For English Version
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
হোম সারাদেশ

ছয় বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাঙছে নদী, কাঁদছে অসহায় গ্রামবাসী

Published : Tuesday, 11 June, 2019 at 5:29 PM Count : 159

নয় বছর ধরেই ভাঙছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রাম দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদী। ভাঙন প্রতিরোধে গত বছরে ১৮ জুলাই পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুইটি প্যাকেজে প্রকল্প বরাদ্ধ হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ১২ মাসে বিলীন হয়েছে ৪০টি পরিবারের বসতভিটা।

ঘরহারা এ মানুষগুলো এখন অসহায়। তিন বছরে দেড় শতাধিক একর ফসলি জমি ও বাগান নদীগর্ভে চলে গেছে। ভূমিহীন হয়েছে প্রায় ৫০০ পরিবার। মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে নদীর দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ জনপদ ও হাজার একর ফসলি জমি এবং আধা কিলোমিটার রত্ব মোল্লার হাট বাজারের ছোট-বড় প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ী।

সোমবার সকালে সরেজমিনে এলাকায় গেলে কয়েকজন বাসিন্দারা জানান, ২০১৪ সালের ২৯ মে পানি সম্পাদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এ ভাঙন পরিদর্শনে আসেন। পরে পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) মাঠে এক সভায় মেঘনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। কিন্তু ছয় বছর পার হলেও মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।

চরকাছিয়া গ্রামের মফিজ মাল, আব্দুর রব মোল্লা ও মুনছুর নেপাল তাদের শেষ সম্বল তিনটি বসতঘর ও দুটি দোকান গত ২৯ নভেম্বর মেঘনা নদীতে বিলীন হয়েছে। তাঁরা বলেন, নদীতে মাছ ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোই চলছিল তাঁদের সংসার। কিন্তু সব হারিয়ে তাদের মত বহু পরিবার এখন নিঃস্ব। তাদের অনেকেই এখন অন্যের জমিতে ও বেড়িবাঁধের পাশে পলিথিন মুড়িয়ে ঘর তুলে থাকছেন।

জয়নাল মাঝি বলেন, নদী থেকে ৩০-৪০ ফুট দূরে পানির ঘাটে আমার একটি চা দোকান ছিল। ১৫ জানুয়ারি সকালে গিয়ে দেখি দোকানটি আর নেই। প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামালসহ নদীতে তলিয়ে গেছে।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ছালেহ মিন্টু ফরাজী জানান, চরকাছিয়া গ্রামের মুনছুর নেপাল, সুলতান মাঝি, আলী আজগর, মতিন ভূঁইয়া, নাছির ভূঁইয়া, শাহ আলম ব্যাপারীসহ ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ছয় বছর নদীতে তলিয়ে গেছে।বর্তমানে ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে দুলাল মোল্লা, খাজা হাওলাদার, রোজ উদ্দিন হাওলাদার, ইমাম হোসেনসহ ৫০টি পরিবারের বসতভিটা। ছয় বছরে ভূমিহীন হয়েছে কমপক্ষে ৫০০ পরিবার।

গত চার বছরে শতাধিক একর ফসলি জমি ও বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন হুমকিতে আছে ৫০০ পরিবারের বসতভিটা ও জমি।

দক্ষিণ চরবংশী ইউপির সমাজ-সেবক মনির হোসেন মোল্লা বলেন, সাবেক সাংসদ জাতীয় পার্টির নেতা মোহাম্মদ নোমান ও সরকারের অনেক কর্মকর্তা সরেজমিনে নদীভাঙনের চিত্র দেখেছেন। শুনেছি মেঘা প্রকল্প হিসাবে ৫৭ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নদীর আধাকিলোমিটার দূরত্ব মোল্লাহাট বাজারের প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ী নদী ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুসা মোবাইল ফোনে জানান, রায়পুর থেকে সদর উপজেলা টুমচর গ্রাম পর্যন্ত ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধের জন্য কয়েক মাস আগে প্রধান কার্যালয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে দু’প্যাকেজে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আরো কিছু কাজ বাকী রয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শুরু করব আশা করছি। 

এমআরআইকে/এইচএস



« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft