For English Version
সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯
হোম অনলাইন স্পেশাল

মুন্সীগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ

Published : Monday, 24 June, 2019 at 10:30 PM Count : 332

মাদকের ছোবলে মুন্সীগঞ্জে বেড়ে গেছে অপরাধ প্রবণতা। কারো ভাঙছে সংসার, কেউবা স্বামীকে মাদকের টাকা দিতে না পরে নির্যাতনের শিকার হয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা, কাউকে গলাটিপে হত্যা, আবার মাদক সেবন বা বেচাকেনায় বাঁধা দেয়ায় হত্যা করার ঘটনা ঘটছে একের পর এক। 

র‌্যাব-পুলিশের ক্রস ফায়ারে জেলায় শীর্ষ কয়েকজন মাদক বিক্রেতা নিহত হলেও মুন্সীগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কর্মকা- প্রশ্নবিদ্ধ। শুধুমাত্র মাদক নিয়ে তাদের কাজ করার কথা থাকলেও মাদক উদ্ধারে তাদের ভুমিকা একেবারেই নেই। বরং সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং মাদকের স্পটগুলোতে তাদের পদচারণা আর মাসোহারা আদায়ের নানা অভিযোগ উঠেছে।  হয়রানির কারণে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শকের বিরুদ্ধে এক নারীকে ইয়ারা দিয়ে মামলা এবং তার বাড়িতে মেয়ের বিয়ে বাবদ গচ্ছিত ৪৫ হাজার টাকা লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল তদন্ত শুরু হয়েছে। 

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার নৈ-দিঘীরপাথর গ্রামের মো. দীন ইসলামের বাড়িতে গত ১০ ই জুন সকাল ৬টার দিকে অভিযানে নামেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) মো. জয়নুল আবেদীন। মাদক বিক্রির অভিযোগে দীন ইসলামের তৃতীয় লিঙ্গের ছেলে (হিজড়া) দীলরাজকে না পেয়ে তার স্ত্রী শহরবানু ময়না (৪৫)-কে পরিদর্শক ও উপ-পরিদর্শক আটক করে নিয়ে আসে এবং মারধর করে। এ সময় দীন ইসলামের মেয়ে নদিয়ার বিয়ে বাবদ ধারদেনা করা ৪৫ হাজার টাকাও নিয়ে নেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানকারীরা। এরপর শহরবানু ময়নাকে ২৬ পিস ইয়াবা দিয়ে আদালতে পাঠায় তারা। এরআগে শহরবানুকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনায় শহরবানুর স্বামী দীন ইসলাম মুন্সীগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এবং জানান, তার তৃতীয় লিঙ্গের ছেলে দীলরাজ এক সময় মাদক সেবন করতো। বর্তমানে দীলরাজ হাঁস-মুরগীর খামার চালায়। 

এরই মধ্যে মাদক মামলায় শহরবানু গত ১৬ ই জুন মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারা কর্তৃপক্ষ শহরবানু ময়নাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হ্নদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করেন মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার।

ওদিকে, মুন্সীগঞ্জ ধলেশ্বরী নদীর তীরের পুলিশ লাইনসের পেছনে হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক একটি লাইসেন্সধারী মদের দোকান রয়েছে। এই দোকানে কোন মুসলিমের কাছে এবং কার্ডব্যতিত কারও কাছে মদ বিক্রির পারমিশন নেই। কিন্তু জেলা মাদকদ্রব্য কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়ে এই মদের দোকানে সব ধরণের মাদকাসক্তের কাছেই মদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। 

মুন্সীগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. জয়নুল আবেদীন, উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল আলম, এএসআই মো. জামাল হোসেন এবং সিপাই মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ। তারা দিনরাত ছুটে চলেন মাদকব্যবসায়ী ও মাদকের স্পটগুলোতে। মাসিক চুক্তি, সাপ্তাহিক চুক্তি এবং দিনচুক্তির বখরা নিয়ে আসেন। জেলার কোথাও বড় বা মাঝারি মাদকব্যবসায়ীকে আটক বা তাদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করেছেন এমন নজির তারা দেখাতে পারেননি। অথচ অপরাধ দমনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব বিষয়ে কাজ করতে হলেও সরকার শুধুমাত্র মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর করেছেন মাদক নিমূর্ল নিয়ে কাজ করার জন্য। 

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের আটক করে এনে মাদকদ্রব্য কার্যালয় থেকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া। আবার আগে ব্যবসা করতেন, এখন করেন না-এমন লোকদের ধরে ইয়াবা দিয়ে আদালতের প্রেরণ এবং টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. হেলাল উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নের আমঘাটা গ্রামের হাশেম মিজির ছেলে মান্নান মিজি কয়েক বছর আগে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শকসহ অন্যান্যরা মান্নানকে একাধিকবার ধরে নিয়ে টাকা আদায়সহ শেষবার ৫পিস ইয়াবা দিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেয়। এমন যদি হয় তাহলে যারা ভালো হয়ে গেছে তারাতো আবারও মাদক ব্যবসা করবে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. জয়নুল আবেদীন জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত কোন অভিযোগই সত্য নয়। এছাড়া পরশবানু ময়নাকে তিনি ২৬ পিস ইয়াবাসহ মাদকবিক্রির ১ হাজার ২০ টাকাসহ আটকের কথা জানান। ময়নাকে কোন মারধর করা হয়নি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্তাধীন বিষয়ে তদন্তের পর জানা যাবে।  

পরিদর্শকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস এম সাকিব হোসেন জানালেন, পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী নরসিংদীর সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মহোদয়কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগীয় কার্যালয়ে দেয়া হবে। দোষ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে মে-এই ৫ মাসে তারা ৬ কেজি ৯৫ গ্রাম গাঁজা, ৭৩৭ পিস ইয়াবা, ২ গ্রাম ২০ পুরিয়া হেরোইন, ৫ বোতল ফেনসিডিল এবং মাদক বিক্রির ৩ হাজার ৪১৫ টাকা উদ্ধার করেছে। জেলায় তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে ১২০ জন। 

জেলা পুলিশের ক্রাইম শাখা জানিয়েছে, গত দুই বছরে জেলা পুলিশ ও র‍্যাবের ক্রস ফায়ারে ১২ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

এমএইচএস/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft