For English Version
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
হোম সারাদেশ

রিফাত হত্যাকাণ্ড

দুলাল ফরাজীর আস্কারাতেই রিফাত ও রিশানের বখে যাওয়া

Published : Monday, 1 July, 2019 at 6:12 PM Count : 185

ছেলেদের বখাটে পনায় বাবার ছিল প্রত্যক্ষ সমর্থন। কাউকে কুপিয়ে জখম অথবা মারধর কিংবা লাঞ্চিতের খবরে শাসন তো দূরে থাক, বরং সন্তানদের হেন অপকর্মে নিজেকে গর্বিত পিতা মনে করতে। বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি দুই সহোদর রিফাত ও রিশান ফরাজীর বাবা দুলাল ফরাজী সম্পর্কে এমন তথ্যই দিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। অনুসন্ধানে দুলাল সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুলাল ফরাজীর পৈত্রিক বাড়ি সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে বরগুনা পৌরসভায় ৪নং ওয়ার্ডের ধানসীঁড়ি সড়কে জমি কিনে বাড়ি তৈরী করেন দুলাল ফরাজী। সেখানেই পর্যায়ক্রমে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রিফাত রিশানের। বড় ছেলে রিফাত কিশোর বয়স থেকেই বখাটে স্বভাবের ছিল। মাধ্যমিকের স্তর অতিক্রমের আগেই পড়াশোনা সাঙ্গ হয় তার। ছোট ছেলে রিশান বরগুনা সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের ২য় বর্ষে অধ্যায়নত। পড়াশোনায় মেধাবী হলেও বড় ভাইয়ের আছর লাগে রিশানের দেহে। 

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের ‘বড় ভাই’ হওয়ার নেশায় পেয়ে বসে তাকেও। ‘বড় ভাই’ হওয়ার মিশনে কারণে অকারণে অথবা তুচ্ছ কোনো বড় ছোট বাছ বিছার ছাড়াই বিভিন্ন সময়ে নানা শ্রেণিপেশার লোকজনকে লঞ্ছিত করতে থাকে। এরই মধ্যে রিফাত শরীফ হত্যায় মূল অভিযুক্ত এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাকদব্যবসায়ী নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাত ফরাজীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। 

২০১৭ সালের দিকে তৈরী হয় নয়ন বন্ডের ০০৭ গ্রুপ। গ্রুপে সহযোগীদের পাশাপাশি যুক্ত হয় বেশ কিছু উঠতি তরুণ। এলাকায় নতুন কোনো তরুণের আকস্মিক আগমন ঘটলে তাঁকে বাধ্য করা হয় গ্রুপের সদস্য হতে। মাদক ব্যবসায়ী নয়নের সঙ্গে সখ্যতায় যোগ হয় নতুন মাত্রা। মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পরে রিফাত। এরপর আর পিছু ফিরে তাঁকাতে হয়নি। গ্রুপ নিয়ে প্রায় প্রতিদিন সহোদরদের নেতৃত্বে কলেজে ও বিভিন্ন ম্যাচে হানা দিয়ে ও ছাত্রদের মোবাইল জিম্মি করে অর্থ আদায় চলে। আর এসব অপকর্মের নালিশ আসলে বাবা দুলাল ফরাজী প্রথমে স্বীকারই করতেন না। তিনি বলতেন তাঁর ছেলেরা এমন কর্ম করতেই পারেনা। পরে প্রমাণ মিললেও সাফাই গাইতেন ছেলেদের পক্ষেই। 

কেজিস্কুল এলাকার বেশ কয়েকটি ম্যাচের ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিফাত রিশানের কাজই ছিল নিয়মিত ম্যাচে হানা দিয়ে মোবাইল ও ল্যাপটপ কেড়ে নেয়া। ম্যাচ মালিকদের বিষয়টি জানালে তারা রিফাতের বাবা দুলাল ফরাজীকে ডেকে পাঠাতেন। সব সময়ই দুলাল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলেদের সাফাই গাইতেন। শহরের কাঠপট্টি এলাকার বাসিন্দা আজীম মোল্লা জানান, মাস খানেক আগে দীঘির পাড় এলাকার তাঁর একটি ম্যাচ থেকে ১৪টি মোবাইল ও একটি ল্যাপটপ কেড়ে নেয় রিফাত বাহিনী। বিষয়টি বাবা দুলাল ফরাজীকে জানালে তিনি এর পক্ষে প্রমাণ চান। প্রমাণ দিলেও তিনি ছেলেদের পক্ষাবলম্বন করে নির্লিপ্ত থাকেন। পরে আড়াই হাজার টাকার বিনিময়ে একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। 

আজিম বলেন,‘ওদের বাবা দুলালের কারণেই আজ ছেলেদের এই দশা, ছেলেদের শাসন তো দূরে থাক, পক্ষ নিয়ে সাফাই গাইতেন। এমনকি লেলিয়ে দিয়ে অভিযোগকারীকে অপদস্তও করতেন। ক্রোক এলাকার জাকির হোসেন বলেন, এই এলাকার এমন কোনো ছাত্রদের ম্যাচ নেই যেখানে হানা দেয়নি দুলালের ছেলেরা। আমি বেশ কয়েকবার মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। দুলাল ফরাজীর আস্কারায় ছেলেরা দিনে দিনে  অপরাধ প্রবণতা বেড়ে আজ এতো বড় ঘটনার জন্মদিয়েছে। 
 
ধানসীঁড়ি সড়কের রিফাত রিশানের বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী কয়েকজনের সাথে কথা হয়। সড়কের দক্ষিণ প্রান্তের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দুলাল কোনো কাজকর্ম করতোনা। ছেলেদের দিয়ে এসব করিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সে টাকায় সে চলতো। যে কারণে ছেলেদের ব্যাপারে কেউ নালিশ নিয়ে গেলে তাঁকে উল্টো ছেলেদের সামনেই ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হতো। ওর ছেলেদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। 

ফেরার পথে কথা হয় একজন নারীর সাথে। দুলাল ফরাজী ও তার ছেলেদের সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই নারী বলেন, তিনি দুলাল ফরাজীর বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। ছেলেদের বিরুদ্ধে নালিশ এলে রিফাত ও রিশানকে বকঝকা করতেন মা রেশমা বেগম। দুলাল ফরাজী তখন ছেলেদের পক্ষ নিয়ে উল্টো তার স্ত্রীকে মারধর করতে। দুলাল ফরাজী ছেলেদের অপকর্মের পক্ষ নেয়া কারণ ছিল তার ছেলেরা ‘কামাইয়ের পুত’। 

বরগুনা জেরা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল অভিভাবকদের এমন নৈতিক অবক্ষয় সম্পর্কে বলেন, পারিবারিক অনুশাসন না থাকলে বেশীরভাগ সন্তানই বখাটে হয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা প্রমাণ করেছে আমাদের নৈতিক অবক্ষয় কতটা নিম্মগামী। এ ঘটনার জড়িতদের অনেক অভিভাবকই ছেলেদের ব্যাপারে উদাসিন ছিলেন। ঘটনাটি থেকে সব অভিভাবকের শিক্ষা নেয়া উচিত। 

এমএমএম/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft