For English Version
সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
হোম সারাদেশ

ভোলায় বাণিজ্যিক ভাবে বাড়ছে টার্কি পালন

Published : Sunday, 14 July, 2019 at 12:13 PM Count : 171

ভোলায় টার্কি মুরগী পালনে বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন খামারীরা। এর মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখছেন তারা। অল্প খরচ ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় টার্কি পালনে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয়দের। ফলে দিন দিন ভোলায় টার্কি পালন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 

সরেজমিনে জেলার সদর উপজেলা ও দৌলতখান উপজেলার বিভিন্ন টার্কি খামার ঘুরে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে টার্কির বাচ্চা ও ডিম সংগ্রহ করে তা মাচা ও লিটার পদ্ধতিতে সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেয় বেসরকারী এনজিও গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা। এর ধারাবাহিকতায় প্রথম বছর ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলায় অতি দরিদ্র ১০ সদস্যকে বিনামূল্যে ২০টি করে টার্কির বাচ্চা সরবরাহ করে এনজিওটি। ১ বছর প্রতিপালনের পর এক একটি টার্কি মুরগী পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি করেন। স্বল্প সময় এবং কম খরচে মাংস ও ডিম উৎপাদন করে লাভবান হন তারা। লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিক ও পারিবারিকভাবে টার্কি মুরগী পালন প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে। বর্তমানে এনজিওটি ২০০ খামারিকে টার্কির বাচ্চা সরবরাহ করে। পাশাপাশি টার্কি পালনে প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও অর্থিক সহায়তা দিচ্ছে তারা। ফলে দিন দিন ভোলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে টার্কি পালন। 

ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কৃষক দুলাল মাতবর। কৃষি জমিতে ধান চাষ করতেন। গত কয়েক বছর অসময়ের ঝড়, বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে মূলধন হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন তিনি। এরপর গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় তিনি শুরু করেন টার্কি মুরগী পালন। অল্প সময়ের মধ্যেই সাফল্যের মুখ দেখেন দুলাল মাতবর। তার দেখাদেখি অনেক বেকার যুবক উৎসাহিত হয়ে টার্কি পালন শুরু করে।  

লেয়ার ও বয়লার মুরগি পালনের বিকল্প হিসেবে টার্কি মুরগি পালন করে লাভবান হচ্ছেন বলে জানান সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের খামারি মো. জসিমউদ্দিন। 

তিনি আরও জানান, যেখানে লেয়ার বা বয়লার মুরগিকে ফিড খাওয়ানোর ক্ষেত্রে একজন পোল্ট্রি খামারিকে হিমশিম খেতে হয়। সেখানে ফিডের পরিবর্তে সবুজ ঘাঁস শাক-সবজি, লতা-পাতা হচ্ছে টার্কির জন্য উত্তম খাবার।

দৌলতখান উপজেলার টার্কি খামারী মালা বেগম ও মো. রহিম সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ মুরগির তুলনায় টার্কি মুরগি দ্রুত বাড়ে। তুলনামূলক ৫০টি বয়লার মুরগির ফিড দিয়ে ১ হাজার টার্কি পালন করা সম্ভব বলে জানান তারা। ফলে স্বল্প সময় ও অল্প খরচে মাংস ও ডিম উৎপাদন করে তারা লাভবান হচ্ছেন। তাছাড়া মোরগ টার্কিগুলো ময়ূরের মতো পেখম তুলে ভাব প্রদর্শন করে যা অনেকের দৃষ্টি কাড়ে। অনেক দূর থেকে লোকজন দেখতে এসে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন টার্কি খামার গড়ে তোলার জন্য।

বেসরকারী এনজিও “গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা”র নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন জানান, এক বছর আগে ভোলায় ৫০০ টাকা কেজি দরে টার্কির মাংস বেচাকেনা শুরু হলেও এখন তা ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ টার্কির মাংসে কোলস্টেরলের পরিমাণ কম থাকার পাশাপাশি গরুর মাংসের চেয়ে এতে বেশি প্রোটিন রয়েছে। টার্কি পালন এবং এর মাংস জনপ্রিয় করতে সংস্থাটি ভোলায় ৩টি টার্কি খামার স্থাপন করে। এছাড়া দেড় হাজার ডিম ফোটানোর ক্ষমতাসম্পন্ন একটি হ্যাচারীও স্থাপন করে তারা। যার মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় খামারিদের বাচ্চা সরবরাহ করার পাশাপাশি কারিগরী সহায়তা প্রদান করা। 

তিনি আরও জানান, টেকসই দারিদ্র বিমোচন ও সক্ষম উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে নেয়া “গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা”র উদ্যোগটি এরই মধ্যে সাফল্যের মুখ দেখেছে। এতে করে একদিকে যেমন প্রান্তিক পর্যায়ে টার্কি পালন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, অন্যদিকে খামারিরা লাভবান হচ্ছে।

ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইতিমধ্যে শতাধিক টার্কি খামার গড়ে উঠেছে। টার্কি পালন সম্প্রসারণে সার্বিক সহযোগিতা, স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এছাড়া ভোলায় প্রান্তিক পর্যায়ে টার্কি পালন জনপ্রিয় করতে “গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা” প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। ফলে দিন দিন টার্কি পালন ভোলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

-এএম/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft