For English Version
মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৯
হোম সারাদেশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

গজারিয়ার কান্না ১৩ ব্লাক স্পট, নেই ফুট ওভারব্রিজ

Published : Tuesday, 11 June, 2019 at 6:08 PM Count : 630

গজারিয়ায় ১৩ ব্লাক স্পট চিহ্ন, নেই ফুট ওভারব্রিজ

গজারিয়ায় ১৩ ব্লাক স্পট চিহ্ন, নেই ফুট ওভারব্রিজ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশের ভবেরচর, জামালদীও চরবাউশিয়া কবুতর  পয়েন্ট যেন সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত চিহ্নিত এলাকা তথা এক মরণ ফাঁদ স্থানীয়দের কাছে।

প্রায় প্রতিনিয়তই মহাসড়কের উল্লিখিত এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় কখনো ঘটছে প্রাণহানি বা কখনো মানুষ চিরপঙ্গুত্ব বরণ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের উল্লিখিত এলাকায় দ্বিতীয় মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু খুলে দেওয়ার পর থেকেই সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্য-নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতু খুলে দেয়ার পর দিন ২৬ মে নিষ্পাপ শিশু মাহিমার প্রাণ কেড়ে নিল কাভার্ডভ্যান। 

দুই দিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করলেন মানুষের জীবন বাঁচানো দেশজুড়ে আলোচিত ও প্রশংসিত  পুলিশ কনস্টবল পারভেজ।

মহাসড়কের গজারিয়া অংশে পথচারীদের দুর্ঘটনা এড়াতে হলে জামালদী, ভবেরচর ও চরবাউশিয়া পাখি পয়েন্ট এলাকায় ফুট ওভারব্রীজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবী।

কিন্তু মহাসড়কে কেন এই হতাহতের মিছিল? 
গজারিয়া থানার ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর মধ্যবর্তী প্রায় ১৩ কিলোমিটার গজারিয়া অংশে রয়েছে ১৩ ব্লাক স্পট বা অতি দুর্ঘটনা প্রবণ স্থান। ব্লাক স্পটগুলো হাইওয়ে পুলিশ চিহ্নিত করলেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।

একটু লক্ষ্য করলেই প্রতীয়মান হয় যে, চিহ্নিত ব্লাক স্পটগুলোতেই এসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এবং নির্দিষ্ট কিছু কারণে।

মহাসড়কের অনতিদূরের স্কুল-কলেজ ও মিল কারখানাগুলোর সামনে অনেক স্থানেই ওভার ব্রিজ ও স্পিড ব্রেকার না থাকায় দ্রুতগামী যানবাহন তাদের গতিরোধ করে না, যার ফলে ঝড়ে যায় তাজা প্রাণ। তাছাড়া যানবাহনগুলো বেপরোয়াভাবে চালানোও এসব সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের তিনটি জনবহুল ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হলো ভবেরচর, জামালদী চরবাউশিয়া পাখি পয়েন্ট বাস স্ট্যান্ড। অত্যন্ত ব্যস্ততম এই তিনটি স্থানে দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষের যাতায়াত।

এছাড়াও মহাসড়কের উভয় দিকে রয়েছে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, হাসপাতাল, শপিংমল, ব্যাংক বীমাসহ অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার ফলে স্থানীয়দের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে হলেও প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে অত্যন্ত ব্যস্ত এই মহাসড়কটি।
শুধু তাই নয়, ঢাকায় যেতে কিংবা ঢাকা থেকে ফিরতে যানবাহন থেকে নেমেই মহাসড়ক পারাপার হয়ে যেতে হয় নিজ গন্তব্যে। যার ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। অকালে ঝরে যাচ্ছে মানুষের অমূল্য তাজা প্রাণ। কেউ বা আবার পঙ্গুত্ব বরণ করে জীবনযাপন করছে এই মরণ ফাঁদে।

প্রতিনিয়ত উল্লিখত স্থানগুলো হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে আশেপাশের প্রায় ২৫-৩০টি গ্রামের শ্রমজীবি মানুষের। 

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে স্কুল কলেজগামী  শিক্ষার্থীরা। এছারাও চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমীকসহ অশংখ্য শিশু ও নারী-পুরুষ। সম্প্রতি ২৫ মে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অংশের দ্বিতীয় মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু উম্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। 

গজারিয়ায় ১৩ ব্লাক স্পট চিহ্ন, নেই ফুট ওভারব্রিজ

গজারিয়ায় ১৩ ব্লাক স্পট চিহ্ন, নেই ফুট ওভারব্রিজ

ফলে গজারিয়ার জামালদী ও চরবাউশিয়া বাসষ্ট্যান্ড অংশটুকু প্রায় আট লেনের চেয়েও প্রশস্ত। কিন্তু এই প্রশস্ত অংশে নেই কোন রোড ডিভাইডার বা আইল্যান্ড, এমনকি নেই কোন পথচারীদের রাস্তা পারাপারের নূন্যতম নিরাপত্তার জেব্রাক্রসিং। ফলে সেতু উম্মুক্তের স্বল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় পথচারী এক শিশু, দুইদিন পর ২৭ মে জামালদী বাসস্ট্যান্ডে দায়িত্বপালনরত অবস্থায় একটি বেপরোয়া কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় এক পা হারিয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন সাহসী পুলিশ কনষ্টেবল পারভেজ মিয়া। যিনি সাহসীকতার সাথে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি অংশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে যাওয়া একটি বাস থেকে ২০ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে পেয়েছিলেন পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পদক।

মহাসড়কের উল্লিখিত অংশ পারাপার সত্যিকার অর্থেই যেন এক আতঙ্ক স্থানীয় মানুষের কাছে। স্বাভাবিক ভাবেই সেতু উম্মুক্তের পর সড়ক দুর্ঘটনার আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। ভূক্তভোগীদের মতে, দ্বিতীয় সেতু উম্মুক্ত করা যতটা গুরত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ জামালদী,ভবেরচর ও চরবাউশিয়া বাসস্ট্যান্ডে ফুট ওভারব্রিজ স্থাপন করা। তা না হলে দিনদিন বেড়েই চলবে  সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব বরণের মিছিল । 

পথচারী ওযাত্রীদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা বিবেচনা করে উপরোক্ত সমস্যা সমাধান ও দুর্ঘটনা নিরসনে অতি দ্রুত ভবেরচর,জামালীদ ও চরবাউশিয়া কবুতর পয়েন্ট বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ফুট ওভারব্রীজ নির্মাণের দাবী  জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে  এলাকাবাসী।

গজারিয়া থানার ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশের টি আই(ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) মো: জহিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পথচারীদের সচেতন করার কাজসহ বিভিন্ন পদক্ষেদ গ্রহন করা হচ্ছে।

এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft