For English Version
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯
হোম স্বাস্থ্য

অকেজো পড়ে রয়েছে গরীবের এ্যাম্বুলেন্স

Published : Friday, 5 July, 2019 at 11:27 AM Count : 81

গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব-অসহায় মানুষের দোরগোঁড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে গরীবের এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। যেন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা জরুরী অবস্থায় কম খরচে এই এ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসতে পারেন। কিন্তু বেশি দিন এই সুবিধাটি ভোগ করতে পারেননি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব-অসহায় মানুষরা। কারণ ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রদান করা এই এ্যাম্বুলেন্সটি কিছু দিন ব্যবহারের পর অকেজো হয়ে মুখ থুবরে পড়ে আছে। কোন কোন ইউনিয়নে এটি আবার ভাড়ার মাধ্যমে যাত্রীবহন করার কাজেও ব্যবহার হতে দেখা গেছে। 

তারই ধারাবাহিকতায় নওগাঁর রাণীনগরের ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে কয়েক বছর আগে প্রদান করা হয় ৮টি গরীবের এ্যাম্বুলেন্স। নতুন অবস্থায় কিছু দিন ব্যবহৃত হওয়ার পর বর্তমানে ৮টি এ্যাম্বুলেন্সই অকেজো হয়ে মুখ থুবড়ে পরে আছে। এতে করে গ্রামীণ জনপদের অবহেলিত লাখ লাখ গরীব-অসহায় মানুষ সরকারের এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামত কিংবা চালু করার কোন উদ্যোগ না নেয়ায় একদিকে যেমন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে অন্যদিকে এই প্রকল্পে বরাদ্দকৃত সরকারের লাখ লাখ টাকা নষ্ট হচ্ছে। 

জানা যায়, দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদের  মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লোকাল গর্ভন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি) প্রকল্প-২ এর আওতায় রাণীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৮টি গরীবের এ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি এ্যাম্বুলেন্স প্রায় দুই লাখের বেশি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়। বিশেষভাবে তৈরি ব্যাটারী চালিত এসব এ্যাম্বুলেন্স আনুষ্ঠাকিভাবে হস্তান্তর করা হয় পরিষদগুলোতে। গ্রামীণ জনপদের গরীব-অসহায় মানুষ এবং প্রসুতি মা, শিশুরা দ্রুত স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে এই উদ্দ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ্যাম্বুলেন্স তৈরিতে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করায় কিছু দিন ব্যবহারের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়ে এ্যাম্বুলেন্সটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। যার কারণে মুখ থুবরে পরেছে প্রকল্পটি। 

একাধিক এ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, এ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাটারীসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অকেজো পরে আছে। ব্যাটারীর দাম বেশি হওয়ায় এ্যাম্বুলেন্সগুলো কেউ মেরামত কিংবা চালু করার ব্যবস্থা করছেন না। এভাবে আর কিছু দিন পরে থাকলে হয়তো পুরো এ্যাম্বুলেন্সটিই নষ্ট হয়ে যাবে। তখন একে ভাংগারির দোকানে কেজি দরে বিক্রয় করতে হবে। এতে করে একদিকে যেমন  প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে, অন্য দিকে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্চা যাচ্ছে।

কাশিমপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর মোবারক হোসেন বলেন, আগে আমি পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে এই এ্যাম্বুলেন্সযোগে কম খরচে সহজেই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতাম। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে দেখছি এই এ্যাম্বুলেন্সটি আর চলছে না। গ্রামের গরীব-অসহায় মানুষরা অনেক কষ্ট করে তাদের পরিবারের অসুস্থ্য সদস্যদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। কিন্তু এই এ্যাম্বুলেন্সটি ছিলো আমাদের হাতের নাগালে। দিনে কিংবা মধ্যরাতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যখন রোগী নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতো তখনই আমরা ঘরের দুয়ারে পেয়েছি গরীবের এই এ্যাম্বুলেন্সটি। কিন্তু এখন আর সেই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। এই এ্যাম্বুলেন্সটি বর্তমানে অকেজো হওয়ায় গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব-অসহায় মানুষরা বর্তমানে বেকায়দায় রয়েছেন।

উপজেলার একডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম, কাশিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বাবু, মিরাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য চেয়ারম্যানরা বলেন, এ্যাম্বুলেন্সগুলোর ব্যাটারী নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অকেজো পড়ে আছে। এই এ্যাম্বুলেন্স মেরামত করার জন্য আমাদেরকে কোন বরাদ্দ কিংবা কোন ফান্ড প্রদান না করায় তা নষ্ট হওয়ার পর মেরামত করে চালু করা যাচ্ছে না। এই এ্যাম্বুলেন্সগুলো সচল করা অতি প্রয়োজনীয়। কারণ অনেক সময় জরুরী অবস্থায় গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক গরীব-অসহায় মানুষরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছার আগেই রাস্তার মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তাই সরকারের দ্রুত এই এ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ব্যবহার করা না হলে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হযে যাবে এটাই স্বাভাবিক। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত মেরামত করার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft