For English Version
সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
হোম

সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে ডেঙ্গুতে এতো আতঙ্কিত হবার কিছু নেই

এবার ডেঙ্গুর নতুন একটা চিত্র দেখতে পাচ্ছি

Published : Friday, 26 July, 2019 at 10:57 AM Count : 65

দেশে ডেঙ্গু আতঙ্ক বাড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। কোনও কোনও পরিবারের একাধিক সদস্য ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে পা ফেলার জায়গা নেই। নির্ধারিত বেড ছাড়িয়ে ফ্লোরে, বারান্দায়, লিফটের পাশে, বাথরুমের দরজার সামনে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (২৫ জুলাই) ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪৭ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে চট্রগ্রামে ৯ জন, খুলনায় ও বরিশালে একজন করে।

এ পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ২৫৬ জন। ঢাকার ভেতরে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের ৪, ৫ ও ৬ তলায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১১২ জন। এছাড়া, মিটর্ফোড হাপসাতালে ৫৮ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৬৩, শিশু হাসপাতালে ২৭, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ৩২, বারডেমে ১০, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১৮, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ ও বিজিবি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭ জন।

এছাড়া, ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় (২৫ জুলাই) ভর্তি হয়েছেন ১৬৭ রোগী। আর বেরসকারি ৩৬টি হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৯৩১ জন। বেসরকারি হাসপাতালে এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৪৭৫ জন। চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩ হাজার ৫৩৭ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে তারা ‘মহামারি’ না বললেও পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। আর যত রোগী হাসপাতালগুলোতে আসছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের তালিকাভুক্ত হচ্ছেন, প্রকৃত সংখ্যা তার অনেক বেশি। কোনও কোনও হাসপাতালে রোগীদের অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বেড না থাকায় কর্তৃপক্ষ রোগীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক হাসপাতালে বেড খালি না থাকায় রোগীদের অপেক্ষায় থাকতে বলছেন চিকিৎসকরা। এমনকি কোথাও কোথাও বেড না থাকায় কর্তৃপক্ষ রোগীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটর্ফোড হাপসাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীদের চাপে হাসপাতালের মেঝেতেও অবস্থান করছেন রোগীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে তারা ‘মহামারি’ না বললেও পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। আর যত রোগী হাসপাতালগুলোতে আসছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের তালিকাভুক্ত হচ্ছেন, প্রকৃত সংখ্যা তার অনেক বেশি। কোনও কোনও হাসপাতালে রোগীদের অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বেড না থাকায় কর্তৃপক্ষ রোগীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আদাবরের আনিছুর রহমান। হাসাপাতালে বেড খালি না থাকায় মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। 

আনিছুর রহমান অবজারভার অনলাইনকে বলেন, 'হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে বেড খালি নেই। তাই বাধ্য হয়েই মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছি। তবে বেড খালি হলে বেডে তুলবে বলছে।'

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন অবজারভার অনলাইনকে বলেন, 'ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। তবে যাদের অবস্থা খুব ক্রিটিক্যাল না তাদের অনেককেই ভর্তি নেওয়ার পরও ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। আবার অনেকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। আবার একটু খারাপ বা একটু রিস্কি মনে না হলে আমরা ভর্তি করি না।' 

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার বড়ুয়া অবজারভার অনলাইনকে বলেন, 'এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। সব রোগীকে বেডে রাখা সম্ভব না হওয়ায় নিচতলার এক নম্বর ওয়ার্ডে অনেক রোগীকে মেঝেতে রাখা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। এছাড়া ৬টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হয়েছে।'

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (২৫ জুলাই) ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪৭ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৯ জন, খুলনায় ও বরিশালে একজন করে।

এ পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ২৫৬ জন। ঢাকার ভেতরে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের ৪, ৫ ও ৬ তলায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১১২ জন। এছাড়া, মিটর্ফোড হাপসাতালে ৫৮ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৬৩, শিশু হাসপাতালে ২৭, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ৩২, বারডেমে ১০, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১৮, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ ও বিজিবি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭ জন।

এছাড়া, ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় (২৫ জুলাই) ভর্তি হয়েছেন ১৬৭ রোগী। আর বেরসকারি ৩৬টি হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৯৩১ জন। বেসরকারি হাসপাতালে এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৪৭৫ জন। চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩ হাজার ৫৩৭ জন। 

রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। কয়েকদিনে ৫শ’র অধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালটিতে। তবে এদের মধ্যে ৫ থেকে জন ৬ মারা গেছে বলেও জানা যায়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৬০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। প্রতিনিদিনই এর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী অবজারভার অনলাইনকে বলেন, 'এবার ডেঙ্গুর নতুন একটা চিত্র দেখতে পাচ্ছি। প্রচুর রোগী ভর্তি হচ্ছে। মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত। অসুখের থেকেও বেশি মানুষ আতঙ্কিত। এবারের ডেঙ্গুর প্যাটার্নটা একটু আলাদা। ডেঙ্গু জ্বর মানেই যে শুধু জ্বর, মাথা ব্যাথা, শরীরের চারিদিকে ব্যাথা বা গায়ে রেস, এবার কিন্তু তা নয়। এবার দেখা যাচ্ছে, আমাদের কাছে যে রোগীগুলো ভর্তি হচ্ছে তারা কমপ্লিকেশন নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। অনেক রোগী পথে পথে রিফিউজ হয়ে আমাদের কাছে আসছে তখন আমাদের কিছুই করার থাকে না। কারণ তারা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের সঙ্গে মাল্টি অর্গান ফেইলর হয়ে আমাদের কাছে আসছে। এদের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমাদের কিছুই করার থাকে না। কিন্তু যেসব রোগী আমাদের কাছে প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপে চলে আসছে তারা সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরছে। আজকে আমাদের এখানে ৬০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, 'জলাবদ্ধতা এলাকায়, স্বচ্ছ পানিতে এবং এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র থেকে ডেঙ্গুর বিস্তার হচ্ছে। মানুষ যদি আরও সচেতন না হয়, একা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। ডেঙ্গুকে আপনি, আমি, আমাদের পরিবারের সবাই মিলে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।'

ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, 'ডেঙ্গুতে স্কুলের বাচ্চারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ৬ থেকে ১০ বছরের বাচ্চারা স্কুলে গেলে হয়তো মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যে কেউ আক্রান্ত হলেই যে প্রথম দিনেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া চিকিৎসা নেই না। এক, দুই দিন পর দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু এবারে মূল ক্ষতিটাই হচ্ছে এটা। একদিন পরেই দেখা যাচ্ছে তার রক্তের চাপ বেড়ে যাচ্ছে, কিডনি খারাপ হয়ে যাচ্ছে, লিভার খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের মাল্টি অরগান ফেইলরের রোগী যখন আমাদের কাছে আসছে বিশেষ করে গ্যাসপিং নিয়ে, (অর্থাৎ তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন সময়) ব্ল্যাড পেশার নিয়ে। তখন তাকে আমি যত উন্নত চিকিৎসাই দেই না কেন, কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের আর বাঁচানো যাচ্ছে না। একটি সুখবর হচ্ছে বেশিরভাগ রোগীই সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরছে। আমরা খুব গর্বিত যে এমন ক্রাইসিস মুহুর্তেও সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্য থাতের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করতে পারছি। আমরা জনসচেতনতার জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের বলে দিচ্ছি, ডেঙ্গুর পরবর্তীতে যা হয় পোস্ট ভাইরাল এস্থেনিয়া (রোগীর দুর্বলতা বাড়ে)। এতে করে রোগী মাথা ঘুরে পড়ে গেল, এতে করে আরও একটা রোগে আক্রান্ত হবে। তাই ডেঙ্গু রোগীকে বেশি করে ফ্রুটস (তরল জাতীয় খাবার) খেতে হবে এবং বিশ্রামে থাকতে হবে।'

তিনি বলেন, 'ডেঙ্গু কিন্ত খুবই সাধারণ রোগ। ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত জ্বর। মানুষ যেমন বলে এটা ভাইরাস জ্বর তেমন চিকিৎসা লাগবে না। ডেঙ্গুও একটা ভাইরাস জ্বর। ডেঙ্গুর আবার কয়েকটা প্রকার আছে। যেমন- ক্ল্যাসিকেল ডেঙ্গু, হেমারেজিং ডেঙ্গু আরেকটি ডেঙ্গু শক সিন্ডোম উইথ মাল্টিপল কমপ্লিকেটস। যখন ডেঙ্গু হেমারেজিং, ডেঙ্গু শক সিন্ডোম হয় তখন কিন্তু আমরা চিকিৎসকরা অসহায়। সঠিক সময়ে ডেঙ্গু রোগী খুব কমই আসছে।' 

এই চিকিৎসক বলেন, 'যেগুলো ডেঙ্গু ক্ল্যাসিক রোগী তাদের ফ্লুইড ম্যানেজ করলেই সব ঠিক হয়ে যায়। কখনও কখনও ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তিও হতে হয় না। যদি এমন ডেঙ্গু রোগী আসে যে তার এনএসওয়ান পজিটিভ, মুখে খেতে পারছে, তাকে বলে দেই আপনি চাইলে বাসায়ও থাকতে পারেন। প্যারাসিটামসহ নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ্য হয়ে যাবে। তবে যখন রোগী খেতে পারছে না, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে তখন আমরা জাতীয় গাইড লাইনকে অনুসরণ করে ফ্লুইড ব্যালেন্স করছি। আবার যখন কমপ্লিক্যাটেট হয়ে যাচ্ছে তখন তো মাল্টি অর্গান ফেইলরের ক্রিটিক্যাল কেয়ারের ম্যানেজমেন্ট করতে হয়।'

তিনি বলেন, 'রোগীরা যখন অসুস্থ হচ্ছে তখন বুঝতে পারছে না কোথায় যাওয়া উচিত। নিকটতম স্বাস্থ্যকেন্দ্র অথবা যেকোনো চিকিৎসকের কাছে যেখানে যা পাচ্ছে যাচ্ছে। আসলে রোগীকে এমন একটি হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে যেখানে জীবন বাঁচানোর সকল আয়োজন আছে। তাহলে হয়তো ডেঙ্গু রোগে মৃত্যু ঝুঁকি কমবে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে ডেঙ্গুতে এতো আতঙ্কিত হবার কিছু নেই।'

ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, 'ডেঙ্গু রোগের ম্যানেজমেন্ট তো আহামরি কিছু না। মুখে খেতে না পারলে জাস্ট ফ্লুইড (তরল জাতীয় খাবার) খাওয়াতে হবে। এখন যদি সেই ফ্লুইড খাওয়ানোর পরেও রোগীর অবস্থা খারাপ হয় তখন ক্রিটিক্যাল কেয়ার, ভেন্টিলেটর লাগে, মনিটরিংসহ অনেক কিছু লাগে। তবে যখন রোগীর লিভার খারাপ হয়ে যায় তখন সে আর ডেঙ্গু রোগী থাকে না। যখন রোগীর ব্রেইন ইনফেকশন হয়ে যায় তখন এটা এনকাফ্লাইটিস হয়ে যাচ্ছে। কিডনি খারা হয়ে গেলে কিডনি ইনজুরি হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে ডেঙ্গুর কোন সম্পর্ক নেই। এর চিকিৎসাও আলাদা। কিন্তু শুধুমাত্র ডেঙ্গুর জন্য আহামরির প্রস্তুতির সুযোগ নেই। এটি একটি সামগ্রিক বিষয় এবং সামাজিক অসুখ। এখানে আমাদের, রাষ্ট্র, সমাজ, নগর, পরিবার, মানুষ সবাইকে পরিবর্তন হতে হবে।' 

তিনি বলেন, 'আমাদের নগরকে আরও পরিকল্পিত করতে পারি, জলাবদ্ধতা দুর করতে পারি, মানুষ যদি আরও সচেতন হয়, সবাই যদি ঘরে ঘুমানোর আগে স্প্রে করে রাখে কিংবা নিজের বাড়ি আঙ্গিনা পরষ্কার রাখে তাহলে সহজেই এ রোগ মোকাবেলা করা সম্ভব।'

রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল অবজারভার অনলাইনকে বলেন, 'ডেঙ্গু একটি স্বাভাবিক রোগের মতই। এটি নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারলে সহজেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীরা সুস্থ্য হয়ে যায়। ডেঙ্গুর মৃত্যুঝুঁকির মূল কারণ ডেঙ্গুতে রোগীর রক্তনালীর ছিদ্রগুলো বড় হয়ে যায়। সেই ছিদ্র দিয়ে রক্তের জলীয় উপাদান বের হয়ে যায়। ফলে রক্তচাপ কমে। এই অবস্থাকে বলে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম। মূলত এটাই ডেঙ্গুর মৃত্যুঝুঁকির মূল কারণ।' 

তিনি বলেন, 'ডেঙ্গু রোগের জন্য বিশেষ কোন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে না। যে চিকিৎসক ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন বা জানেন তাঁর কাছে সঠিক সময়ে গেলেই সুচিকিৎসা পাবে। ডেঙ্গু হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে এমন বাধ্যবাধকতাও নেই। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে ভর্তি হতে পারে। ডেঙ্গু হলে রোগীকে প্রথমেই সিবিসি এবং প্লাটিলেট টেস্ট করতে হবে। এছাড়া, ব্লাড সুগার, লিভারের পরীক্ষা যেমন- এসজিওটি, এসজিপিটি, এলকালাইন ফসফাটেজ ইত্যাদি করাতে হতে পারে। আবার চিকিৎসক যদি মনে করেন রোগী ডিআইসি জাতীয় জটিল কোন সমস্যায় আক্রান্ত সে ক্ষেত্রে প্রোথ্রোম্বিন টাইম, এপিটিটি, ডি-ডাইমার ইত্যাদি পরীক্ষা করাতে হতে পারে।' 

তিনি আরও বলেন, 'এসব টেস্ট দেশের যেকোনো হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করাতে পারবে।' 

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. গুলজার হোসেন বলেন, 'আমাদের দেশের অনেক চিকিৎসকই আছেন যারা সঠিকভাবে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন নয়। তবে ধীরে ধীরে যেহেতু এই রোগটি প্রকট আকার ধারণ করছে তাতে আমাদের দেশের সকল চিকিৎসকই এ বিষয়ে সকর্ত এবং সচেতন হবেন। এ বিষয়ে আমাদের চিকিৎসকদের কর্মশালাও হয়েছে।'

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft