For English Version
সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
হোম সারাদেশ

সিরাজগঞ্জে বিপদসীমার ওপরে যমুনার পানি

Published : Monday, 15 July, 2019 at 11:00 AM Count : 100
সিরাজগঞ্জে বিপদসীমার ওপরে যমুনার পানি

এনায়েতপুরের ব্রাক্ষণগাঁতী এলাকা।

এনায়েতপুরের ব্রাক্ষণগাঁতী এলাকা।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা, করতোয়া, ফুলজোড়, বড়াল, হুরাসাগর গুমানী নদীসহ জেলার সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। 

সোমবার সকালে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম।

এদিকে, জেলার সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। যে কারণে এ সকল এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। 

এছাড়াও, পানি বৃদ্ধির ফলে কাজিপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি এবং চৌহালী উপজেলা ও এনায়েতপুরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সবধরনের প্রস্তুতি রেখেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। 

সূত্র থেকে জানা যায়, পানি বৃদ্ধির ফলে চৌহালী উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলে খাষপুকুরিয়া, শাকপাল, রেহাইপুখুরিয়া, মিটুয়ানি, বাঘুটিয়া, চরসলিমাবাদ ও ভুতের মোড় এলাকায় নদী ভাঙ্গছে। বর্ষা যতই ঘনিয়ে আসছে নদী ভাঙ্গন ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও সদিয়াচাঁদপুর ও স্থল ইউনিয়নে চলছে যমুনার ভাঙন। যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত রেহাইপুখুরিয়া গ্রাম থেকে দক্ষিণে ভুতের মোড় পর্যন্ত ৯টি গ্রামের অর্ধশতাধিক বসতভিটা, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকশ’ শতাধিক হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। 

কাজিপুরে যমুনা নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে কাজীপুরে এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মাইজবাড়ি ইউনিয়নের শ্রীপুর, বদুয়ারপাড়া, সুতানারা, নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের ফুলজোড়, ঘোড়াগাছা, দাদবোরা, খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের খিরাইকান্দি, মেওয়াখোলাসহ চরাঞ্চলের প্রায় ১৪টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। 

এছাড়া, চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। 

সিরাজগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে কাজিপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে কাজিপুরের ঢেকুরিয়া ইকোপার্ক এলাকার ওয়াপদা বাঁধের ও নদী তীর সংরক্ষণ কাজের বিভিন্ন স্থানে ধসে গিয়ে ফাটল ধরেছে। একই পয়েন্টের রাস্তার নিচু অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে। এতে করে প্রচন্ড ঝুঁকিতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঢেকুরিয়া হাটসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মাইজবাড়ি ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম জানান, পানিবৃদ্ধি ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে  পানি উপচে ঢেকুরিয়া হাটে প্রবেশ করবে।’ 

এদিকে, চরাঞ্চলের বেশকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি থাকায় শিক্ষার্থীরা যেতে পারছে না। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এলিজা সুলতানা জানান, এখনো বন্যায় স্কুল বন্ধ না হলেও রাস্তাঘাটে পানি ওঠায় এবং বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে বলে জানতে পেরেছি।

শাহজাদপুর উপজেলার উল্টাডাব, পূর্বচর কৈজুরী, পার-জামিরতা, জামিরতা, কাশিপুর, বর্ণিয়া, গালা ও সোনাতুনীর দুর্গম চরাচঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে এবং যমুনা নদী  ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এছাড়া এনায়েতপুরের ব্রাক্ষণগাঁতী এবং হাটপাচিল এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। সেই সঙ্গে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। আমাদের আগাম প্রস্ততি হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলে নদী ভাঙ্গন রোধে চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, জেলায় প্রায় ৮৫ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৫ কিলোমিটার এলাকা স্থায়ী ভাবে নদী ভাঙ্গন রোধে সক্ষম হয়েছি। আরও দুটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে আমরা আরও প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা স্থায়ী নদীভাঙ্গন রোধ করতে সমর্থ হবো। যমুনা নদীর ডান তীর ব্রহ্মপুত্র বাঁধসহ জেলার অন্যান্য সকল বাঁধ রক্ষায় সতর্ক নজরদারী রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. ফিরোজ মাহমুদ জানান, বন্যা বিষয়ে আমাদের সকল প্রস্ততি রাখা আছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারদেরও সার্বক্ষণিক নজর রাখতে বলা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম জানান, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুদসহ বন্যার বিষয়ে আমাদের আগাম সকল প্রস্ততি রাখা আছে। 

-এবি/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft