For English Version
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
হোম রাজনীতি

যে কারণে বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে বেঙ্গল

Published : Thursday, 22 August, 2019 at 6:38 PM Count : 270
অবজারভার প্রতিবেদক


বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল সম্প্রতি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) যোগদান করেছেন। বর্তমানে তিনি দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী রাজনৈতিক সংগঠক ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজধানী ঢাকায় বেঙ্গল প্লাটুনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল।
 
সম্প্রতি বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে যোগদান করাসহ  রাজনৈতিক নানা বিষয় নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ প্রতিনিধির সঙ্গে  কথা বলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ও দল পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন,‘চিনেছি আপনারে, আঘাতে আঘাতে, বেদনায় বেদনায়, সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনো করেনা বঞ্চনা। আমার রাজনৈতিক বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। রাজনৈতিক কারণেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙ্গালি জাতির ন্যায্য অধিকার বিব্রত করে অত্যাচার, অবিচার ও নিপীড়ন চালায়। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের-জুলুম অত্যাচারের মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম মানুষের মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিতে। পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকরা একই ধর্মালম্বী হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের সঙ্গে যে বৈষম্য সৃষ্টি করে যে নিপিড়ন নির্যাতন অত্যাচার করেছিলো তার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই ভাষা নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে করে স্বাধিকারের আকাঙ্খায় পুরো বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করার মত মানুষিকতা তৈরি করেছিলো আমাদের প্রগাঢ় দেশপ্রেম। আমরা দেশমাতৃকার সার্বিকমুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছি। তবে, দুঃখজনক হলেও সত্য; তারুণ্যের অদূরদর্শীতা ও অপিরপক্কতার কারণে আমরা বন্ধু এবং শত্রু চিনতে ভুল করেছিলাম। যারা আমাদেরকে সেদিন বন্ধুরূপে সাহায্য করেছিলো; একসময় দেখা যায়  ‘আস্তিনের সাপ’হয়ে তারাই আবার ছোঁ-মারে। তারা আজকে আমাদের বাজার, সংস্কৃতি ও জাতিগত বিকাশের শক্তির উৎসগুলো দখল করে নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যে ক’জন মানুষ বুঝতে পেরেছিলাম স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও জাতির নের্তৃত্ব এবং কর্তৃত্বের আসনে আমাদের বসতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়; যারা দেশের প্রতি, ঈমানের প্রতি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তারা কখনো কর্তৃত্বের আসনে বসতে পারেনি। তাদের যোগ্যতাই তাদের শত্রুরূপে প্রতিভাত হয়েছে। যারা চক্রান্তকারী, সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী তারা তাদের শক্তি দ্বারা  ( যেমন- লোভ লালসা, টাকা-পয়সা) তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে দলের অভ্যন্তরে ও রাষ্ট্রের প্রশাসনিক যন্ত্রের ভিতরে ভালো, সৎ, দেশপ্রেমিক ঈমানদার মানুষগুলোকে সব সময় বাঁধা সৃষ্টি করে চলার পথকে রুদ্ধ করেছে।

পক্ষান্তরে, তাবেদার, স্বার্থান্বেষী মির্জাফর বিশ্বাসঘাতক দ্বারা তাদের চিন্তার আধিপত্যের জাল বিস্তার করেছে। দেশপ্রেমিকদের জন্য চরিত্রের দৃঢ়তায় অবিচল আপোষহী সহীন মানুষগুলো বারবার চেষ্টা করেও বিশাল স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর কাছে পরাজিত হয়েছে। বিষয়টি শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়; বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে অধিপত্যবাদীরা সফলতার সহিত কাজটি করে গেছেন। আজ স্বাধীনতার ৪৮ বছরে জীবনের সত্তোর বছরের দারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমার উপলব্ধিতে কবিতার ভাষায় ‘সত্য’ সত্যিই কঠিন হলেও ব না আর হতাশা আমাকে আরো সানিত করেছে।

দলীয় রাজনীতি সর্ম্পকে তিনি বলেন, আমার দলীয় রাজনীতির শুরুটা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরে। স্বাধীনতার পর রাজনীতির সার্বিক পরিস্থিতি দেখে দলীয় রাজনীতি করার ইচ্ছা ছিলো না। চেয়েছিলাম সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানবিক পরিমন্ডলে কাজ করবো। অনেক দূরদর্শিতা নিয়েই দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের একত্রিত করে তাদের সার্বিক কল্যাণ করতে চেয়েছিলাম। পরবর্তীতে উপলব্ধি আসে, রাজনীতি ছাড়া কোন গোষ্ঠী বা জনপদের মানুষের সার্বিক কল্যাণ সম্ভব নয়। তাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে একজন সংস্কারক হিসেবে তৈরি করার জন্য দেশের সার্বিক মুক্তির কথা চিন্তা করি, প্রথম দিকে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছিলাম।

একথা বলতে দ্বিধা নেই আমাদের পিতামহ বাঙালি জাতি সত্ত্বার উন্মোচনকারী জগৎ বিখ্যাত শেরে বাংলা একে ফজলুল হক বাঙালিকে শিক্ষায় দীক্ষায় মননে সামাজকি সংস্কারে এবং বাঙালিকে  স্বনির্ভর করার জন্য যেই যুগান্তকারী সংস্কার, অগ্রগতি ও উন্নতির জন্য কাজ করেছিলেন তার মধ্যে উল্লেখ্য, অবৈতনিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, জমিদার প্রথা বিলোপ, ঋণ শালিসি বোর্ড গঠন, পারিবারিক আদালত, পশ্চাৎপদ মুসলমানদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্যে গভীরচিন্তা ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেলিন। সেই সঙ্গে মজলুম জননেতা মাও. আব্দুল হামিদ খাঁন ভাসানী কৃষক শ্রমিকদের জন্য চিন্তা চেতনায় দরিদ্র মানুষের রাষ্ট্র তৈরি করতে চেয়েছিলেন। হাজী দানেশ তেভাগা পদ্ধতির আন্দোলন করেছিলেন। সেই সঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে এই দেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির জন্য আমাদের পিতা-পিতামহ মহাগুণী মহাজনরা বিভিন্ন সময়ে যে সংস্কার চিন্তা করেছিলেন তা তুলে এনে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সরকারের সময়  বাস্তবায়নের জন্য আমরা ১৮ দফা জনদল, জাতীয় ফ্রন্ট ও পরিশেষে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করি।

আমি আমার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে যৌবনের চিন্তা, শ্রম দিয়ে চারনের বেশে জাতীয় পার্টির প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সারা বাংলাদেশ ঘুরে একটি শক্তিশালী সংগঠন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেই সঙ্গে দেশের চিন্তাশীল এবং কর্মশীল রাজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গকে একত্রিত করে এরশাদের চতুরদিকে একটি বলয় তৈরি করি। তাইতো তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের মূল আকাঙ্খা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার করে ৯ বছর দেশ শাসন করেন। কিন্তু, বাধার সৃষ্টি হয় মোসাহেব, চাটুকার, সম্প্রসারণবাদীদের ধারা পরিচালিত হয়ে মোহমত্ত্বের কাছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঘেরাও হয়ে পরাজয় বরণ করেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এদেশে বারবার দেশপ্রেমিক জন্মগ্রহণ করেছে। উজ্জোগ-উত্থান এবং অগ্রগতি যখন স্বদেশকে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে তখনই প্রধান চরিত্রের স্থলন ঘটানো হয়েছে। অথবা দৃশ্যপট থেকে তাকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেয়া হয়। এই ক্ষেত্রে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রনায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণাকারী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। খেলা চলতে চলতে এমনি এক জায়গায় এসে পৌঁচেছে বাংলাদেশে বর্তমানে ডিভাইড এন্ড রোল বা জাতিগত বিভাজন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আধিপত্যবাদীরা একাজটি করতে সক্ষম হয়েছে। এখানে পক্ষশক্তি বা বিপক্ষশক্তি বলতে খুব বেশি কিছু নেই। যারা পক্ষ শক্তি তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নীতি নৈতিকতা বির্সজন দিয়ে তাবেদারী করে চেয়ারে বসেছে। ঠিক তার বিপরীত চেহারায় বিরোধী পক্ষ কার্যত পক্ষশক্তির মতই তাবেদারী করছি।

এ বিষয়টি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় যখন প্রকাশ পেল তিনি সেদিন আমাদের প্রেসিডিয়ামের মিটিং এ বললেন, ‘আমি ক্ষমতায় যাবার জন্য প্রয়োজনে ইবলিসের সঙ্গে হাত মেলাবো।’ আমি প্রতিবাদ করে তাকে নিভৃত করতে চেষ্টা করেছিলাম। তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন বলেই, আমি বলেছিলাম ‘আই রিবোল্ড’। সেদিনই হুসাইন মুহম্মদ এরশাদকে ছেড়ে চলে এসেছিলাম। নীতি আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি।

পরবর্তীতে আমার নীতি, আদর্শ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে বিএনপির ক্ষমতার বিদায় বেলায় জাতীয় পার্টির ১১ জন প্রেসিডিয়াম মেম্বার, ৪২ জন সম্পাদক ও ২০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে শাহ মোয়াজ্জেম, রাজিয়া ফয়েজসহ আমরা বিএনপিতে যোগদান করেছিলাম।

২০০৬ সাল থেকে গত ১৩ বছর ধরে বিভিন্ন সময় আমি আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু চাটুকার, মোসাহেব আর আন্ডারগ্রাউন্ডে লুকিয়ে থাকা কায়েমী স্বার্থবাদীরা অধিপত্যবাদ ও সরকারপক্ষের দালালি করে জাতীয়তাবাদ, ইসলামি মূল্যবোধের ঐক্যকে বিনষ্ট করে আপোষহীন নেত্রীকে কারাগারে পাঠাতে সরকারকে সহযোগীতা করেছে। যা আমার দেখা, জানা এবং বুঝায় এই কারিগরদের চিনেছি। শুধু এটুকু বলবো, আমরা সেই ২০০৬ সালের পরে দুটি মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করেছি। আজকের তারুণ্যকে, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ব্যানারে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু, পরবর্তীতে সংগঠনকে শক্তিশালী করে বেগবান করার চেষ্টা করলেও লুকিয়ে থাকা আধিপত্যবাদী দালালদের কাছে দল এবং দেশপ্রেমিক যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বিব্রত হয়েছে। এরা কখনই সত্যিকারে সাংগঠনিক এবং নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যদেরকে কর্তৃত্ব না দিয়ে দায়িত্ব থেকে আড়াল করে রেখেছেন। এই অবস্থায় নীতির প্রশ্নে আমাকে আবারো প্লাটফর্ম পরিবর্তন করতে হয়েছে।

আমি এই কথা স্পষ্ট বলে দিতে চাই ‘আদর্শের প্রশ্নে আমি শতদল, শতপ্লাটফর্ম বদলাতে পারি। তারপরও আমি নীতি আদর্শচ্যুত হতে পারি না। আমি পরাজয় মানিনা, পরাভব মনিনা, অধীনতা মানিনা, আমি কারো কাছে মাথা নত করতে জানি না। আমি একমাত্র মহান আল্লাহর কাছে মাথানত করি। মানুষের কল্যাণের জন্য দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র তথা মানুষের সার্বিক অধিকারের প্রশ্নে আমি আপোষ করি না।

রাষ্ট্রের সমস্ত কাঠামো ভেঙে পড়েছে দাবি করে এই মুক্তিযোদ্ধা আরো বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। গণতন্ত্র ভূলন্ঠিত। গত ১০ বছরে ভোটবিহীন তথাকথিত নির্বাচন মানুষের মৌলিক অধিকার ভোটাধিকার নূন্যতম মানবিক অধিকার বাংলাদেশে নেই। আধিপত্যবাদীদের সহায়তায় এক পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এই অবস্থায় গণতন্ত্রের মাতা বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমে গণতন্ত্রের মুক্তি আসতে পারে।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের জুলুম, অত্যাচার, অবিচার এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে; বাংলার প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষ এতে চরমভাবে আক্রান্ত হয়েছে। দেশের ঈমানদার, খাঁটি দেশপ্রেমিক, জাতীয়াতাবাদী ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী, মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত আদর্শে বলিয়ান আপোষহীন মানুষ একজন হ্যামিলনের বংশীবাদককে খুঁজছে। মানুষের হৃদয়ের বর অক্লান্ত আকাঙ্খার এ তীব্রতা আমাকে ভালো মানুষ খোঁজার মানসে তাড়িত করে আসছিলো। অবশেষে অনেক চিন্তা ভাবনা করে; মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমানের একনিষ্ঠ সাথী কর্নেল অলি আহম্মদ বীর বিক্রমকে বিবেচনায় এনে সাক্ষাৎ করতেই তিনি আমাকে সুধালেন, গত ৭/৮ বছর ধরে তিনি আমার সান্নিধ্য প্রত্যাশা করে আসছেন। এজন্য তিনি তার রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি করে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে আসছিলেন।

গত রমজান মাসে পবিত্র কাবা শরীফের পাশে তার অবস্থানরত হোটেলে দু’জনে সাক্ষাৎ করে দেশের সার্বিক রাজনীতি এবং আমাদের করণীয় সম্পর্কে বিষদ আলোচনার প্রেক্ষিতে আমি সন্তুষ্ট চিত্তে একজন দেশপ্রেমিক, সৎ, ঈমানদার, নির্ভীক স্বাধীনতার অগ্রসেনার হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় জাতীয়তাবাদে অবিচল থেকে গণতন্ত্রের মাতা আপোষহীননেত্রী স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের জীবন সাথী, তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে মুক্ত করে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হই।

পৃথিবীতে কোন জাতি যখন অসভ্যতায় পর্যবসিত হয়, ওই জনপদে আল্লাহর গজব নেমে আসে। তখন অল্পকিছু সংখ্যক লোক সত্যের পতাকা নিয়ে জাতির সামনে এসে দাঁড়ায়। জাতিকে অসভ্যতার হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। শতাব্দী থেকে শতাব্দী পর্যন্ত ইতিহাস তাই সাক্ষী দেয়। এলডিপি যত ছোট দলই হোক না, দলের আদর্শ কিন্তু ছোট নয়। আহ্বান এবং আহ্বানকারী যদি সঠিক পথে থাকে তাহলে আল্লাহর সাহায্য চলে আসে। ‘খায়রুম মিনাললাহে তায়লা ওয়াফাতহুন কারিব’ অথাৎ ‘আল্লাহর সাহায্য আসলে বিজয় নিকটবর্তী।’

এআরএস/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft