For English Version
সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯
হোম বেড়িয়ে আসুন

বিলুপ্তির পথে মান্দার সোনাবিবির মসজিদ

Published : Friday, 19 April, 2019 at 3:06 PM Count : 231

নওগাঁর সদর উপজেলা থেকে ৩৫ কি. মি. পশ্চিমে মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক কুশুম্বা মসজিদ। সেখান থেকে উত্তর-পশ্চিমে ৫শ গজ দুরে কুশুম্বা গ্রামে সোনাদিঘির দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত সোনাবিবির মসজিদ। যা সুলতানী আমলের একটি প্রত্নতত্ব নিদর্শন।

৬ ফিট পুরুত্বের দেয়াল বিশিষ্ট ও ৩৬ ফিট দৈর্ঘ্য এবং ১৬ ফিট প্রস্থ মসজিদটির দক্ষিণ-পশ্চিমের ভিটাগুলোতে বিধ্বস্ত পাকা বাড়ির ধ্বংসাবশেষ, বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো ছিটানো ইট ও কংকরের প্রাচুর্য্যতা দেখে সহজেই অনুমান করা যায় যে, একটি রাজকীয় প্রশাসনিক স্থান তথা আন্তঃপ্রাদেশিক অঞ্চল থাকায় এই স্থান অতীতে নগর সভ্যতায় উন্নত ছিল। সোনাবিবির মসজিদের পাশে গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর বেগম কুশুম বিবির বাসস্থান ছিল মর্মে কিংবদন্তি প্রচলিত আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধ্বংসপ্রাপ্ত সোনাবিবির মসজিদের চার কোনের ৩ পিলার এবং কিছু অংশ আজো কালের সাক্ষী হয়ে তার অতীত অস্তিত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে। ২০০৪ সালে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপরেই নির্মিত হয়েছে কুশুম্বা সোনা মসজিদ হাফেজিয়া মাদ্রাসা। আর এটি তৈরী করতে গিয়ে নষ্ট করা হয়েছে মসজিদটির প্রাচীন কিছু নিদর্শন। মসজিদে প্রবেশ দরজার একটি পাথরের চৌকাঠ এখনো দাঁড়িয়ে থাকলেও অন্য অংশ ধ্বংশপ্রাপ্ত ইট-পাথরের সঙ্গে পূর্ব দিকে পড়ে আছে।

শামস উদ্দীন আহম্মদ রচিত ও রাজশাহীর বরেন্দ্র যাদুঘর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত “ওঠ” গ্রন্থের ১৫৫ পৃষ্ঠায় লিখিত একটি তথ্য মতে, রাজশাহী জেলা পরিষদের তৎকালীন তত্বাবধায়ক সুরেন্দ্র মোহন চৌধুরী সোনাদিঘির দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত সোনাবিবির মসজিদের ধ্বংস্তুপ থেকে একটি শিলালিপি আবিষ্কার করেন। এতে ধ্বংসপ্রাপ্ত সোনাবিবির মসজিদ ১৪৯৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর মোতাবেক আরবী ৯০৪ হিজরীর ১৩ই জমাদিউল আওয়াল তারিখে নির্মিত হয়েছিল।  

‘রিয়াজ-উস-সালাতীন’ থেকে সুখময় মুখোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন, ‘হোসেন শাহ তাঁর পিতা আশরাফ আল হোসেন ও ভ্রাতা ইউসুফের সঙ্গে সুদুর তুর্কিস্থানের “তারমুজ” শহর থেকে রাঢ়ের চাঁদপুর মৌজায় বসতি স্থাপন করেন। সেখানকার কাজী তাদের দুই ভাইকে শিক্ষা দেন এবং তারা উচ্চ বংশ মর্যাদার কথা জেনে নিজের কন্যার সঙ্গে বিবাহ দেন।’ এরপর আলাউদ্দিন হোসেন শাহ গৌড়ের সুলতান হন। কিন্তু এরপরের ঘটনা আরও চমক প্রদ। এই কাহিনীগুলো ইতিহাসে লিপিবদ্ধ নেই, তবে প্রচলিত। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর বেগম কুশুম্বা বনবাসে এলে এই অঞ্চল পুনরায় নগর সভ্যতায় উন্নত হয়। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ কুশুম্বা অঞ্চলকে একটি প্রাদেশিক মর্যাদায় উন্নীত করেন। এই প্রদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন (সম্ভবত) রামনদলকে। যিনি ৯০৪ হিজরীতে সোনাদিঘির দক্ষিণ পাড়ে সোনাবিবির মসজিদ নির্মাণ করেন।  

লেখক আশরাফুল ইসলাম পলাশ কিছু তথ্য, উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, “কুশুম বিবি এবং সোনাবিবি” এ দু'জনার সম্পর্কে সঠিক কোন বিবরণ লিপিবদ্ধ না থাকলেও বিতর্ক আছে। তবে কুশুম বিবি এবং সোনাবিবি নামে যে কেউ সুদূর অতীতে ছিলেন তা ধারণা করা যায়। কারণ অনেকেই মনে করেন কুসুম বিবির মৌজার নাম কুশুম্বা হয়েছে। জনশ্রুতি আছে, গৌড়ের বেগম কুশুম বিবি নির্বাসিতা হয়ে মান্দা এলাকায় বিপুল ধনরত্নসহ বনবাসে আসেন। তিনি কুশুম্বার অদূরে ধনতলা নামক স্থানে তাঁবু গাড়েন। এর অল্পদিন পরে সোনার মৃত্যু হয়।

মান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, আমি যতটুকু বিভিন্ন বই পুস্তক ও সরজমিনে গিয়ে জানতে পেরেছি, কিংবদন্তি আছে, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ’র “সোনা” নামের আদরের একটি কন্যা ছিল। অকালে তার প্রয়াণ হলে মানসিক ভাবে সুলতান ভেঙ্গে পরেন। এ সময় তার এক কন্যার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণের পরামর্শ দেন। আর সেই পরামশের ফলই নাকি ‘সোনা মসজিদ’। যা সুলতানী আমলের একটি প্রত্নতত্ব নিদর্শন হতে পারে। আমি ইতিমধ্যে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেছি। যাতে ঐতিহাসিক স্থানটি সংরক্ষণের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft