For English Version
সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯
হোম অনলাইন স্পেশাল

মামলা নয়, হেলমেটের নিরাপত্তা আগে!

Published : Sunday, 23 June, 2019 at 2:46 PM Count : 148
রিয়াল উদ্দিন


দুর্ঘটনায় নিরাপত্তার জন্য মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও দেশে যেসব হেলমেট পাওয়া যায় সেগুলোর অধিকাংশেরই সুরক্ষা প্রদান ক্ষমতা নেই।

এসব হেলমেটের ঝুঁকি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোমেডিসিন ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এম. ফরহাদ অবজারভার অনলাইনকে বলেন, হেলমেট নামের এসব টুপি পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়লে মাথায় আঘাত পেয়ে মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এমনকি পর্যাপ্ত প্রতিরোধ স্তর না থাকা এসব হেলমেটের হালকা প্লাস্টিক আবরণ ভেঙ্গে মাথা, চোয়ালের মধ্যে এর টুকরা ঢুকে জীবনহানির আশংকাও অমূলক নয়।

গত বছরের শেষ দিকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর থেকে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশ কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মাথায় হেলমেটবিহীন মোটরবাইক চালক বা আরোহীকে রাস্তায় পেলেই মামলা দিচ্ছে পুলিশ। মোটরযান আইনের ১৩৭ ধারার অধীনে প্রণয়ণ করা বিধির ক্ষমতায় এসব মামলায় ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে ফুয়েল পাম্প স্টেশনগুলো হেলমেট ছাড়া কোন মোটরবাইকে জ্বালানী তেল দেয় না। স্বাভাবিক ভাবেই বিশেষত ঢাকা মহানগরীতে হেলমেটের ব্যবহার বহুগুণে বেড়ে গেছে।

মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং জনপ্রিয় হতে থাকায় রাজধানীতে প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে। বিআরটিএ'র হিসেবে রাজধানীতে এখন ১৬টি রাইড শেয়ারিং কোম্পানির অধীনে ১ লাখ ৪ হাজার ৩শ’ ৮৯টি মোটরসাইকেল চলছে। যাত্রীদের অভিযোগ, রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো যেসব হেলমেট সরবরাহ করছে তা খুবই নিম্নমানের ও অনিরাপদ।

অন্যদিকে, রাইড শেয়ারিং বাইকচালকরা বলছেন, ভালোমানের এবং নিরাপদ হেলমেট যাত্রীদের দিলে পড়তে চায় না। হেলমেটগুলো একাধিক যাত্রী ব্যবহার করায় ঘেমে যায়। এতে একজনের ব্যবহার করা হেলমেট অন্যজন পড়তে চায় না। পরে মামলা খেতে হয়। বাধ্য হয়েই টুপির মতো সস্তা সংক্ষিপ্ত হেলমেট ব্যবহার করতে হচ্ছে।

চাহিদা বাড়ায় রাজধানীর দোকানগুলোতে কম দামের হেলমেটগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে ২৫০ টাকা থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত দামের হেলমেট বিক্রি হয়। তবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দামের টুপি সদৃশ্য হেলমেটগুলোই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

হেলমেট আমদানিকারক মো. আবুল আয়েস খান বলেন, এগুলো শুধু ট্রাফিক পুলিশের জরিমানার হাত থেকে মোটরসাইকেল চালককে রক্ষা করলেও  কোনো নিরাপত্তা দেয় না। নিম্নমানের যেসব হেলমেট এখন বাজারে আছে, সেগুলো পরার কোন মানে হয় না।

ডিএমপির ট্রাফিক (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এস এম মুরাদ আলি অবজারভার অনলাইনকে বলেন, মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত হেলমেটের সঠিক কোন স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করা হয়নি। একটা স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ দিলে আমরা তা নিশ্চিত করতে পারবো। তারপরও এখনও অনেককেই ধরে ধরে এ বিষয়ে নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা দেয়া হচ্ছে।

২০১৬ সালে ইউনাইটেড ন্যাশনস ইকোনমিক কমিশন ফর ইউরোপ (ইউএনইসিই) মোটরসাইকেলের হেলমেট সমীক্ষা শীর্ষক একটি গবেষণা করে। এতে বলা হয়, দুর্ঘটনায় অন্যান্য যাত্রীবাহী গাড়ির চেয়ে মোটরসাইকেলচালকের মৃত্যুর আশঙ্কা ২৬ গুণ বেশি। সঠিক মানের একটি হেলমেট ব্যবহার করলে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ বেড়ে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ২০২০ সালের মধ্যে নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহারের কারণে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৬৩ হাজার থেকে ২ লাখ ১৪ হাজারে। আর শুধুমাত্র সঠিক মানের হেলমেট ব্যবহার করেই বাঁচানো সম্ভব ৬৯ থেকে ৯০ হাজার আরোহীকে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) তথ্যমতে, গত ১৫ বছরে সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ৮৮ শতাংশেরই কোন হেলমেট থাকে না।

এআরআই আরও বলছে, বাংলাদেশে ব্যবহৃত হেলমেটের বেশিরভাগই দুর্ঘটনায় সুরক্ষা দেবে না।

বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশে ব্যবহৃত হেলমেট মানসম্মত নয়। এসব হেলমেট দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা দেবে না। মাথাসহ ফুল ফেইস অথবা চোয়াল পযন্ত থাকে এসব হেলমেট গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এখন টুপির মত  যেগুলো ব্যবহার করছে সেগুলো গ্রহণযোগ নয়। এগুলো অনিরাপদ হেলমেট।

মোটরসাইকেলে অতিষ্ঠ পুলিশ-পথচারী


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft