For English Version
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯
হোম বিনোদন

দু'মাস ধরে সম্প্রচারে নেই নওগাঁর বরেন্দ্র রেডিও

Published : Tuesday, 25 June, 2019 at 10:54 AM Count : 92

নওগাঁর ‘কণ্ঠস্বর’ বলে খ্যাত ‘বরেন্দ্র রেডিও ৯৯.২ এফএম।’ গত ৮ বছর থেকে সফলতার সঙ্গে রেডিওটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি বজ্রপাতে রেডিওর একটি যন্ত্রের (ট্রান্সমিটার) ক্ষতি হয়েছে। ফলে দু'মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ হয়ে আছে রেডিও’র কার্যক্রম।

এতে কর্মহীন পড়ে পড়েছেন রেডিও’র সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৪ জন স্বেচ্ছাসেবী। রেডিওটি বন্ধ থাকার পেছনে কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকেই দায়ী করছেন সচেতন মহল।

জানা গেছে, বাংলাদেশে ১৮টি কমিউনিটি রেডিও’র মধ্যে একটি নওগাঁর ‘বরেন্দ্র রেডিও ৯৯.২ এফএম।’ জেলার মানবাধিকার সংস্থা ‘নওগাঁ মাববাধিকার উন্নয়ন সমিতি’ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেডিওটি অনুমোদন পায়। গত ২০১২ সালের ৮ মার্চ নওগাঁ শহরের উকিল পাড়া উত্তরা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ভবনের পঞ্চম তলায় রেডিও’র আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হয়। 

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সপ্তাহে ৪২টি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়ে থাকে। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার ব্যতিত ৮টি উপজেলা এবং বগুড়া জেলার আদমদীঘি, রাজশাহীর বাঘমারা এবং জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলাসহ মোট ১১টি উপজেলায় এ রেডিও শোনা যায়। প্রায় ৩৬ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ এ রেডিও শুনতে পায়।

রেডিওটি বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক, জনসচেতনতামূলক (পানি, স্যানিটেশন, বৃক্ষরোপণ), আদিবাসী (সাঁওতাল, পাহান), দারিদ্র্য বিমোচন, বিনোদনমূলক, নারী উন্নয়ন, মাদক, শিক্ষা ও ধর্মীয় এবং সর্বোপরি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচিকে সফলভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচার করে আসছে। 

নওগাঁ কৃষি নির্ভর জেলা। সে লক্ষ্যে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, চাষাবাদে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, সার, বিষ/বীজের প্রয়োগ ও জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ অনুষ্ঠান, স্থানীয় সংবাদ প্রচার করা হয়। এতে করে জেলাবাসীর কাছে রেডিওটি হয়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। এছাড়া রেডিওতে ২টি চাইল্ড ক্লাব এবং ২১টি শ্রোতা ক্লাব আছে।

রেডিও’র সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৪ জনের (১৫ জন নারী ও ১৯ জন পুরুষ) মধ্যে আটজনকে সামান্য সম্মানি ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে। বাকিরা স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে রেডিওটিকে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার, দেশি ও বিদেশী দাতা সংস্থা এবং সরকারি কিছু প্রকল্পের মাধ্যমে বিষয় ভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রোমো, নির্মাণ ও সম্প্রচারের মাধ্যমে আয় আসে। যা পর্যাপ্ত নয় বলে জানা গেছে।  

এতো সমস্যার মধ্যেও- কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ চারবার ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস, গাল পাওয়ার অ্যাওয়ার্ডস, সেমকা কমিউনিটি রেডিও অ্যাওয়ার্ডস, তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কমিউনিটি রেডিও অনুষ্ঠান নির্মাণ, বেষ্ট প্রডিউসার অ্যাওয়ার্ডসসহ স্থানীয় এবং জাতীয় বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছে রেডিওটি। সর্বশেষ ইউনিসেফ মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসে ২০১৮ সালে সারাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় পুরস্কার পায় রেডিওটি। 

গত ১৪ এপ্রিল রেডিওতে বজ্রপাতে সম্প্রচারের মূলযন্ত্র ট্রান্সমিটার পুড়ে যায়। ফলে গত দুইমাসের অধিক সময় থেকে রেডিও সম্প্রচার বন্ধ রেখেছে। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলেই রেডিও’র সমস্যা সমাধান করতে পারেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এমন উদাসিনতায় দীর্ঘ দিন থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি বলে মনে করছেন রেডিওর শ্রোতারা।

শহরের চকমুক্তার মহল্লার স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন জানায়, পড়াশুনার পাশাপাশি অবসর সময়ে রেডিওতে ‘দুরন্ত কথা, নারীর অধিকার ও সচেতনতামূলক’ অনুষ্ঠান শুনতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু প্রায় দুই মাস হলো রেডিও বন্ধ হয়ে আছে। এতে খুব খারাপ লাগছে। জানিনা কবে চালু হবে। 

নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রুমানা অরিন বলেন, নওগাঁর একমাত্র স্থানীয় গণমাধ্যম বরেন্দ্র রেডিও। সেই ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত শুনছি। মূলত নওগাঁর আঞ্চলিক ভাষা ‘কিংকর্তব্য বিমুঢ়’, বিনোদনমূলক ‘মন যা চায়’, মাদকবিরোধী ‘ফিরে এসো’, শিক্ষামূলক ‘আলোর ভুবন’ ও স্থানীয় সংবাদ শুনতাম। কিন্তু হঠাৎ করে রেডিও’র সম্প্রচার বন্ধ, এখনও চালু হয়নি। একটা মিডিয়া এতদিন বন্ধ থাকে, যা সত্যিই দুঃখজনক। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান কামনা করছি।

শহরের কালীতলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আজিবুর রহমান বলেন, কাজ শেষে বাসায় ফিরে সন্তানদের নিয়ে রেডিও শুনি। বিশেষ করে নওগাঁর স্থানীয় সংবাদ, কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান, সরাসরি অনুরোধের গানের অনুষ্ঠান এবং শিশু বিষয়ক অনুষ্ঠান যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। গত দুই মাস থেকে রেডিও শোনা যাচ্ছেনা। কর্তৃপক্ষ যদি নিজেদের খেয়ালখুশি মত পরিচালনা করে, তবে রেডিও শোনার দরকার নাই।

রেডিও’র সহকারী অনুষ্ঠান প্রযোজক শারমিন সুলতানা শশি বলেন, গত তিন বছর থেকে এ রেডিও’র সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি নিজেও সপ্তাহে দুইদিন ‘এক কাপ চা’ নামে একটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। গত ৩ বছরে তিন বার স্টেশনের সমস্যা হয়েছে। একবার সমস্যা হলে কমপক্ষে ২-৩ মাস রেডিও সম্প্রচার বন্ধ থাকে। এতে করে অনেক শ্রোতা ক্ষুদ্ধ হন। আবার অনেকে ফোন দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে রেডিও এভাবে বন্ধ থাকাটা খারাপ লাগে।

রেডিও স্টেশন ম্যানেজার সুব্রত সরকার বলেন, রেডিও’র যে যন্ত্রটি নষ্ট হয়েছে তা বাংলাদেশে পাওয়া যায়না। এটি ফ্রান্স থেকে নিয়ে আসতে হয়। এর দাম প্রায় দেড় লাখ টাকা। এছাড়া আনুষঙ্গিক খরচও আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকা খরচ হবে যন্ত্রটি এনে সের্টিং করতে। মোট কথা- ‘আর্থিক অনটনের কারণে যন্ত্রটি কেনা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে রেডিও সম্প্রচার বন্ধ আছে।’

বরেন্দ্র রেডিও’র চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ বলেন, সাময়িক সমস্যার জন্য আমরা দুংখিত। রেডিওর ট্রান্সমিটারে সমস্যা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি। কিছু দিনের মধ্যে হয়তো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। 

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft