For English Version
শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
হোম সারাদেশ

'হামার সউগ ভাসি গেলো বাহে'

Published : Saturday, 20 July, 2019 at 7:24 PM Count : 122

শহর আলী সব কিছু হারিয়ে প্রায় দেড় যুগ আগে ব্রহ্মপূত্র নদে জেগে উঠা চর ঘুঘুমারীতে আশ্রয় নেন। বাড়ির চারিদিকে সারি-সারি গাছ। ছায়া-শীতল পরিবেশে ব্রহ্মপূত্রের বুকে নির্বিঘ্নে স্ত্রী,দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে ব্রহ্মপূত্রের পানি ফুলে ফেঁপে উঠে। তার মতো চরের সব বাসিন্দারাই পানিবন্দি হয়ে পড়েন। পানির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকলেও ভাঙ্গনে হারিয়ে যায় ভিটে মাটি। 

শহর আলী বলেন, ‘সউগ (সব) ভাসি গেলো বাহে (ভাই)। হামার (আমার) আর কিছুই থাকিল নে। খামোয় (খাবো) বা কি আর থাকমোয় (থাকবো) বা কটে (কোথায়)। কাইও (কেউ) হামার এ্যটে (এখানে) খোঁজ নিবার আসিল না’।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রহ্মপূত্র নদ বিচ্ছিন্ন সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চর ঘুঘুমারী, সুখের বাতির চর, চর গেন্দার আলগা, উত্তর গেন্দার আলগা, নামাজের চরের শত শত ভিটেমাটি হারা মানুষের আহাজারী কেউ শুনতে পান না। 

উপজেলার ব্রহ্মপূত্র নদ বিচ্ছিন্ন সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ৫টি চরে পানির তীব্র স্রোত ও ভাঙ্গনে গত ৩ দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙ্গনের হুমকির মুখে রয়েছে আরও ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি।

শনিবার সরেজমিনে গেন্দার আলগা চরে গিয়ে কথা হয় কুদ্দুস মিয়ার (৮০) সঙ্গে। তিনি বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে তীব্র স্রোত আর ভাঙ্গন শুরু হয়। আকস্মিক ভাঙ্গন শুরু হলে মুহুর্তে ঘরবাড়ি স্রোতে ভেসে যায়। কোন রকমে একটা ঘরের চাল রক্ষা করতে পারলেও সব কিছু চোখের সামনে নদীতে ডুবে যায়। 

সুখেরবাতির চরের আব্দুল হাকি (৭৫) বলেন, কংক্রিটের সিড়ির উপর বানানো ৩টি টিনের ঘর চোখের পলকেই নদীতে ডুবে গেল। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। 

একই কথা জানান উত্তর গেন্দার আলগার আব্দুস ছালাম (২৫), ছোমেদ আলী (৫৫), সোনা মিয়া (৩২), চর গেন্দার আলগার আবু সাঈদ (৩৫), হামেদ আলী (৬২) সহ আরও অনেকে।

এসব চরের শত শত মানুষের ভিটেমাটি ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। পানির প্রবল স্রোতে চোখের সামনে নিমিষেই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে এসব অসহায় মানুষের সহায় সম্বল। বন্যা আর ভাঙ্গনে এসব পরিবার এখন সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

দূর্গতদের অভিযোগ, সরকারি পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি এখন পর্যন্ত এসব এলাকা পরিদর্শন করেননি। 

৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের বলেন, আমার এলাকার মানুষের বাড়িঘর নদীতে ভেসে যাচ্ছে, অথচ কিছুই করতে পারছি না। 





সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিক মন্ডল বলেন, গত ৩ দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়িসহ গাছপালা নদীতে ভেসে গেছে। ভাঙ্গনের শিকার নিঃস্ব পরিবারগুলোর জন্য ৩ মে. টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।  

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের বলেন, গৃহহীনদের তালিকা তৈরি করে বন্যা পরিবর্তী সময়ে ঘরবাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।  

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাঙ্গলেও আমাদের কিছুই করার নেই।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft