For English Version
সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
হোম অনলাইন স্পেশাল

মোটরসাইকেলে অতিষ্ঠ পুলিশ-পথচারী

Published : Wednesday, 19 June, 2019 at 1:19 PM Count : 258
রিয়াল উদ্দিন

রাজধানীতে চলাচলকারী লাগামহীন মোটরসাইকেল নগরবাসীর কাছে এখন রীতিমত আতঙ্ক। গণপরিবহনের অপ্রতুলতা ও যানজট এড়িয়ে চলতে গত কয়েক বছরে জ্যামিতিক হারে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন দেশে গড়ে ১ হাজার ৩৫টি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়কে এলোমেলো চলাচল আর মোড়ে মোড়ে জটলা। এতে অতিষ্ট হয়ে পড়ছে পুলিশ ও পথচারী।

রিকশার বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। মোটরসাইকেলের এমন বেপরোয়া চলাচলে লাগাম টেনে না ধরলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি রোধে ২০১২ সালে হাইকোর্ট বিভাগ ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো অবৈধ ঘোষণা করে। সে সময় চালকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। এতে তেমন কাজ না হওয়ায় পরে কোনো অবস্থায়ই পায়ে হাঁটার পথে মোটরবাইক চলবে না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। এ আদেশের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। প্রথমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। পরে অ্যাকশন হিসেবে মামলা দেয়া শুরু করে।

মোটরযান অধ্যাদেশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অ্যাক্ট অনুযায়ী, রাস্তায় বা জনগণের চলার জায়গায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। যদি কেউ জনগণের স্বাভাবিক চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তাকে জেল, আর্থিক জরিমানা অথবা জেল ও জরিমানা উভয়ই করতে পারবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ৩৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ তে।

তবে এসব আইন-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করছেন না মোটরসাইকেল চালকরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই রাজধানীর প্রায় সব রাস্তায় চলছে বেপরোয়া মোটরসাইকেল।

ডিএমপির ট্রাফিক (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এস এম মুরাদ আলি অবজারভার অনলাইনকে বলেন, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মোটরসাইকেল চালকরা সুযোগ পেলেই আইন ভাঙ্গে। একটা ধরলে পাচঁটা পালিয়ে যায়। যে হারে রাজধানীতে মোটরসাইকেল বৃদ্ধি পাচ্ছে এ গতিকে নিয়ন্ত্রণে না নিলে এ যানবাহন রাজধানীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, এলোমেলো চলাচল, ফুটপাতে বাইক চালানো, ট্রাফিক সিগন্যালের সময় জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর মোটরসাইকেল থামানো, সামনে থাকা যানবাহনকে ওভারটেকিং করার সুযোগ না থাকলেও মোটরসাইকেল যাওয়ার জায়গা করে দেওয়ার জন্য অযথা হর্ন বাজিয়ে সংকেত দেওয়াসহ নানা অনিয়মে লাগামহীন হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল।

সরেজমিনে রাজধানীর ফার্মগেট থেকে পান্থপথ, গুলিস্তান, পল্টন, মালিবাগ, মগবাজার ফ্লাইওভার, খিলগাঁও ফ্লাইওভার, রামপুরা, মৌচাক, বাড্ডা, কুড়িল, গাবতলী, শ্যামলী ও নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চালানোর চিত্র প্রত্যক্ষ করা গেছে।

নিজেদের দোষের কথা স্বীকার করে মোটরসাইকেল চালক আতিক হাসান বলেন, রাস্তায় অনেক জ্যামের কারণে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত গন্তব্যে পৌছাঁতে ফুটপাত দিয়ে চলতে হয়। একজন উঠলে পিছনে সকলেই যেতে থাকি। এভাবে চলা ঠিক নয় বুঝতে পারছি।

মোটরসাইকেল চালকদের এমন বেপরোয়া গতিতে অতিষ্ট পথচারীরা। তারা বলছে, শুধু আইন করেই থেমে থাকলে হবে না, আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রিয়াজ মাহমুদ অবজারভার অনলাইনকে বলেন, ‘ফুটপাতে মোটরসাইকেলের উৎপাতে চলাচল করাই মুশকিল। সরকার এর বিরুদ্ধে আইন করছে, এটা খুবই ভালো। কিন্তু আইন করলেই শুধু হবে না। এর প্রয়োগ করতে হবে। তবেই এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে জনগণ।’

রাজধানীতে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং চালু করায় প্রতিনিয়তই এর সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর তথ্য মতে, ঢাকা কার্যালয় থেকে ২০১৬ সালে ৫৩ হাজার ৭৩৮টি, ২০১৭ সালে ৭৫ হাজার ২৫১টি, ২০১৮ সালে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৪টি, ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ২৩ হাজার ৭’শ ৫৫টি বাইকের নিবন্ধন দেয়া হয়।

সংস্থাটির হিসাবে, রাজধানীতে এখন ১৬টি রাইড শেয়ারিং কোম্পানির অধীনে ১ লাখ ৪ হাজার ৩শ ৮৯টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

বিআরটিএ'র রোড সেফটির পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বনী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাইকগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। রাজধানীতে যেসব সকল রাইড শেয়ারি কোম্পানি রয়েছে এদেরকে নীতিমালার মধ্যে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালকরা প্রতিনিয়ত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করছে। যার ফলে সড়কে ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঢাকা শহরে সড়কের উল্টোদিক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সর্বাধিক। 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সংঘটিত ২ হাজার ৯শ ১৭টি দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল ৬শ ৩৭টি।  ২০১৮ সালে ৫ হাজার ৫শ ১৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে মোটরসাইকেলে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বাইরে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলগুলোকে রাজধানীর রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত করায় মোটরসাইকেলের দৌড়াত্ম বেড়েছে।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক বলেন, এমনিতেই গাড়ির তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য ধাক্কা লাগলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই মোটরসাইকেল যদি আবার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে, প্রতিযোগীতা করে চালায় তবে তা আরও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব অবজারভার অনলাইনকে বলেন, সড়কের ক্যাপাসিটির কথা না ভেবেই এভাবে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে অনুমোদন দেয়ায় সড়কে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় যারা মোটরসাইকেল চালাচ্ছে তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশের লাইসেন্স নেই। এরা রাস্তা এবং ফুটপাতের জন্য ভয়ংকর। নিজেরা দুর্ঘটনায় পড়ছে, অন্যদেরও দুর্ঘটনায় ফেলছে। এদের বেপরোয়া গতি প্রতিরোধে এককভাবে না ধরে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে নীতিমালার মধ্যে আনতে হবে।  লাইসেন্সবিহীন চালক রাস্তায় যাতে নামতে পারবে না তা নিশ্চিত করতে হবে। সিসি ক্যামারার মাধ্যমে ভিডিও মামলা জোরদার করতে হবে।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft