For English Version
শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

ভরা মৌসুমে খাল-বিলে দেশীয় মাছের সংকট

Published : Monday, 23 September, 2019 at 11:16 AM Count : 111
নিজস্ব সংবাদদাতা

উত্তর বঙ্গের খাদ্য ও মৎস ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে ভরা মৌসুমে খাল, বিল, ডোবা, জলাশয়গুলোতে দেশীয় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। বর্ষার পর মাছের ভরা মৌসুমে নদী-নালা, খাল-বিলগুলো মাছ শুন্য হয়ে পড়েছে। 

কারণ হিসেবে কৃষি জমিতে অনিয়ন্ত্রিত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, যত্রতত্র পুকুর খনন, অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে নির্বিচারে মা মাছ ও ছোট পোনা মাছ ধরা, খাল-বিল-ডোবা ভরাট, উন্মুক্ত জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণ, নদী থেকে মাছ খাল-বিলে প্রবেশের পর ধরা পড়া, মাছের বিচরণ ক্ষেত্রের অনুকূল পরিবেশ না পাওয়ার জন্য দিন দিন দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

উপজেলার কচুয়া বিল, আহসানগঞ্জ বিল, শুটকিগাছা বিল, কাশিয়াবাড়ী বিল, পোড়াদহ বিল, সমসপাড়া বিলসহ শুটকিগাছা সুইচগেট, ডুবাই সুইচগেট, কাশিয়াবাড়ী সুইচগেট, আহসানগঞ্জ সুইচগেটগুলো দিয়ে নদী ও খাল-বিলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মাছ যাওয়া আসা করে। এই বিল ও সুইচগেটগুলোতে বর্ষার কয়েক মাস মাছ ধরা বিরত রাখতে পারলে মাছের সংকট অনেকটা কমে আসবে এবং এসব নদী-নালা, খাল-বিল জলাশয়ের মাছ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা যাবে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।





উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ঘুরে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। ওই সময় এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি কারেন্ট জাল ও ভারতীয় এক প্রকার টানা জাল দিয়ে মা মাছ ও পোনা মাছগুলো ধরে ফেলে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন আর হয় না। এক সময় উপজেলার গ্রামগঞ্জের হাটে-বাজারে নানা ধরনের দেশি জাতের মাছ চোখে পড়ত। সেগুলো হলো, কৈ, মাগুর, শিং,পাবদা, বোয়াল, টেংরা, পুঁটি, খলশে, শোল, গজার, আইর, সরপুঁটি, টিটপুঁটি, চিতলসহ নাম না জানা বহু প্রজাতির মাছ।

মাছ আড়ৎ সমিতির সভাপতি বাবলু আকন্দ বলেন, উপজেলায় প্রায় ৫০-৬০ প্রজাতির দেশীয় মাছের বিলুপ্তি ঘটেছে। আগে খাল-বিল, নদী-নালা এবং জলাশয় থেকে যে ধরনের মাছ আমদানি হতো এখন আর সে মাছগুলো চোখে পড়েনা। ব্যবসায়িক ভাবে লাভ জনক না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দিন দিন এসব মাছের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে হারিয়ে যাচ্ছে ছোট মাছের পুষ্টিগুণ। অপরদিকে দামে সাশ্রয় হওয়ায় পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্প জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির দিকে ঝুঁকছে মানুষ।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শাহাদত হোসেন বলেন, নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে অভয়াশ্রম সৃষ্টি করে মাছের প্রজননের সুযোগ তৈরী করা প্রয়োজন। পাশাপাসি গণসচেতনতা তৈরী করে কৃষি জমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক প্রয়োগ, কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধ, যত্রতত্র পুকুর খনন ও সুতিজাল বন্ধ করে মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা গেলে বিপন্ন প্রজাতির এসব মাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

-টিকেএস/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft