For English Version
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
হোম সারাদেশ

কাজ শেষ না হতেই বিলীন কুয়াকাটা সৈকত রক্ষা বাঁধের জিও টিউব

Published : Wednesday, 21 August, 2019 at 6:35 PM Count : 532
মুজাহিদ প্রিন্স, পটুয়াখালী


সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার ভাঙ্গনরোধে চলমান অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজ শেষ না হতেই অধিকাংশ জিও টিউবের বালু বের হয়ে সমুদ্রের পানিতে মিশে গেছে। নিম্নমানের জিওটিউব, সৈকতের বালু ব্যবহার এবং দরপত্রের শর্তভঙ্গ করে কাজ করার জন্য এমনটি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা।
 
সূত্র জানায়, পাউবোর অর্থায়নে জিও ব্যাগ দিয়ে সৈকত সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে কাজ শুরুর দিকেই। এমন অভিযোগ আমলে না নিয়ে পাউবো কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাফাই গাওয়ায় ট্যুরিজম ব্যবসায়ীরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এনিয়ে প্রিন্ট, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।


এদিকে জিও টিউব ও ব্যাগে ২শ’ নম্বর সিপি বালু ভরে সৈকত রক্ষা বাঁধ নির্মাণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে বেশির ভাগই দেয়া হয়েছে সৈকতের বালু। কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তরিঘড়ি করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি দিনে ও রাতের আঁধারে সমুদ্রের বালু দিয়ে সুরক্ষা বাঁধের কাজ চালিয়ে আসলেও পাউবো কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। জিও ব্যাগ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বি.জে. জিও টেক্সটাইল লিমিটেড কোম্পানি এ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি এমন অনিয়ম করলেও পাউবো বলছে নিয়ম মতই হচ্ছে কাজ।

পাউবো কলাপাড়া অফিস সূত্র জানায়, সমুদ্রে সৈকত ভাঙ্গনরোধে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫৬০ মিটার দৈর্ঘ্য মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের জন্য ১৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয় বি.জে. জিও টেক্সটাইল লিমিটেডকে। যা চলতি সালের ৩০ জুন শেষ হবার কথা। সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকার পিকনিক স্পট থেকে শুরু করে কুয়াকাটা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার জিও বাগে এ মেরিন ড্রাইভ রাস্তা তৈরীর কাজ চলছে। এ রাস্তায় ৫৬টি জিও টিউব ও ৮হাজার পিস জিও বস্তা দেয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি জিও টিউবের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ মিটার এবং প্রস্থ হবে ৪ মিটার। প্রতিটি জিও বস্তার সাইজ হবে পিপি সাইজ। প্রতিটি জিও টিউবের রিভার সাইডে দুইটি করে জিও বস্তা ২.৭৪ মিটার প্রস্থ এবং কান্ট্রি সাইডে দুইটি করে জিও বস্তা ২.৭৪ মিটার উচু ব্যাগ দিয়ে এ মেরিন ড্রাইভ রাস্তা বা সৈকত সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করার এমন নির্দেশনা দরপত্র কোটেশনে রয়েছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করা থেকে এ পর্যন্ত ৪০টির মত টিউব তৈরী করতে পেরেছেন। যেসব টিউব তৈরী করা হয়েছে বেশিরভাগ টিউবের বালু বের হয়ে যাওয়ার কারণে নাজুক হয়ে গেছে। ২.৭৪ মিটার উঁচু করার পরিবর্তে পশ্চিমাংশের টিউবগুলো অধিকাংশই ২ মিটারেরও কম উঁচু করা হয়েছে। ৮ হাজার জিও ব্যাগের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জিও বস্তা তৈরী করলেও তাও আবার সমুদ্রের বালু ভরার কারণে বস্তা থেকে বালু বের হয়ে গেছে।

ট্যুরিজম ব্যবসায়ী হোসাইন আমির বলেন, সৈকত সুরক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই জিও টিউবের বালু বের হয়ে গেছে। কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম করা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এমন অনিয়মকে সমর্থন দিয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কুয়াকাটা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শাহ আলম হাওলাদারের অভিযোগ, বেড়িবাঁধের সঙ্গে গর্ত করে মোটা বালুর পরিবর্তে জিও টিউবে লোকাল বালু ভরার প্রতিবাদ করার কারণে পাউবো কলাপাড়া কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগ এনে তাকে নোটিশ দিয়েছেন। সঠিকভাবে কাজ না করে উল্টো তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নিজে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছেন সুরক্ষা বাধেঁ অনিয়ম করা হয়েছে। নিম্নমানের কাপড় ও লোকাল বালু ভরার কারণে অনেক টিউব থেকে বালু বের হয়ে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সঠিকভাবে কাজ করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন। কাজে অনিয়মের বিষয়ে তিনি পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলেছেন বলেও জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মাদ অলিউজ্জামান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন,‘পাইপ দিয়ে বালু ভরার সময় কিছু লোকাল বালু পানির সঙ্গে টিউবে পড়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, সৈকত সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। আর এক সপ্তাহ কাজ করলে শেষ হয়ে যাবে।

এবিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও বীজ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্তা হিসেবে ভাঙ্গনরোধে এ কাজটি করা হচ্ছে। দ্রুত কাজ করায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। পরবর্তীতের যাতে এ ত্রুটিগুলো না থাকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft