For English Version
শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯
হোম সারাদেশ

দশ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্প ২২০০ টাকা

আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তার অনিয়মের তদন্ত শুরু

Published : Monday, 22 July, 2019 at 4:11 PM Count : 138

দশ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্প কেনার নামে অধীনস্থ আনসার কোম্পানি কমান্ডার, আনসার প্লাটুন কমান্ডার, ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার ও ইউনিয়ন সহকারি আনসার প্লাটুন কমান্ডারদের মাসিক সম্মানী ভাতা থেকে মাথা পিছু ২২০০ টাকা করে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। 

সোমবার পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিজুস চন্দ্র দে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করেন। 

এ সময় উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ইসমেত আরা তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিজুস চন্দ্র দে বলেন, যে সকল ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন তারা আজ উপস্থিত হননি। কিছু আনসার সদস্য ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাদের নিকট থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগীরা এসে অভিযোগ করলে ইসমেত আরার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এদিকে, অভিযুক্ত আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা ইসমেত আরা সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। ভবিষ্যতে ফলোআপ খবর প্রকাশসহ কোন ক্ষতি না হওয়ার শর্তে রোববার ইসমেত আরা স্থানীয় এক সাংবাদিককে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন। 

সোমবার তদন্ত সম্পর্কে জানতে ইসমেত আরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ প্রতিনিধির কাছে ওই সাংবাদিকের হাতে টাকা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আবার আমাকে কেন বিরক্ত করেন? আমিতো আপনাদেরকে খুশি করেছি, ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি। সব সাংবাদিক এক না এবং সবাই টাকা খায় না এমন কথার পর ওই সাংবাদিকের কাছে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা ফেরত চান ইসমেত আরা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা ইসমেত আরার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আনসার সদস্যদের মাসিক সম্মানী ভাতা, পূজা ও নির্বাচনী ডিউটির টাকা থেকে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। 

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ এলাকায় আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা ইসমেত আরার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করে জানতে পারেন তিনি (ইসমেত আরা) একের পর এক ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডারকে ডেকে মাস্টার রোলে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের প্রাপ্ত মাসিক সম্মানি ভাতা থেকে উৎকোচ রেখে দিচ্ছেন। এ সময় সাংবাদিকরা তার কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে পরিচয় দিয়ে উপস্থিত ইউনিয়ন আনসার, প্লাটুন কমান্ডার ও ইউনিয়ন সহকারি আনসার প্লাটুন কমান্ডারদের কাছে তাদের প্রাপ্য সম্মানী ভাতার পরিমাণ জানতে চান। 

নাজিরপুর ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. ওবায়দুল ইসালাম জানান, তার প্রাপ্য সম্মানী ৭ হাজার ২শ টাকা। কিন্তু তাকে দেয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা। 

একই অভিযোগ করেন দাশপাড়া ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার গোপাল কৃষ্ণ সাহা ও বগা ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার আমিনুল ইসলাম।

তখন আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ইসমেত আরাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “অফিসিয়াল কিছু খরচপাতি আছে এ জন্য ওই টাকা রাখা হয়েছে।”

কিসের খরচ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রেভিনিউ স্ট্যাম্পের খরচ এরপর কল্যাণ তহবিল।”

রেভিনিউ স্টাম্পের দাম কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “১০টাকা।”

কল্যাণ তহবিলে কত জমা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কল্যাণ তহবিলে ৫ টাকা জমা হয়।”

তাহলে বাকি ২১৮৫ টাকা কোথায় যায়? এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দেননি।

অক্টোবর ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত মোট ৬ মাসের সম্মানী ভাতা প্রদানের মাস্টার রোলে দেখা গেছে, প্রত্যেক উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডারের জন্য বরাদ্দকৃত সম্মানী ভাতার পরিমাণ লেখা রয়েছে ৯ হাজার টাকা, উপজেলা আনসার সহকারি কোম্পানি কমান্ডারের ৭ হাজার ৮শ টাকা, ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডারের ৭ হাজার ২শ ও ইউনিয়ন সহকারি আনসার প্লাটুন কমান্ডারের ৬ হাজার টাকা। ওই মাস্টার রোলে বিভিন্ন পদ মর্যাদার মোট ৩৩ জন আনসার কমান্ডারের নাম এবং বরাদ্দ কৃত টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা রয়েছে। 

এসব বিষয় নিয়ে একাধিক পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

-এএস/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft