For English Version
বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪
হোম

মৌলভীবাজারে বৃষ্টির কারণে পর্যটন স্থানগুলো শূন্য

Published : Wednesday, 19 June, 2024 at 9:41 PM Count : 724

চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলকমলগঞ্জে ঈদের দিন থেকে টানা বৃষ্টির কারণে চা বাগানসহ পর্যটন স্থানগুলোতে শুন্য দেখা যায়। ঈদে পর্যটক ও স্থানীয়দের ভীড় লেগে থাকতো এসব স্থানে। তবে এবারের চিত্রটা একদম ভিন্ন। টানা ৩ দিনের বৃষ্টির কারনে প্রায় ফাঁকা হয়ে রয়েছে এসব দর্শনীয় স্থানগুলো। এমনিতেই পর্যটক কম এসেছেন তার উপরে সারাদিন বৃষ্টি হওয়ায় পর্যটকরা হোটেল রিসোর্ট থেকে বের হতে পারছেন না।

সোমবার (ঈদের দিন) সকাল থেকে বুধবার বিকাল ৫টা রিপোর্ট লেখা অবধি টানা বৃষ্টি হয়েছে চায়ের রাজ্যে। এদিকে সিলেটের বন্যার প্রভাব পড়েছে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে। অনেকেই সিলেটের বন্যার সাথে শ্রীমঙ্গলকে মিলিয়ে আগাম বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন। তবে শ্রীমঙ্গলের কোথাও বন্যা নেই বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তবে কমলগঞ্জে বন্যা দেখা দিলেও হোটেল রিসোর্টে কোনো প্রভাব ফেলেনি বন্যার পানি।  

চারদিকে সবুজের সমারোহে সজ্জিত সারি সারি চা-বাগানের নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের। চা-বাগান ছাড়াও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), টি মিউজিয়াম, বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হাইল হাওর, মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, বধ্যভূমি-৭১, চা-কন্যা ভাস্কর্যসহ নানা স্থান ঘুরে দেখেন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। শহর থেকে একটু দূরে লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী পল্লি, সুদৃশ্য জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ ও হরিণছড়া গলফ মাঠ ঘুরে আনন্দ উপভোগ করেন তাঁরা।

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, পদ্মা লেক, পাত্রখলা লেক, ক্যামেলীয়া লেক, বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান, মনিপুরী পল্লী, খাসিয়া পল্লী পর্যটকদের আকর্ষণ করে। প্রকৃতির টানে তাই পর্যটকরা ছুটে আসেন চায়ের রাজ্যে। তবে এবার কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে এলেও এসব পর্যটন স্থানগুলো বেশীরভাগ যেতে পারেন নি পর্যটকরা।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে এসেছেন আকাশ জামান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, থামেনি একবারও। রিসোর্ট থেকেও বের হতে পারলাম না। রিসোর্টেই কাটাতে হচ্ছে সময়। বৃষ্টি উপভোগ করলেও ভালো করে ঘুরতে পারিনি। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবার নিয়ে চলে যাব। আবার ছুটি পেলে ঘুড়তে আসবো।

সারমিন আনাম তান্নী নামের এক পর্যটক বলেন, সাতখিরা থেকে কমলগঞ্জে বুধবার সকালে এসেছি। নিজস্ব গাড়ি থাকায় বেড়িয়েছিলাম ঘুরতে। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারনে গাড়ি থেকে নামতে পারিনি। গাড়ি থেকে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুড়ে দেখলাম। প্রায় দুই ঘন্টার মতো গাড়ি নিয়ে ঘুরে আবার রিসোর্টের দিকে এখন যাচ্ছি। এমন বৃষ্টি জানলে আসতাম না। হোটেল দুই দিন বুকিং দিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে চলে যাবো।

কমলগঞ্জ অরন্য নিবাস রিসোর্টের পরিচালক এহসান কবির সবুজ জানান, ঈদুল আযহা উপলক্ষে এমনিতেই পর্যটন অনেক কম। আমাদের রিসোর্টসহ বেশীর ভাগ রিসোর্টে প্রায় ৫০ শতাংশের কম রুম বুকিং হয়েছে। তার উপরে ঈদের দিন থেকে বৃষ্টি হওয়া পর্যটকরা রিসোর্ট থেকে বের হচ্ছেন না। পর্যটকরা রিসোর্টেই সময় কাটাচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গল শহরের গ্রীনলিফ গেষ্টহাউজের মালিক এসকে দাশ সুমন বলেন, ‌‘দিন দিন পর্যটকরা দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ট্যুর কোম্পানি গুলো ঈদ কিংবা অন্যান্য ছুটির সময় ভারত, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে যাওয়ার অফার দেন। এখন বেশীরভাগ পর্যটকই বিদেশ মুখী হয়ে যাচ্ছেন। এবার ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমরা হোটেল রিসোর্ট মালিকরা খুব কম আগাম বুকিং পাচ্ছি। মুলত যারা শ্রীমঙ্গলে রাত্রী যাপন করেন ৮০ ভাগই আগাম বুকিং দিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, সিলেটে বৃষ্টির কারনে বন্যা হচ্ছে। অনেক পর্যটক ধারনা করছেন শ্রীমঙ্গলেও বন্যা। কিন্তু শ্রীমঙ্গলে কখনই বন্যা হয় না। অনেকে সিলেটের সাথে সেটা গুলিয়ে ফেলছেন। এখন শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতি অপরূপ সাজে সজ্জিত। সবুজে ভরে আছে সবকিছু।’

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, ‘সাধারণত ঈদের আগের দিন থেকে সপ্তাহব্যাপী পর্যটক শ্রীমঙ্গলসহ পুরো জেলায় ঘুরে বেড়ান। তাঁদের জন্য প্রতিটি হোটেল-রিসোর্টকে নতুন সাজে সজ্জিত করে রাখা হয়। পর্যটকদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হয়। বেশির ভাগ হোটেল-রিসোর্ট হাউসফুল থাকে। কিন্তু এ বছর ঈদের আগের দিন থেকে আজ অব্দি খুবই কম বুকিং হয়েছে। বৃষ্টির কারনে পর্যটকরা এখানে এসেও ঘুরতে পারছেন না। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

মৌলভীবাজার সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) আনিসুর রহমান বলেন,‘পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের সাথে সমন্বয় করে প্রতিটি পর্যটন স্পর্টগুলোতে আমাদের পুলিশ ছিল। পর্যটকরা যেন ঈদের ছুটি কাটিয়ে নির্ভিগ্নে বাড়ি ফিরতে পারে সেই লক্ষেই আমরা কাজ করছি।’

এসএস/এসআর

« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone : PABX- 0241053001-08; Online: 41053014; Advertisemnet: 41053012
E-mail: info$dailyobserverbd.com, mailobserverbd$gmail.com, news$dailyobserverbd.com, advertisement$dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft