For English Version
বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯
হোম সারাদেশ

সড়ক আছে, সেতু নেই

Published : Sunday, 7 July, 2019 at 11:03 AM Count : 263

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার অন্তর্গত মশাখালী রেলওয়ে স্টেশন থেকে দক্ষিণে লংগাইর ইউনিয়ন দিয়ে বয়ে গেছে শিলা নদী। নদীতে সেতু না থাকায় উভয় পাশে পাকা সড়ক থাকা সত্বেও বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে উপজেলা সদর থেকে লংগাইর ও পাইথল ইউনিয়ন। 

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লংগাইর ইউনিয়নের মানুষ পাড় হয় শিলা রেলব্রিজ দিয়ে। মশাখালী রেলস্টেশন, বাজার, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় গ্রামের লোকজনসহ স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত করতে হয় এই ঝুঁকিপূর্ণ রেলব্রিজ দিয়ে। এই নদীর উপরে সড়ক সেতু না থাকায় রেলব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে নদীপাড়ে বসবাসরত সাধারণ মানুষসহ বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের। 

অতি দ্রুত ওই নদীর ওপর একটি সড়ক সেতু নির্মাণ করে ছাত্র-ছাত্রীসহ সকলের দুর্ভোগ লাঘব করার দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীসহ সকলের।

শিলা নদীটি লংগাইর ইউনিয়নের হাওয়াখালী, গোলাবাড়ী গ্রামের লোকজনকে আলাদা করে দিয়েছে।শুধু তাই নয় উপজেলা সদর থেকে শেষ প্রান্তে অবস্থিত ইউনিয়ন পাইথলকে এই একটি সেতু বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এখন পাইথল যেতে ২০ কিলোমিটারেরও অধিক পথ পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু এই সড়ক সেতু হলে দূরত্ব কমে আসবে ১০ কিলোমিটার।

স্কুল, মাদরাসা, কলেজ শিক্ষার্থীরা বহু কষ্টে রেলওয়ে ব্রিজ হয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে গেলেও ঝুঁকির কারণে বন্ধ হয়ে পড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া। এছাড়া জরুরী প্রয়োজনে কোনো রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিতে হলে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।  এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন দুই ইউনিয়নের লোকজনসহ ভুক্তভোগীরা।





হাওয়াখালীর গ্রামের আফাজ উদ্দিন (৭৬) বলেন, এখানে ৬ কোটি টাকার একটি ব্রীজ সেংশন হয়েছিলো। রেলের জায়গায় ব্রীজটির কাজ শুরু হলে পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাঁধের মাটি কেটে ঠিকাদার রাস্তা ভরাট করায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় লোকদের ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাঁধের একটি অংশ কেটে দেয়। কাটা বাঁধের জায়গায় স্থানীয় জনগণের অর্থায়নে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি ২০ ফুট দৈর্ঘের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এ যাবৎ তিনবার ব্রিজটি ভেঙ্গে গেছে। স্থানীয়রা আবার সংস্কার করেছে। সম্প্রতি ৬০ ফুট ব্রিজ তৈরির জন্য মাপ নিয়ে গেছে। ব্রিজ না থাকায় রেল লাইন ব্যবহারে এ যাবৎ কত লোকের প্রাণ গেছে তার হিসাব নেই।

গোলাবাড়ী গ্রামের কৃষক চাঁন মিয়া (৪৫), ইলিয়াস (৩৯) জানান, এ পর্যন্ত অনেকের মৃত্যু হয়েছে এই ঝুঁকিপূর্ণ রেল সেতু দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে। কিন্তু কি করবো এছাড়া তো উপায় নেই। কখন ট্রেন চলে আসে তার কোন ঠিক নেই। তার উপর রেল ব্রিজে কোন রেলিং নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন জানান, সীমানা জটিলতার কারণে ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে না, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একদিকে রেলের জায়গা ও অন্যদিকে আছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন একটি সুইচ গেইট। এ কারণে সীমানা জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপত্তিতে টেন্ডার হওয়া কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। পুনরায় জায়গা মাপা হয়েছে। ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। 

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft