For English Version
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
হোম সারাদেশ

সিরাজগঞ্জে ভারী যানবাহনে ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক, বাড়ছে জনভোগান্তি

Published : Saturday, 8 June, 2019 at 6:50 PM Count : 117

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী জিসি-নলকা-ফুলজোড় সাত কিলোমিটার সড়কের বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ওই সড়কটি চারকোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হলেও এটি এখন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, একই অর্থবছরে দেড়কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত করা চাঁদপুর-ভাতহাড়িয়া হাট সড়কটি। বছর যেতে না যেতেই সড়কটির বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে বেহাল অবস্থায় চলাচলে প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নির্মাণ করা একই উপজেলার শিমলা আরএইচডি-রানীরহাট সড়ক, ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়-ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সড়ক, ভুইয়াগাঁতী-ধুবিল সড়ক, ধুবিল-আমসড়া সড়ক ও ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নিমগাছী-সলঙ্গা সড়কসহ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অর্ধশতাধিক পাকা সড়ক এখন বেহাল অবস্থায়। শুধু রায়গঞ্জ উপজেলায় নয়, সিরাজগঞ্জ সদর, তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোরও একই অবস্থা।

সম্প্রতি সরেজমিন জেলার রায়গঞ্জের পাঙ্গাসী, ধুবিল, নলকা, ধামাইনগর, সোনাখাড়া, ভুইয়াগাতী-নিমগাছী সড়ক, উল্লাপাড়ার সলঙ্গা, রামকৃষ্ণপুর ও হাটিকুমরুল, এনায়েতপুর থানা, শাহজাদপুরের খুকনী সড়ক এবং তাড়াশের মাধাইনগর, নওগাঁ, দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঝ খান দিয়ে তৈরী সড়কের খানাখন্দ ও ভাঙ্গাচোড়ার নানা চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিন দেখা যায়, নদী-জলাশয়ের উত্তোলিত বালু, পুকুর খনন ও জমি কাটার মাটি এবং ভাটার ইট পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ভারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণেই ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীণ সড়কগুলো। এসব বালু, মাটি ও ইট পরিবহন কাজে ১৫ থেকে ২০ টন ওজনের ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে এই সড়কগুলোতে।

রায়গঞ্জের নলকা গ্রামের কৃষক রজব আলী, তাড়াশ উপজেলার গুড়পিপুল গ্রামের আবু মুসা, সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যমুনা, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগর, ফুলজোড়, ইছামতিসহ বিভিন্ন নদী ও জলাশয় থেকে বৈধ-অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং শস্য ভান্ডার খ্যাত এই এলাকাগুলোতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এ অঞ্চলে বালু ও মাটি বিক্রির যেন ধুম পড়েছে। উত্তোলিত বালু ও মাটি স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টন ওজনের ড্রাম ট্রাক। আর ট্রাকে বালু উত্তোলন এবং মাটি খননে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী ভারী বেকো মেশিন। বালু ও মাটি স্থানান্তরের জন্য ১০ থেকে ২০ টন ওজনের ড্রাম ট্রাক ব্যবহারের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভারী ওজনের বেকো মেশিন চলাচলের কারণে ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীণ পাকা, অর্ধপাকা ও কাঁচা এই সকল সড়ক।

অপরদিকে, জেলায় দেড় শতাধিক বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার মাটি এবং ইট সরবরাহ করা হচ্ছে এসব পথ দিয়েই। এতে চাপ পড়ছে গ্রামীণ সড়কগুলোর ওপর। এ কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা, ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীণ পরিবেশ ও বাড়ছে জনদুর্ভোগ অপরদিকে বাড়ছে সংস্কার ব্যয়।

এনায়েতপুরের হানিফ আলী বলেন, গ্রামের মধ্য দিয়ে রাস্তা হওয়াতে ভ্যান, সিএনজিতে করে মানুষ সহজে চলাফেরা করতে পারছে। রাতে রোগী পরিবহনে সুবিধা পাচ্ছে। কিন্ত ভারী যানবাহন চলাচল করে রাস্তা নষ্ট হওয়ায় হেটে চলা চলাচল করা যায় না। খুকনী শাহজাদপুর রাস্তাটি অল্পদিনেই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ভ্যান সিএনজি চালকরা ভাড়া বেশী চায়।
 
রায়গঞ্জ উপজেলার নলকার আরশেদ আলী বলেন, গ্রামের এই পাকারাস্তা হওয়ায় সাধারন ও পণ্য বহন সহজ হয়েছে। দিনরাত ভ্যান সিএনজি চলাচল করে। শহরে সহজে চলাচল করা যায়। কিন্ত বালু ও ইটের ট্রাক চলাচল করে এক বছরের মধ্যে রাস্তা নষ্ট হওয়ায় এখন পায়ে হেটে চলাচল করা কঠিন হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, রাস্তা একবার নষ্ট হলে মেরামত হতে অনেক দিন সময় লাগে এই সময় পর্যন্ত ভোগান্তির সীমা থাকে না।

রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, ঢাকা-হাটিকুমরুল মহাসড়কের ফুলজোড় নদীর পাশের রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ।  প্রায় এক বছর আগে এলজিইডি থেকে রাস্তাটি দুইকোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। কিন্তু নদী থেকে উত্তোলিত বালু রাস্তার পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে এবং  বালু পরিবহনের জন্য ভারী ট্রাক ব্যবহার করায় রাস্তাটি একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে জনসাধারনের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ছরোওয়ার লিটন বলেন, ইউনিয়নের বেশিরভাগ সড়কই কাঁচা। টিআর ও কাবিখা এবং কর্মসৃজন প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়ে এসব রাস্তা মেরামত করা হয়। কিন্তু মাটিবাহী বড় বড় ট্রাক এবং ইটভাটার ট্রাক চলাচল করে রাস্তাগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ বিষয়ে দফায় দফায় উপজেলা প্রশাসনের মাসিক মিটিংয়ে অবগত করা হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, গ্রামের রাস্তাগুলো খুব একটা চওড়া এবং মহাসড়ক গুলোর মতো অতো মজবুত হয়না। আমাদের রাস্তা দিয়ে মালামালসহ সর্বোচ্চ ৯.৭ টন ওজনের যানবাহন চলাচল করার নিয়ম রয়েছে। এরবেশি ওজনের যান চলাচলের নিয়ম নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে নিয়ম ও বিধি-বিধান না মেনেই ভারী যানবাহন চলাচল করে রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি আরও বলেন, এলজিইডি’র তৈরী রাস্তাগুলোর মেয়াদ থাকে সাধারনত চার বছর। কিন্তু অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই  রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। জনভোগান্তি বাড়ছে। রাস্তা গুলো সংস্কারের জন্য আবার তাগিদ দেয়া হচ্ছে কিন্ত আমাদের করনীয় কিছু থাকছে না। তিনি এও বলেন, আবার জন গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনের তাগিদে মেয়াদ শেষের আগেই অধিক ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটির সংস্কারের জন্য প্রকল্প গ্রহন করতে হয় এজন্য বাড়তি অর্থ অপচয় হয় বলেও তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে নানা কারণে আমরা শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারছি না। তবে তিনি কারন উল্লেখ করেননি। গ্রামীণ রাস্তা গুলো রক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এবি/এসআর


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft