতমানের ধান কেনার জন্য।

উপজেলার বর্তমান খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা কম হওয়ার কারণে প্রতি বছরই সরকারি ভাবে ধান কিংবা গম ক্রয়ের সময় বরাদ্দ দেওয়া হয় খুবই কম। যে কারণে এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন বছরের পর বছর।

অপরদিকে, সরকারি ভাবে চাল সংগ্রহের সময় খুবই কম বরাদ্দ দেওয়ার কারণে উপজেলার ছোট-বড় অধিকাংশ চাতাল মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। পথে বসেছে অনেক চাতাল মিলাররা।

চাতাল মালিক মকলেছুর রহমান বাবু বলেন, উপজেলায় যখন ধানের উৎপাদন কম হতো তখনকার সময়ের জন্য বর্তমান খাদ্য গুদাম ঠিক ছিলো। কিন্তু বর্তমানে উপজেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে ধানের উৎপাদন অনেক গুণ বৃদ্ধি পেলেও ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়নি খাদ্য গুদামের। যে কারণে উপজেলার কৃষক ও চাতাল মালিকদের প্রতি বছরই গুনতে হচ্ছে লোকসান। যে কারণে আমি অনেক বছর হলো চাতালের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। তবে আমাদের উপজেলার জন্য নতুন একটি আধুনিক মানসম্মত খাদ্য গুদাম খুবই প্রয়োজন।  

আবাদপুকুর এলাকার ব্যবসায়ী রুহুল আমীন বলেন, দেশের সবকিছুতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও আমাদের উপজেলার খাদ্য গুদামে এখনো আধুনিকতা কিংবা উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। তবে ধানের জন্য আবাদুপুকর এলাকা প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে এই এলাকায় আধুনিক মানসম্মত একটি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা খুবই প্রয়োজন, যা এই অঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের প্রাণের দাবি। কারণ আবাদুপুকর থেকে রাণীনগর খাদ্য গুদামের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। তাই খাদ্য গুদামে ধান, চাল কিংবা গম সরবরাহের জন্য কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়। আর এই এলাকায় একটি নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হলে শুধু এই উপজেলাই নয় আশপাশের কয়েকটি উপজেলার প্রায় শতাধিক গ্রামের কৃষকরা উপকৃত হবেন। এছাড়াও সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। এই এলাকার বেকার মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে এবং নতুন একটি খাদ্য গুদামকে ঘিরে চাঙ্গা হবে এই এলাকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

রাণীনগর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা. শরিফুল ইসলাম (লিটন) বলেন, বর্তমানে এই উপজেলার জন্য প্রায় ৩ হাজার মেট্টিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধুনিক মানসম্মত খাদ্য গুদাম খুবই প্রয়োজন। বর্তমান খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা প্রয়োজনের চেয়ে খুব কম হওয়ার কারণে এই অঞ্চলের কৃষক ও মিলাররা সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন বছরের পর বছর। যার প্রভাবে উপজেলার ছোট-বড় অনেক চাতাল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কৃষকরা ধান কিংবা গমের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে চাষাবাদ থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। মাঝখান থেকে লাভবান হচ্ছেন মধ্যসত্যভোগীরা।





তিনি আরও বলেন, বর্তমান খাদ্য গুদামের অবস্থা খুবই নাজুক। নতুন করে এর ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য কোন জায়গা নেই। কারণ এর চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন মার্কেট ও ভবন। তাই উপজেলার অন্য কোনো স্থানে যদি নতুন করে আধুনিক মানসম্মত একটি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হয় তাহলে এই অঞ্চলের কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন তেমন করে আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে এলাকার চাতাল মিলগুলো আর নতুন করে ঘুরতে শুরু করবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা।  

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft