For English Version
বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
হোম স্বাস্থ্য

গাংনীতে ফের অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রাদুর্ভাব

Published : Wednesday, 11 September, 2019 at 12:08 PM Count : 66

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভিটাপাড়ার আমিরুল ইসলাম। গত ১০ দিন আগে তার বাড়ির একটি গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি এটি জবাই করে মাংস বিক্রি করেন। তার দু'দিন পরই দুই হাতে ও মুখে ফোড়া ও পচন দেখা দেয়। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। 

চিকিৎসক জানান, তিনি অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত। গরু জবাইয়ে সহযোগি তার ভাই ইদ্রীস এবং ফজলু এ রোগে আক্রান্ত হন। অপরদিকে মাংস রান্না করার সময় গরুর রক্ত ও বর্জ হাতে লাগায় স্ত্রী সালেয়ারা ও মেয়ে নারগিছও অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হন। 

শুধু আমিরুলের পরিবার নয়, গোটা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গত ৯ মাসে ৫০১ জন রোগী অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রশাসনিক নজরদারী না থাকায় স্থানীয় কসাইরা রুগ্ন গবাদি পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করে। ওই মাংস খেয়েই লোকজন এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কোন মোটাতাজা গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কাউকে না জানিয়ে ওই গরুর মাংস ভাগাভাগি করে নেয়। এ গরু কোনো রোগে আক্রান্ত কি না তা যাচাই করার সুযোগ থাকে না। তাছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো লোকজনের তদারকি না থাকায় অসুস্থ গরু জবাই করা হয়। ফলে দিন দিন এ রোগের প্রাদূর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তরা জানান, হাট-বাজার থেকে গবাদি পশুর মাংস এনে রান্না করে খেয়ে এ রোগ দেখা দিয়েছে। মাংস খাবার পর পরই মুখসহ বিভিন্ন অঙ্গ চুলকানি দেখা দেয়। তারপর ফুলে উঠে ও পানি ঝরে। পরে জানতে পারি এটি অ্যানথ্রাক্স রোগ।

গাংনীর তহবাজারের মাংস ব্যবসায়ী হারেজ জানান, পৌরসভার নিয়ন্ত্রণে এ তহবাজার। তাই কোনো রুগ্ন পশু এখানে জবাই করা হয় না। কিন্তু অন্যান্য হাট বাজারে কোন তদারকি নেই। ফলে রোগা গরু জবাই করা সহজ। স্থানীয় লোকজনও রোগাক্রান্ত পশুর মাংস সস্তায় কিনে খায়। ফলে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে মহামারি আকারে। 

বামন্দি বাজারের কয়েকজন কসাই জানান, গত ১০ বছরের একদিনও কোনো লোকজন আসেনি পশু জবাইয়ের আগে পরীক্ষা করতে। কোন নজরদারী নেই এখানে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সজীব উদ্দীন স্বাধিন জানান, সম্প্রতি গাংনী পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যানথ্রাক্স রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস, কাটা-ছেড়া ও খাওয়ার কারণে সবাই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাজারে রোগাক্রান্ত গরু যাতে জবাই না করতে পারে সে দিকে নজরদারী প্রয়োজন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোলাম জামান জানান, সবখানেই এনথ্রাক্স জীবাণু সুপ্তাবস্থায় আছে। ৪০ বছর পর্যন্ত এরা বেঁচে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এবং তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ জীবাণু সক্রিয় হতে পারে। বর্তমানে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ রোগের বিস্তার বেড়েছে। তাছাড়া লোকবলের অভাবে তেমন কোন তদারকি করা সম্ভব হয়না। অনেকেই গ্রামে পশু জবাই করেন। অসুস্থ গবাদি পশুর মালিকরাও নিজেরাই জবাই করে মাংস বিক্রি করে থাকে। এখান থেকেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

তিনি আরও জানান, লোকবলের অভাবে হাট-বাজারে তেমন তদারকি করা হয়ে উঠে না। তবে যেসব এলাকায় অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে একটি দল এলাকা পরিদর্শনে এসে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন ও এলাকাবাসীকে পরামর্শ দিচ্ছেন। 

ঢাকা থেকে আসা পরিদর্শক দলের প্রধান (সিডিআইএল এর ইউএলও) ডা. গোলাম আজম জানান, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় রোগীদের নিকট থেকে রক্ত সংগ্রহ করেছেন। ফ্রিজে রাখা মাংস পরীক্ষা করে অ্যানথ্রাক্স জীবাণু পেয়েছেন। মাংসগুলো তারা পুঁতে রাখেন এবং অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু জবাই করে গভীর গর্তে পুঁতে রাখার পরামর্শ দেন।

-এমআরএ/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft