For English Version
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯
হোম জাতীয়

তুরাগে লাগামহীন মাদক-ছিনতাই-চাঁদাবাজী

Published : Monday, 8 July, 2019 at 10:14 PM Count : 327

ছোট বড় ৩৩টি গ্রাম নিয়ে গঠিত তুরাগ থানা এলাকা। বিশাল এই এলাকাটি সম্প্রতি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় বেড়েছে অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।  ফলে এলাকায় ঘন বসতি পাশাপাশি বেড়েছে গাড়ির সংখ্যাও। কিন্তু এখনও এখানে রয়ে গেছে পুরানো সেই সমস্যা মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজী ও জুয়া। তবে অতিসম্প্রতি এখানে বেড়েছে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজী। রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি গণপরিবহনের অনেক ব্যক্তি মালিকানায় থাকা গাড়ির পার্কিং করা হচ্ছে তুরাগের দিয়াবাড়িসহ পাশাপাশি এলাকাগুলোতে। কথা বলে জানা যায়, এসব গণপরিবহন ও ব্যক্তি মালিকানার গাড়ি থেকে বিপুল পরিমান চাঁদা আদায় করছে এক শ্রেণির অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেরা প্রভাবশালী নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাক চালকরা জানালেন, শুধু রাতের অন্ধকারে নয়, দিনে দুপুরে নিসঙ্কোচ চলে পুলিশের এই চাঁদাবাজী। 

তুরাগের দিয়াবাড়ি এলাকায় প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় ট্রাক প্রতি পুলিশকে দিতে হয় ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫শ টাকা পর্যন্ত চাঁদা। আর চাঁদা না দিলে চালকদের উপর চলে নির্যাতন যার ভুক্তভোগি চালকও কম নয়। 

তুরাগ-উত্তরা ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম জানান, তুরাগ থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যরা এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তিনি জানালেন শুধু ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান নয়, এখানে সবরকম যানবহনের চালক-মালিকদের দিতে হয় চাঁদা। আর অবৈধ যানগুলো চলছে মাসোহারা দিয়ে।

পাশাপাশি স্থানীয়রা রয়েছেন ছিনতাইকারী আতঙ্কে। সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলে থানা পুলিশ তৎপর থাকলেও প্রায়ই শোনা যায় ছিনতাইয়ের মত ঘটনা। অন্যদিকে মাদক তো এখানে সহজলভ্য। এখানে চলে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। আর এসবে যে প্রতিবাদ করবে তাকে হতে হয় নাজেহাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানালেন বাসার সামনে মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় তার ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল মাদকসেবীরা। 

সন্ধ্যার পর দিয়াবাড়ি, তারারটেক, চন্ডালভোগ, ষোলহাট্টি, রাজাবাড়ি, ধউর এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এতো গেল মাদক সেবীদের কথা। 

রানাভোলা, বাউনিয়া, তারারটেক, ফুলবাড়িয়া, রাজাবাড়ি, ষোলহাট্টি, তুরাগে এখন প্রকাশ্যেই চলে জুয়া। থানা পুলিশ ও স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী নেতাদের নিয়মিত চাঁদা দিয়েই প্রকাশ্যে বসছে এই জুয়ার আসর।

স্থানীয় বাসিন্দারা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সহ-সম্পাদক আবুল কালাম রিপন ও তুরাগ থানা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেন বললেন, মাদকবন্ধে সব রকম চেষ্টা বিফলে যাচ্ছে গুটি কয়েক স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে। তারা দীর্ঘদিন যাবত এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর ও যুবকদের দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। থানা পুলিশের অভিযানে ধরা পড়া ইয়াবা ব্যবসায়ীরা জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার শুরু করছে এখানে মাদক ব্যবসা। তারা বলেন, তুরাগে বস্তি ও ঘনবসতি গড়ে উঠায় মাদক, চুরি, ছিনতাই এখন মহামারির আকার ধারণ করেছে।

তুরাগের ৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন এ সকল সমস্যার কথা স্বীকার করে অবজারভারকে জানালেন, এলাকায় মাদকসেবীদের ব্যাপারে স্বজনপ্রীতি বেশী যার কারণে মাদকসেবীদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। বহিরাগত মাদক ব্যবসায়ীদের এখন মদদ দিচ্ছে স্থানীয় অনেকে। স্থানীয়রাও জড়িয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসায়। এসব বন্ধে থানা পুলিশের আন্তরিকতার সাথে তৎপরতা আরো বৃদ্ধি করার আহ্ববান জানান তিনি।

এব্যাপারে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল মোত্তাকিন ডেইলি অবজারভারকে বলেন, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে টহলপুলিশ চাঁদাবাজি করছে এমন কোনো অভিযোগ আমি পাইনি।  অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।  এছাড়া এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। মাদক কারবারীদের আটকের পর আমরা কোর্টে চালান করি।  সেখানে জামিন দেয়া না দেয়ার বিষয়টি কোর্টের এখতিয়ার।  সে এখানে তো পুলিশের কোনো ভূমিকা থাকে না।  

এমআরআর/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft