For English Version
শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

অস্থিরতা পিছু ছাড়ছে না রাজশাহী পাটকলের

Published : Friday, 12 April, 2019 at 10:30 PM Count : 181

রাজশাহীর সরকারি পাটকলের উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নেমেছে। আবার যেসব পাটজাত পণ্য উৎপাদন হয়ে আছে সেগুলোও বিক্রি হচ্ছে না। এ কারণে পাটকলের শ্রমিকদেরও বেতন-ভাতা হচ্ছে না। এ অবস্থায় পাটকলে অস্থিরতা চলছেই। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শ্রমিকরা আবার আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বকেয়া বেতন ভাতাসহ ৯ দফা দাবিতে গত ৩১ মার্চ থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন রাজশাহী পাটকলের শ্রমিকরা। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ, সমাবেশ, লাঠিমিছিল ও ধর্মঘট পালন করেন। এরপর তারা কাজে যোগ দেন। কিন্তু শ্রমিকদের একটি দাবিও পূরণ হয়নি। তাই আবার আন্দোলনের কথা ভাবছেন শ্রমিকরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী পাটকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা গত তিন মাস ধরে বেতন পাইনি। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা বৈশাখি ভাতাও পাই না। এসবের দাবিতে আমরা দীর্ঘ দিন ধরেই আন্দোলন করছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আমাদের আরও বড় ধরনের আন্দোলনের কথা ভাবতে হচ্ছে। ১৫ তারিখ থেকে সেটা শুরু হবে।

শ্রমিকরা জানান, সময় মতো পাট না কেনা ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতে অব্যবস্থাপনার কারণে পাটকল কখনও লাভের মুখ দেখে না। উল্টো অতিরিক্ত কর্মকর্তার কারণে এ কারখানকে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি শ্রমিকদের। এখন পাটকলে অন্তত ৪০ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য পড়ে আছে। বিক্রি করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে তাদের বেতন-ভাতা হচ্ছে না। তারা কোনো রকমে জীবন পার করছেন।

পাটকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামিম হোসেন বলেন, প্রতিদিনি পাটকলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ টন। কিন্তু এখন উৎপাদন হচ্ছে ৩ থেকে ৫ টন। তিনি বলেন, পাট সময় মতো কিনতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তাই প্রয়োজনীয় পাট সরবরাহ না থাকার কারণে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। শামিম বলেন, পাটকলে প্রতি টন পাটজাত পণ্যে লোকসান হচ্ছে ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। দৈনিক হিসাবে তা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ টাকার কাছাকাছি। প্রতি মাসেই বাড়েই চলেছে এই লোকসান। এভাবে উৎপাদন চলতে থাকলে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে রাজশাহী পাটকলের প্রকল্প প্রধান প্রকৌশলী জিয়াউল হক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তার অফিসে গেলে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসির) সচিব মুহাম্মদ সালেহউদ্দীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেখান তিনি। সেই চিঠিতে বলা আছে, বিজেএমসির আওতাধীন মিলসমূহের প্রকল্প প্রধান ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারিদেরকে বিজেএমসির পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে মিডিয়াতে (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) যে কোন ধরনের বিবৃতি, সাক্ষাতকার বা বক্তব্য না দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

পাটকলের কর্মকর্তা জিয়াউল হক বক্তব্য না দিলেও তিনি দাবি করেছেন, লোকসানের প্রধান কারণ অতিরিক্ত শ্রমিক মজুরি। প্রতিটন পাটপণ্য উৎপাদনে কেবলই শ্রমিকদের মজুরি বাবদ খরচ হয় ৪৫ হাজার ৫০২ টাকা। এছাড়া প্রতিটন হেসিয়ান পাট কেনায় খরচ হয় ৫৪ হাজার ৪২৭ টাকা। অন্য সরাসরি পণ্যে ৬ হাজার ৯১৫ টাকা এবং বেতন বাবদ ৯ হাজার ৪৮৪ টাকা খরচ হয়। বিশেষ করে শ্রমিক ব্যয় কমানো গেলে কমে আসবে উৎপাদন খরচ।

তবে শ্রমিক নেতা শামিম হোসেন বলেছেন, শ্রমিকদের জন্য পাটকলে লোকসান হয় না। লোকসান হয় কর্মকর্তাদের জন্য। এখানে ৫০ জনের বেশী প্রকৌশলী রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত। শামিম বলেন, পাটকলে এক হাজার ৩৩৬টি শ্রমিকের পদ রয়েছে। সেখানে বর্তমানে কাজ করছেন ৮৩০ জন। এখনো ৫০৬ জন শ্রমিকের পদ শূন্য রয়েছে। কিন্তু কর্মকর্তার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হওয়ায় লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

পাটকলের শ্রমিক নেতা ও স্প্রিং লাইন সরদার মকসেদ আলী বলেন, মৌসুমের শুরুতে পাট কিনলে ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা মণে কেনা যায়। কিন্তু সে পাট পরবর্তীতে পাটকল কর্তৃপক্ষ কেনে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা মণে। মকসেদ বলেন, প্রতি টন হেসিয়ান (চিকন বস্তা) উৎপাদনে খরচ হয় এক লাখ ৩৭ হাজার টাকা। ১৮ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে তা বিক্রি হয় ১ লাখ ১৯ হাজার টাকায়। এদিকে সেকিংয়ে (মোটা বস্তা) ২৭ হাজার টাকা গচ্চা দিতে হয়। ১ লাখ ১১ হাজার টাকায় উৎপাদিত প্রতি টন সেকিং বিক্রি হয় ৮৪ হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে পাটকলে প্রতিদিনই অন্তত ৫ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। বেশি দামে পাট কিনে সময়মতো পণ্য বিক্রি করতে না পারার কারণে এমন লোকসান হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ পবা উপজেলার কাটাখালি-শ্যামপুর এলাকায় স্থাপন করা হয় উত্তরাঞ্চলের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত এ পাটকল। ৪৯ দশমিক ২ একর এলাকাজুড়ে এটি স্থাপন করেন শিল্প উদ্যোক্তা আবদুল গফুর। স্বাধীনতার পর পাটকলটিকে জাতীয়করণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানে চলছে এ পাটকল। এর জের ধরেই পাটকলে চলছে নানা ধরনের অস্থিরতা।

আরএইচএফ/এইচএস


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft