For English Version
সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

ধানের লোকসানে দিশেহারা কৃষক

Published : Saturday, 18 May, 2019 at 2:55 PM Count : 73


উত্তরবঙ্গের ধানের বৃহৎ মোকাম সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ হাজার এবং হাটের দিন প্রতি সোম ও বুধবার ১০-১৫ হাজার মণ ধান আমদানি হচ্ছে। তবে ধানের দরপতনের কারণে কৃষকের মধ্যে চলছে হাহাকার।

সর্বস্ব ব্যয় করে ফলানো ধান নিয়ে কৃষককে গুনতে হচ্ছে লোকসান। অনেক কৃষক দাম না পেয়ে হা-হুতাশ করছেন।

সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও কৃষককে তা বিক্রি করতে হচ্ছে ক্ষেত্র বিশেষে ৫শ ২০ থেকে ৬শ ৫০ টাকা দরে। এর ফলে প্রতি মণে ৩শ থেকে ৫শ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন এ মোকামে ৬ হাজার মণ ধান কেনা-বেচা হয়। সে হিসাবে প্রতিদিনই প্রায় ৫০ লাখ টাকা লোকসান গুনছেন কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও চলনবিল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত জেলার তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার গুরুদাসপুর, সিংড়া, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর, বগুড়ার শেরপুর ও নন্দিগ্রাম উপজেলা থেকে কৃষকরা ধান নিয়ে আসছেন এখানে। এখান থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করে মিল মালিকরা। প্রতিদিন ধানের চাহিদার ওপর নির্ভর করে ধানের বাজার মূল্য। এর ফলে বাজারের দামের ওপর নির্ভর করে কৃষককে ধান বিক্রি করতে হয়, কৃষকের দামের ওপর নয়। এ কারণে ধান চাষ করতে যা খরচ হয়, ধান বিক্রি করে তার অর্ধেকও উঠে না।

জেলার ধানের বড় রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ও পাঙ্গাসী এবং বেলকুচি উপজেলার শমেসপুর হাট ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।

সরকার সরাসরি হাটে ও মোকামে এসে ধান ক্রয় করলে কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবে বলে দাবি তাদের।

রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রক্ষগাছা ইউনিয়নের সুবর্ণগাতী গ্রামের কৃষক ফটিক চাঁন বলেন, এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম প্রতি বিঘায় ১৬-২০ মণ হারে ফলন হয়েছে। খরচ হয়েছে প্রতি বিঘায় ১০-১২ হাজার টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে ৫শ ২০ থেকে ৬শ ৫০ টাকা দামে ধান বিক্রি করেছি পাইকারদের কাছে। শুনেছি সরকার প্রতি মণ ধানের দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৪০ টাকা। আমরাতো সেই দামে বিক্রি করতে পারছি না। মোকামে এসে সরাসরি ধান কিনলে আমরা সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারতাম। এতে আমরা লাভবান হতাম। এখন যে দামে ধান বিক্রি করছি সরকারের দেয়া দামের হিসাবে গড়ে প্রায় ৩-৪শ টাকা করে মণ প্রতি লোকসান হচ্ছে। অর্থাৎ বিঘা প্রতি ধান চাষ করতে ১২-১৩ হাজার টাকা খরচ হলেও ধান বিক্রি করে কৃষকের ঘরে আসছে ৭-৮ হাজার টাকা।

সলঙ্গা হাটে কথা হয় ছোট সলঙ্গা গ্রামের কৃষক কিসমত ও শাজাহান আলীর সঙ্গে। তারা জানান, তারা প্রতিজন ৫ বিঘা করে জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন। ধান রোপণ, নিড়ানী, সেঁচ, সার, কিটনাশক ও কাটাই-মাড়াইসহ প্রতি বিঘায় খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ফলন হয় ১৫-১৮ মণ হারে। এখন বাজারে ধান ৫শ ২০ থেকে ৬শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ধান কাটার প্রতিজন শ্রমিকের মূল্য ৬শ টাকা অর্থাৎ এক মন ধানের দাম দিয়ে একজন শ্রমিকের মজুরী পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া ধান বিক্রি এবং খরচের সঙ্গে হিসাব করে প্রতি বিঘায় ৪-৬ হাজার টাকা তাদের লোকসান দিতে হচ্ছে। যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে এতে করে তাদের কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।

তারাও দাবি করেন, সরকার যেন সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান ক্রয় করেন।

সলঙ্গা হাটের ব্যাপারী আব্দুল মান্নান বলেন, কাঁচা ভেজা ধান ৫শ ৩০ থেকে ৫শ ৫০ এবং শুকনা ৬শ ৫০ থেকে ৭শ টাকায় ক্রয় করছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি মণ ধানের দাম দেড় থেকে ২শ টাকা কম বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যে দামে কৃষক ধান বিক্রি করছে এতে করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারবে না। ফলে ব্যাপক লোকসানে পড়বে কৃষক। গড়ে প্রতিদিন এ মোকামে ৬ হাজার মণ ধান কেনা-বেচা হয়। এতে করে প্রতিদিনই প্রায় ৫০ লাখ টাকা লোকসান গুনছেন কৃষকরা।

জেলা চাতাল কল মালিক সমিতির সভাপতি মোতালেব হোসেন বলেন, এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বিদেশ থেকে চাল আমদানি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের ক্রয়কৃত চালের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হবে। এছাড়া মোকামে, হাটে হাটে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালুর দাবিও জানান তিনি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলায় খাদ্য গুদাম থাকায় মোকামে ক্রয়কেন্দ্র খোলার উপযোগিতা এখন নেই। কৃষক সরাসরি গুদামে ধান বিক্রি করলে ন্যায্য মূল্য পাবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর ১ লাখ ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ২৬ টাকা কেজি দরে মোট ৫ হাজার ৮৮৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপিরচালক মো. হাবিবুল হক বলেন, আমাদের কৃষকদের কাটাই-মাড়াই করতে ব্যাপক খরচ হয়। এ ক্ষেত্রে যদি আমরা  হারভেষ্টার মেশিন ব্যবহার করতে পারি তাহলে খরচ অনেক কমে যাবে। কৃষকদের এ বাবদ ৩-৪ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে।

তিনি আরও বলেন, হারভেষ্টার মেশিনে এক বিঘা জমি ধান কাটাই-মাড়াই করতে ৩শ টাকার মতো খরচ পড়বে। কৃষকদের এ ক্ষেত্রে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। ধানসহ কৃষি পণ্য যেন লাভজনক হয় এ জন্য কৃষকদের মধ্যে উন্নতমানের বীজ ও হারভেষ্টার মেশিনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের চিন্তা ভাবনা করছে সরকার।

-এবি/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft